পুষ্টি পরামর্শ

আমলকির পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা

আমলকির পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা

আমলকি একটি খুবই উপকারী ও ভেষজ ফল। এটি ওষধি গুণে ভরপুর একটি দেশীয় ফল। দেশীয় ফল হিসাবে আমলকির পরিচিতি সারা বাংলাদেশ জুড়ে। এটি দামে সস্তা ও সহজলভ্য। এতে প্রচুর উপকারী গুণাগুণ রয়েছে।

বাংলাদেশে আগে প্রায় সব বাড়িতেই আমলকি গাছ দেখা যেত। কিন্তু বর্তমানে আমলকি গাছের সংখ্যা কিছুটা কমে গেছে। আমলকি গাছের ফল ও পাতা উভয়ই ওষধি কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। বিভিন্ন ধরনের অসুখ সারাতে আমলকি ব্যবহার করা হয়। আমলকি দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

আমলকিতে অন্যান্য ফলের তুলনায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি পাওয়া যায়। আমলকিতে ক্যান্সার প্রতিরোধ করার মতো ক্ষমতা থাকে। বাংলাদেশের প্রায় সব জায়গাতেই আমলকি ফল পাওয়া যায়। আমলকি নিয়মিত খেলে মুখের রুচি বেড়ে যায়। আয়ুর্বেদিক বিভিন্ন ওষুধ বানাতে আমলকির নির্যাস ব্যবহার করা হয়।

আমলকি-

আমলকির বৈজ্ঞানিক নাম ( Phyllanthus emblica )। আমলকির ইংরেজি নাম ( Amla )। আমলকি দেখতে হালকা সবুজ ও হলুদ রঙয়ের গোলাকৃতি হয়ে থাকে। আমলকি একটি ভেষজ ফল যা ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধ করে। আমলকি গাছের ছাল দিয়েও ওষুধ বানানো যায়। যেমন- ডায়াবেটিস, ক্যান্সার ও প্রদাহের ওষুধ বানানো হয় আমলকি থেকে। আমলকি মানুষের রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।

আমলকির পুষ্টিগুণ –

আমলকিতে প্রচুর ভেষজ গুণাগুণ রয়েছে। আমলকিতে প্রচুর ভিটামিন সি রয়েছে যা পেয়ারার চেয়ে ৩ গুণ ও কাগজি লেবুর চেয়ে ১০ গুণ, কমলার চেয়ে ১৫-২০ গুণ, আপেলের চেয়ে ১২০ গুণ, আমের চেয়ে ২৪ গুণ ও কলার চেয়ে ৬০ গুণ বেশি।

একজন পূর্ণ বয়স্ক ব্যক্তির জন্য প্রতিদিন ৩০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি প্রয়োজন যেটা প্রতিদিন দুইটা আমলকি খেলেই পরিপূর্ণ হয়ে যায়।

প্রতি ১০০ গ্রাম আমলকিতে –

প্রায় ৯ মাইক্রোগ্রাম ক্যারোটিন থাকে।

০. ০৩ মিলিগ্রাম থায়ামিন

০. ০১ মিলিগ্রাম রিবোফ্লাভিন

১.২ মিলিগ্রাম লৌহ পাওয়া যায়।

আমলকিতে ৬০০ মিলিগ্রাম ভিটামিন পাওয়া যায়। যা একটি বড় মাপের কমলার চেয়ে অনেক বেশি।

এতে ৫০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম

২০ মিলিগ্রাম ফসফরাস পাওয়া যায়।

আমলকির উপকারিতা-

১। আমলকি আমাদের শরীরের জন্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি চুলের জন্য ও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমলকি চুলের টনিক হিসাবে কাজ করে। আমলকি চুলের পরিচর্যার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এটি চুলের গোড়া মজবুত করে ও চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এটি চুল পড়া প্রতিরোধ করে ও চুলের খুশকি দূর করে।

২। আমলকি হজমের জন্য খুব ভালো কাজ করে। আধা চূর্ণ শুষ্ক ফল আক গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে খেলে হজমের সমস্যা দূর হয়ে যায়।

৩। আমলকির রস কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে ও পাইলসের সমস্যা দূর করে। এটি পেটের বদহজম ও পেটের গোলযোগ দূর করতে সাহায্য করে।

৪। আমলকি এসিডিটির সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। এক গ্লাস দুধ বা পানির মধ্যে আমলকির গুড়া ও সামান্য চিনি মিশিয়ে দিনে দুইবার খেতে হবে। তাহলে এসিডিটি দূর হয়ে যাবে।

৫। স্কার্ভি দাঁতের মাড়ির একটি পরিচিত রোগ। ভিটামিন সি এর অভাবে স্কার্ভি রোগ দেখা দেয়। এ রোগ হলে মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়ে, মাড়ীতে ঘা হয় ও শরীর দূর্বল হয়ে যায়। চেহারা ফ্যাকাসে হয়ে যায়। হাড়ের মাঝে পরিবর্তন দেখা যায়। প্রতিদিন একটি বা দুইটি করে আমলকি খেলে স্কার্ভি রোগ দূর হয়ে যায়।

৬। আমলকির রস দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। চোখের বিভিন্ন সমস্যা যেমন- চোখ চুলকানি, চোখের প্রদাহ, চোখ দিয়ে পানি পড়া ইত্যাদি রোগ থেকে রক্ষা করে আমলকি। আমলকি চোখের জন্য খুবই উপকারী। আমলকিতে ফাইটো-ক্যামিকেল থাকে যা চোখের সাথে জড়িত ডিজেনারেশন প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

৭। প্রতিদিন সকালে আমলকির রসের সাথে মধু মিশিয়ে খেলে ত্বকের কালো দাগ দূর হয়ে যায় ও ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়।

৮। পেপটিক আলসার চিকিৎসায় আমলকি খুব ভালো কাজ করে। প্রতিদিন আমলকি খেলে পেটের পেপটিক আলসার দূর হয়ে যায়।

৯। প্রতিদিন আমলকির রস খেলে নিঃশ্বাসের দূর্গন্দ দূর হয়ে যায়। আমলকি দাঁত ও শক্ত করে। আমলকির গুড়ার সাথে সামান্য মধু ও মাখন মিশিয়ে খেলে রুচি বাড়ে।

১০। আমলকি শরীর ঠান্ডা করে। শরীরের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে। এটি মস্তিষ্ক ও হৃদযন্ত্রের দূর্বলতা দূর করে।

১১। আমলকি ওজন হ্রাস করতে সাহায্য করে। এটি নিয়মিত খেলে শরীরের প্রোটিনের স্তর বৃদ্ধি পায় যা দেহের চর্বি কাটতে সাহায্য করে। এটি হজম শক্তি বৃদ্ধি করে। ফলে মানুষ মুটিয়ে যায় না।

১২। আমলকিতে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম থাকে। ফলে হাড় মজবুত হয়।

১৩। রক্ত পরিষ্কার করতে আমল্কি বেশ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। এতে থাকা অ্যান্টি অক্সিডেন্ট শরীরের টক্সিন দূর করতে সাহায্য করে। নিয়মিত আমলকি খেলে রক্তের হিমোগ্লোবিন বৃদ্ধি পায়।

১৪। আমলকি কফ, বমি দূর করে।

১৫। আমলকি মানুষের অনিদ্রা দূর করে।

আরো পড়ুনঃ

পুইশাকের পুষ্টিগুণ

খাটি মধু চেনায় উপায়

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button