অন্যান্যরোগতত্ত্ব

উচ্চরক্তচাপের কারণ,লক্ষণ ও চিকিৎসা

উচ্চরক্তচাপের কারণ,লক্ষণ ও চিকিৎসা

আমাদের শরীরকে নিয়মিত প্রচুর পরিমাণে পরিশ্রম ও ব্যায়াম করতে হয়। শরীর যদি পরিশ্রম না করে তাহলে হৃদযন্ত্রের প্রচুর পরিশ্রম করতে হয়।

হৃদযন্ত্রের পরিশ্রম করতে করতে হৃদযন্ত্রে অনেক ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। অন্যদিকে আবার শরীর বিনা পরিশ্রমে ফুলে যায়। ওজনাধিক্য হয়ে যায়।

পূর্বে মানুষ মনে করতো উন্নত দেশগুলোতেই শুধু অসংক্রামক রোগ ব্যধি যেমনঃ- হাইপ্রেসার, ডায়াবেটিস, হার্টের অসুখ হয়ে থাকে। আমাদের মতো অনুন্নত দেশে এসব অসুখ হয় না। আমাদের দেশগুলোতে শুধু সংক্রামক রোগ ব্যধিই দেখা যায় এবং এগুলো বেশি ছড়িয়ে পড়ে।

আরো পড়ুনঃ শিশুদের করোনা থেকে মুক্ত রাখতে কি করবেন

কারণ অনুন্নত দেশের মানুষ পরিশ্রম করে তাই এসব অসংক্রামক ব্যধি হয় না। কিন্তু বর্তমানে দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশসহ বহু অনুন্নত দেশেও এসব অসংক্রামক ব্যধি দেখা দিচ্ছে খুব প্রবল হারে।

সারা পৃথিবীর মতো আমাদের দেশেও বর্তমানে সংক্রামক রোগের সংখ্যা কমছে কিন্তু অসংক্রামক রোগের সংখ্যা খুব বেশি হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

মূলত উচ্চ রক্তচাপের কোন সাধারণ লক্ষণ থাকে না। রোগীর মধ্যে কোন ধরনের জটিলতা দেখা যায় না। তাই কেউ বুঝতেও পারে না রোগী উচ্চরক্তচাপে ভুগছে কিনা। এমনকি রোগী নিজেও বুঝতে পারে না।

যখন উচ্চরক্তচাপের কোন ধরনের জটিলতা যেমন- স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক, কিডনির সমস্যা এর মধ্যে যেকোন একটি দেখা দেয় তখনি রোগীর মধ্যে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। যেহেতু এই রোগের তেমন কোন জটিলতা দেখা যায় না তাই এই রোগ নির্ণয় করা খুব কষ্টকর।

আরো পড়ুনঃ শিশুর নিউমোনিয়া

শারীরিক কোন জটিলতা না থাকায় কেউ গুরুত্ব দিয়ে হাইপ্রেসারের চেকাপ করতে চায় না। আবার উচ্চ রক্তচাপ নির্ণয় করা গেলেও অনেকেই ঠিকমতো চিকিৎসা গ্রহণ করতে চায় না।

তাই ধীরে ধীরে উচ্চরক্তচাপ বৃদ্ধি পেতেই থাকে। উচ্চ রক্তচাপ রোগীর কোন ধরনের শারীরিক সমস্যা না থাকলেও ১-৩ মাস পরপর চেকাপ করতেই হয়। এ রোগীদের সারাজীবন ই ওষুধ খেতেই হয়।

আরো পড়ুনঃ ডায়াবেটিসের খাদ্য জেনে নিন

উচ্চরক্তচাপের লক্ষণঃ

সাধারণত উচ্চরক্তচাপের কোন নির্দিষ্ট লক্ষণ নেই। কিন্তু একদমই কিছু সাধারণ লক্ষণ দেখা দেয়-

১। প্রচন্ড মাথা ব্যথা, ঘাড় ব্যথা, মাথা গরম হওয়া, মাথা ঘোরা।

২। অল্পেই রেগে যাওয়া, অস্থির হয়ে শরীর কাপা, বমি বমি হওয়া।

৩। রাতে পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া।

৪। অনেক সময় জ্ঞান হারিয়ে ফেলা।

৫। মাঝে মাঝে কানে শব্দ হওয়া।

এসব লক্ষণ দেখা দিলেই চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করতে হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খেতে হয়।

আরো পড়ুনঃ ডায়াবেটিসের চিকিৎসা সম্বন্ধে জেনে নিন

উচ্চরক্তচাপের কারণ,লক্ষণ ও চিকিৎসা

উচ্চরক্তচাপের কারণ

১। সাধারণত মানুষের ৪০ বছরের পর থেকে উচ্চরক্তচাপ দেখা দেয়।

২। পরিবারের কারো উচ্চরক্তচাপ থাকলে।

৩। ওজনাধিক্য দেখা দিলে।

৪। নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম বা পরিশ্রম না করলে।

৫। দৈনিক ১ চা চামচ বা ছয় গ্রামের বেশি লবণ খেলে।

৬। ধূমপান বা মদ্যপান করলে

৭। শারীরিক বা মানসিক চাপ থাকলে।

৮। দীর্ঘদিন ধরে ঘুমের সমস্যা থাকলে।

আরো পড়ুনঃ ডায়াবেটিসের কারণ, লক্ষণ ও পরীক্ষা

মূলত ৯০% রোগীর উচ্চরক্তচাপের কারণ জানা যায় না। সাধারণত বয়স্ক মানুষে্র উচ্চরক্তচাপ বেশি থাকে। কিছু কিছু বিষয় আছে যেগুলো উচ্চরক্তচাপের কারণ হতে পারে। যেমন- বংশের কারো উচ্চরক্তচাপ থাকলে হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। মা বাবা কারো উচ্চরক্তচাপ থাকলে সন্তানের মাঝে এটি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এমনকি নিকট আত্নীয় কারো উচ্চরক্তচাপ থাকলেও হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

আরো পড়ুনঃ বাত থেকে মুক্তির উপায়

অধিক ওজন ও জীবনযাত্রাঃ নির্দিষ্ট পরিমাণে পরিশ্রম ও ব্যায়াম না করলে শরীরের ওজন বাড়তে পারে। এতে হৃদযন্ত্রের সমস্যা হতে পারে। উচ্চরক্তচাপ হতে পারে।

খাদ্যাভ্যাসঃ অতিরিক্ত চর্বিজাতীয় খাবার যেমন- মাখন, মাংস ও বেশি তেলে রান্না করা খাবার খেলে হৃদযন্ত্রের সমস্যা হতে পারে। ডিমের হলুদ অংশ, ক্কলিজা, মগজ খেলে রক্তে কলেস্টেরল বৃদ্ধি পায়। ফলে উচ্চরক্তচাপ দেখা দিতে পারে।

ডায়াবেটিসঃ বয়স বাড়ার সাথে সাথে ডায়াবেটিস রোগীদের উচ্চরক্তচাপের সম্ভাবনা দেখা দেয়। ডায়াবেটিস বেশি থাকলে অন্ধত্ব ও কিডনির সমস্যা দেখা দেয়।

ধূমপান: ধূমপায়ী ব্যক্তির শরীরে তামাকের নানা রকম বিষাক্ত পদার্থের প্রতিক্রিয়ায় উচ্চ রক্তচাপসহ ধমনি, শিরার নানা রকম রোগ ও হৃদরোগ দেখা দিতে পারে।

আরো পড়ুনঃ জ্বর হলে করণীয়

অতিরিক্ত লবণ গ্রহণঃ খাবার লবণ বেশি পরিমাণে খেলে উচ্চরক্তচাপ দেখা দিতে পারে।

অতিরিক্ত উৎকণ্ঠাঃ অতিরিক্ত রাগ, দুঃখ, অভিমান, উতকন্ঠা, ভীতি ও মানসিক চাপের কারণে উচ্চরক্তচাপ দেখা দিতে পারে। যদি এইটা সাময়িকভাবে না হয়ে অব্যাহত থেকে যায় তাহলে উচ্চরক্তচাপ বেড়েই যেতে থাকে।

করণীয়ঃ রাতে তাড়াতাড়ি ভাত খেয়ে ঘুমাতে হবে, অতিরিক্ত লবণ খাওয়া বাদ দিতে হবে, নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে, ধূমপান ও মদ্যপান বাদ দিতে হবে। দুশ্চিন্তা করা যাবে না। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। মাছ, মাংস, মাখন, খাসি, পনির খাওয়া বাদ দিতে হবে। শরীরের মেদ ঝরাতে হবে। ওজন কমাতে হবে। আর নিয়মিত ওষুধ খেতে হবে। চেক আপ করাতে হবে। সর্বশেষ কথা যতদিন বাচবেন আপনি উচ্চরক্তচাপ আপনার সাথেই থাকবে।

আরো পড়ুনঃ গর্ভবতী মায়ের যত্ন

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
error: Content is protected !!

Adblock Detected

Please turn off your Adblocker.