গৃহসজ্জালাইফস্টাইল

আপনার শোবার ঘর কেমন হবে?

শোবার ঘর কেমন হবে?

আমরা যখনই ঘর সাজাতে শুরু করি আমাদের প্রত্যেকেরই একটা আশা থাকে যেন ঘরে যেই আসুক না কেন সবাই যেন ঘরটি দেখে ভালো বলে। ঘরটিতে ঢুকেই যেন সবাই মুগ্ধ হয়ে যায়। এসব ভাবনা চিন্তা মানুষ বেশি করে থাকে বসার ঘর সাজানোর সময়। কারণ বসার ঘরেই সবাই এসে প্রথমে প্রবেশ করে। বসার ঘর সাজানোর থেকে থাকার ঘর, বেড্রুম, কিচেন গুছানোতে মানুষ একটু কম গুরুত্ব দিয়ে থাকে।

কিন্তু মানুষের সারা দিনের ক্লান্তি শেষে মানুষ তার নিজের বেডরুমে শুয়েই পরম শান্তি অনুভব করে। তাই বেডরুম সাজানোর দিকেও আমাদের নজর দিতে হয়। বেডরুম আমাদের মূলত রেস্ট নেওয়ার একটা উত্তম জায়গা। তাই বেডরুমের সাজসজ্জা ও হওয়া চাই মনের মতো। যেখানে গেলেই শান্তি খুজে পাওয়া যায়।

বেডরুমে ঢুকলেই যেন একটা মানুষের সারাদিনের ক্লান্তি মুছে যায়। তাই বেডরুমের সাজে আভিজাত্য ও শৌখিনতা না থেকে যেন শান্তিটাই থাকে ও শান্তি, আরামটাই প্রাধান্য পায়। এখানকার সাজসজ্জা ও হওয়া উচিত আকর্ষণীয়।

শোবার ঘরের রং নির্বাচন করতে হবে খুব মাথা খাটিয়ে। বেডরুমের দেয়াল প্যাস্টেল শেডের হতে পারে। ঘরের রঙয়ের সাথে মিল রেখে ঘরের একটি দেয়াল টেক্সচারড পেইন্টিং করা যেতে পারে। ঘরের রং বদলানো যদি ঝামেলার মনে হয়ে তাহলে ঘরে ওয়ালপেপার ব্যবহার করা যেতে পারে। গ্রাফিক্যাল বা থ্রি ডি জাতীয় ওয়াল পেপার বাছাই না করাই উচিত। দেয়ালের সাথে মিল রেখে হালকা কোন ওয়ালপেপার বাছাই করা উচিত।

আবার জিওমেট্রিক বা স্ট্রাইপ কোন ওয়ালপেপার ও লাগানো যেতে পারে। চার দেয়ালে ওয়াল পেপার না গালিয়ে খাটের মাথার দিকে যেদিকে শোয়া হয় সেদিকে একটি ওয়াল পেপার লাগানো যেতে পারে।

নতুন ফার্নিচার দিয়েই যে ঘর সাজাতে হবে তা নয়, তবে ঘরে সবসময় ছোট খাটো কোন পরিবর্তন করতে পারেন। বেডরুমের মূল আসবাব হচ্ছে খাট। খাট একটি বেডরুমকে নিয়ন্ত্রণ করে। যাদের টিভি দেখার অভ্যাস আছে তাদের খাটের সামনে টিভি রাখতে হবে।

খাটের পাশে একটি রকিং চেয়ার থাকলে বেশ আরাম করে বসা যায়। যাদের বই পড়ার অভ্যাস আছে ও যাদের ঘর তূলনামূলক বড় তাদের ক্ষেত্রে ঘরের মাঝে একটি বুকশেলফ ও রাখা যেতে পারে। বেডরুমে একটি বেড সাইড টেবিল রাখা খুবই জরুরি। বেডসাইড টেবিল একটি ঘরের চেহারা পরিবর্তন করে দিতে পারে। বেডসাইড টেবিলে ল্যাম্পসেড, টেলিফোন,ফুলদানি ও শোপিস রাখতে পারেন।

ঘরের রঙ ও সাজের সাথে মিল রেখে বেড কভার, পিলো কভার ও বেড শিটের ব্যবহার করলে বেশ ভালো লাগে দেখতে। ঋতুর সাথে মিলিয়ে এসব বাছাই করা উচিত। শীতকালে একটু গাঢ় রঙয়ের বেডশিট, বেডকভার ও পিলো কভার ব্যাবহার করা উচিত। গরমে হালকা প্যাস্টেল রঙয়ের ব্যবহার করা উচিত ও বসন্তে ফ্লোরাল প্রিন্টের ব্যবহার করা উচিত।

শোবার ঘর

দেয়ালের সাথে আটকানো আসবাবপত্র ঘরের জায়গা বাচায় ও ঘর তখন বড় দেখায়। তাই দেয়ালের সাথে লাগানো ওপেন শেলভস ব্যবহার করা যেতে পারে। দেয়ালের সাথে বইয়ের তাক ও করা যেতে পারে। সেখানে বই ও শোপিস দুইটাই রাখা যেতে পারে। সেসব তাকে ছোট ছোট সুন্দর দেখতে কোন গাছ ও রাখতে পারেন। শোপিসের সাথে ছোট স্পটলাইট লাগিয়ে দিলে সেগুলো অনেক হাইলাইট হয়ে যায়। যাদের গান শোনার খুব ইচ্চছা তারা শোবার ঘরে মিউজিক সিস্টেম ও রাখতে পারেন।

বেডরুমে নিকট আত্নীয়রা আসলে বসে গল্প গুজব করে, আড্ডা দেয়। তাই ঘরে যদি জায়গা থাকে তাহলে খাটের সাথে আরো একটা ছোট সুন্দর বসার জায়গা ও করা যেতে পারে। ডাবল সোফা না রাখার জায়গা থাকলে একটা সিঙ্গেল সোফা রাখতে পারেন ঘরে।

বেডরুমে একটি বড় আলোর পাশাপাশি কিছু হালকা আলো যেমন- আপ লাইট বা পিন লাইট ও ব্যবহার করা যেতে পারে। ঘরের মাঝে একটি সুন্দর কার্পেট রাখা যেতে পারে। ঘরের অন্য কোথাও না রেখে বেডের সামনে একটি কার্পেট রাখাই যেতে পারে।

ঘরে একটু খানি সবুজ রাখতে চাইলে ঘরে একটি কর্নারে সুন্দর করে গাছ সাজিয়ে রাখতে পারেন। সবুজ রং ঘরের প্রাণ ধরে রাখে। ঘরের আয়তন অনুযায়ী একটি গাছ রাখাই যেতে পারে।

আরো পড়ুনঃ

বর্ষায় ঘর আসবাবপত্রের যত্ন

ঘর হোক রঙ্গিন

আপনার ছোট্ট সোনামণির ঘরটি কেমন হবে?

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
error: Content is protected !!

Adblock Detected

Please turn off your Adblocker.