রোগতত্ত্বহৃদরোগ

অল্প বয়সে কেন হার্ট অ্যাটাক হচ্ছে?

অল্প বয়সেই কেন হার্ট অ্যাটাক হয়?

বিশ্বে প্রতিবছর অনেক মানুষ হার্ট অ্যাটাক করে মারা যাচ্ছে। প্রায় সবাই মনে করে থাকেন যে, বয়স্কদের হার্ট অ্যাটাক বেশি হয় বা বয়স হলেই হার্ট অ্যাটাকের ঝুকি থাকে। তবে না এই কথাটি ভুল। বর্তমানে অনেক টিভি অভিনেতারা কম বয়সেই হার্ট অ্যাটাকের কবলে পড়ছেন। আবার অনেক সাধারণ জনগণ ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুকিতে পড়ছেন।

৪০ বছর বয়স হতে না হতেই হার্ট অ্যাটাক দেখে দিচ্ছে প্রবলহারে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, ৫০ বছর বয়স থেকে হার্ট অ্যাটাকের ঝুকি বেড়ে যায়। তবে এখন নানা কারণেই মানুষ হার্ট অ্যাটাকের ঝুকিতে পড়ছেন। ২০-৪০ বছর বয়সী মানুষেরা অনেক বেশি হার্ট অ্যাটাকের সম্মুখীন হচ্ছে।

জন্মগতভাবে হার্টের কোন অসুখ থাকলে, রক্তনালীর সংকোচন বা রক্তনালীর কোন অসুখ থাকলে, জিনগত ত্রুটি হলে কম বয়সেই হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। এসব কারণে হার্ট অ্যাটাক ছাড়াও মানুষ মোটা হয়ে যায়, রক্তে চর্বির পরিমাণ বেড়ে যায়, কম বয়সেই উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিসের শিকার হচ্ছে। ধূমপানের অভ্যাস, মানসিক চাপ অল্প বয়সে হার্ট অ্যাটাকের কারণ হতে পারে। এছাড়া অস্বাস্থ্যকর খাবার, কায়িক পরিশ্রম না করা, রাত জাগা, মদ্যপান করার কারণেও কম বয়সে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।

হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ-

১। বুকে তীব্র ব্যথা

২। দুশ্চিন্তা

৩। বদহজম

৪। অল্প পরিশ্রমেই ক্লান্ত হয়ে যাওয়া

৫। নিশ্বাসে দূর্গন্ধ

৬। বমি বমি ভাব

৭। দৃষ্টিভ্রম

৮। শ্বাসকষ্ট

৯। মাথা ঘোরা

১০। অনিদ্রা

অল্প বয়সে হার্ট অ্যাটাকের কারণ-

১। মাদকাশক্তি

২। দীর্ঘদিন ধরে ভুল খাদ্যাভ্যাস

৩। ডায়াবেটিস

৪। মদ্যপান ও ধূমপান

৫। শরীরচর্চার অভাব

৬। অতিরিক্ত চিন্তা করা

৭। উচ্চ রক্তচাপ

৮। উচ্চমাত্রায় কোলেস্টেরল বেড়ে যাওয়া

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে অল্প বয়সের ছেলে মেয়েদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের ঝুকি বেশি দেখা যাচ্ছে কারণ তাদের লাইফস্টাইলের জন্য। তাদের কম ঘুমের জন্য। আমাদের প্রত্যেকের উচিত কমপক্ষে ৮ ঘণ্টা ঘুমানো।

অতিরিক্ত চিন্তার ফলেও হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। এছাড়া বাইরের খাবার যেমন ফাস্টফুড খেলে ধমনীতে চর্বি জমে যায়। ফলে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।

নিয়মিত যথেষ্ট পরিমাণে শারীরিক পরিশ্রম করতে হবে। হাটার অভ্যাস করতে হবে। এসব কারণ জানা থাকলে সবাই হার্ট অ্যাটাক সম্পর্কে সচেতন হবে।

অল্প বয়সে এসব হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধে আমাদের করণীয়-

১বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় ২০ লাখ মানুষ তামাক ব্যবহারের কারণে হৃদরোগ আক্রান্ত হচ্ছে। প্রতিবছর হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তি ৩০ শতাংশ ধূমপানের কারণে হয়ে থাকে। শ্বাসজনিত রোগে মৃত্যুর ২৪% ধূমপানের কারণে হয়ে থাকে।

২। অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা মানুষের স্বাস্থ্যের পক্ষে খুবই ক্ষতিকর। এজন্য মানসিক দুশ্চিন্তা করা যাবে না। বয়স্কদের থেকে অল্প বয়স্ক লোকেরাই এই মানসিক অবসাদের শিকার হচ্ছে। ফলে অল্প বয়স্কদের মাঝে হার্ট অ্যাটাকের ঝুকি বেড়ে যাচ্ছে।

৩। এশিয়ান পুরুষদের ভুড়ির সঠিক মাপ ৯০ সেন্টিমিটার, নারীদের ৮০ সেন্টিমিটার। ভুড়ি এই মাপের বেশি হয়ে গেলে তাদের জন্য ভয় থাকতে পারে। তাই ভুড়ি বাড়ানো যাবে না।

৪। হার্ট অ্যাটাকের আরেকটি কারণ হচ্ছে বদহজমের সমস্যা বা গ্যাস্টিকের সমস্যা। এসমস্যায় মানুষ শ্বাস নিতে পারে না। ফলে হার্ট অ্যাটাক করতে পারে।

৫। বাড়তি লবণ খাওয়া যাবে না। খাবারে অতিরিক্ত তেল, লবণ, চর্বিযুক্ত খাবার, রেড মিট, কোমল পানীয় বাদ দিতে হবে।

৬। প্রতিদিন অন্ততপক্ষে ২৫-৩০ মিনিট হাটতে হবে। সাতার, ব্যায়াম, জগিং, সাইকেল চালানো ও খেলাধুলার অভ্যাস করতে হবে। অফিসে হেটে যাতায়াত করার অভ্যাস করতে হবে। লিফট ব্যবহার না করে সিড়ি ব্যবহার করাই ভালো।

৭। রাত জেগে থাকা যাবেনা। সুস্থ হার্টের জন্য প্রতিদিন অন্ততপক্ষে ৮ ঘণ্টা ঘুমাতে হবে। অতিরিক্ত চাপ নেওয়া যাবে না। পরিবারের সাথে হেলদি সময় কাটাতে হবে।

৮। নিয়মিত রক্তচাপ মাপতে হবে। বছরে অন্ততপক্ষে একবার সুগার ও চর্বি চেক করতে হবে।

আরো পড়ুনঃ

ডায়াবেটিস রোগীরা কোন ফল খেতে পারবে ও কোন ফল খেতে পারবে না?

ডাস্ট এলার্জি থেকে মুক্তির ঘরোয়া উপায়

একই তেল বারবার ব্যবহার করা কতোটা ভয়াবহ?

নন-স্টিকের পাত্রে রান্না করা খাবার খেলে কি হয় দেখুন?

ভিটামিন সি গ্রহণে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট প্রতিরোধ করা সম্ভব।

Related Articles

Back to top button
error: Content is protected !!

Adblock Detected

Please turn off your Adblocker.