খাদ্য ও স্বাস্থ্যকথাস্পেশাল খাবারস্বাস্থ্য টিপস

ঈদের দিনে খাবারে সর্তকতা

ঈদের দিনে খাবারের প্রতি সর্তক থাকতে হবে।

ঈদের সময়ে প্রতি বাসাতেই নানান পদের মুখরোচক খাবার তৈরী করা হয়। তখন খাবার খাওয়ার মাঝেও নজর দিতে হবে আমরা যেটা খাচ্ছি সেটা আমাদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত কিনা।

ঈদের দিনে আমাদের খাবারের মেন্যুতে অনেক ধরনের খাবার থাকে। পোলাও, মুরগি, গরু বা খাসির মাংস, কাবাব, চটপটি। এছাড়াও মিষ্টি জাতীয় বিভিন্ন খাবার থাকে ঈদের মেন্যুতে।

দইবড়া বা চটপটি ও থাকতে পারে। যাদের শরীরে কোন ধরনের কোন সমস্যা থাকে না বা কম বয়সী লোকেরা তাদের পছন্দ মতো সব খেতে পারে। তবে অতিরিক্ত খাওয়া যাবে না।

খাবার পরিমাণে অল্প খেতে হবে-

খাবার খাওয়ার সময় খাবারের পরিমাণের দিকে সবসময় নজর দিতে হবে। অনেকেই দেখা যায় পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি না খাওয়ার ফলে কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগতে থাকেন। এক্ষেত্রে দেখা যায় শুরু থেকেই পরিকল্পনা করে নেওয়া উচিত। দুপুরে এবং রাতের খাবার কোথায় খাবেন তা আগে থেকেই ঠিক করে নিতে হবে। অন্য বাড়িতে ও গেলেও কম করে খেতে হবে। পানি ও পানিজাতীয় খাবার বেশি গ্রহণ করতে হবে। আবার অনেকেই বেশি তৈলাক্ত খাবার ও চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণ করলেও হজম করতে পারে না তাদেরকে অল্প খাবার গ্রহণ করতে হবে।

সর্তক হতে হবে কাদের?

যাদের বয়স হয়েছে বা যারা কোন ধরনের শারীরিক সমস্যায় ভুগছে যেমন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগে ভুগছে তাদের খাবার খাওয়ার ব্যাপারে যথেষ্ঠ সর্তক হতে হবে।

যাদের কিডনির সমস্যা রয়েছে তাদেরকে প্রোটিনজাতীয় খাবার যেমনঃ মাছ, মাংস নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। দিনে দুই টুকরার বেশি খাওয়া যাবে না। চিংড়ি, খাসির কলিজা, মগজ খাওয়া যাবে না।

ডায়াবেটিসে ভুগছেন যারা তাদেরকে মিষ্টিজাতীয় খাবার পরিহার করতে হবে। তারা টক জাতীয় খাবার খেতে পারেন। মিষ্টি বা চিনির পরিবর্তে জিরোক্যাল দিয়ে খাবার তৈরী করে খেতে পারেন। তাদের জন্য পোলাও, বিরিয়ানি কম খাওয়া উচিত। ভাত খাওয়া উচিত। অতিরিক্ত তেল, চর্বি ব্যতীত মুরগি বা গরুর মাংস খাওয়া যাবে।

যারা দুধ খেয়ে সহ্য করতে পারে না তাদেরকে দুধের তৈরী খাবার এড়িয়ে যেতে হবে।

ঈদের দিনে মিষ্টিজাতীয় খাবার

যারা কোলেস্টেরল বা রক্তের উচ্চচাপ এ ভুগছেন বা যাদের হার্টের সমস্যা রয়েছে তাদের অবশ্য তেল- চর্বি জাতীয় খাবার না খাওয়াই ভালো। পরিমাণ মতো চর্বিছাড়া গরুর মাংস খাওয়া যেতে পারে। ভাজা পোড়া খাবার খাওয়া যাবে না এবং মিষ্টিজাতীয় খাবার কম খেতে হবে। গরমে পেটের সমস্যা থেকে কিভাবে মুক্তি পাবে?

যা করা উচিত-

অতিরিক্ত পেট ভরে খাওয়া যাবে না। গোগ্রাসে না খেয়ে বরং চিবিয়ে আস্তে ধীরে খাওয়া উচিত। খাবার খাওয়ার সাথে সাথেই পানি খাওয়া উচিত নয়। রাতে খাবার খাওয়ার সাথে সাথে ঘুমাতে যাওয়া উচিত নয়, বরং দুই তিন ঘণ্টা পরে ঘুমাতে যাওয়া উচিত।

ফল, ফলের জ্যুস ও সালাদ বেশি করে খাওয়া উচিত। খাবারের শুরুতে কিছুটা সালাদ খেয়ে নেওয়া উচিত। তাহলে অন্যান্য খাদ্য কিছুটা কম খাওয়া যাবে। খাওয়ার সময় টক দই খাওয়া যেতে পারে।

যাদের কোষ্ঠকাঠিন্য আছে তারা ঈদের আগের রাতে বা ঈদের দিন ইস্পগুলের ভুসি খেতে পারেন। প্রচুর পানি খেতে হবে। দুপুরে বা রাতে সবজি খেতে হবে। পানি শূন্যতার লক্ষণ ও প্রতিরোধ

যাদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা আছে তাদের ঈদের দিনে একটু বেশি করে হাটাহাটি করতে হবে।

আরো পড়ুনঃ গরমে হঠাত অসুস্থ হয়ে পড়লে কি করণীয়

ডায়াবেটিসের চিকিৎসা সম্বন্ধে জেনে নিন

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
error: Content is protected !!

Adblock Detected

Please turn off your Adblocker.