মামা ও শিশু

যেসব খাবার যা গর্ভাবস্থায় খাওয়া উচিত নয়

যেসব খাবার গর্ভাবস্থায় খাওয়া যাবে না

প্রতিটি নারীর কাছেই তার জীবনের সবথেকে বেশি সুন্দর মূহুর্ত হলো তার গর্ভাকালীন সময়। গর্ভাবস্থায় অনেক কিছু পরিবর্তন হতে দেখা যায়। শুধু যে নারীদের শরীরের পরিবর্তন তাই নয়, নারীদের সমগ্র জীবনধারা, অগ্রাধিকার, চিন্তা চেতনা সবকিছুরই পরিবর্তন হতে দেখা যায়।

গর্ভাবস্থায় নারীদেরকে কিছু জিনিস এড়িয়ে চলতে হয়। তাহলে শুধুমাত্র নিজের বাচ্চারই নয়, মায়ের শরীর ও ভালো থাকে। একজন হবু মায়ের জন্য এ অবস্থায় তার খাদ্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা ভূমিকা পালন করে। ভালো খাদ্য মা ও শিশুর জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আবার ক্ষতিকারক খাদ্য ও একজন মায়ের জন্য ঝুকি বয়ে আনতে পারে।

কিছু কিছু খাবার আছে যা আমাদের গর্ভাবস্থায় খাওয়া উচিত নয়-

গর্ভাবস্থা স্বাস্থ্যকর রাখার জন্য একজন গর্ভবতী মহিলাকে স্বাস্থ্যকর খাদ্য খেতে হয়।

। কাঁচা বা অল্প সিদ্ধ ডিম-

ডিম এসময় পুরোপুরি সিদ্ধ করে খেতে হবে। কাঁচা বা অল্প সিদ্ধ ডিম এসময়ে খাওয়া উচিত নয়। কিন্তু অনেকেই অল্প সিদ্ধ ডিম খেতে খুব ভালোবাসে। গর্ভাবস্থায় সেগুলোকে একদম বাদ দিতে হবে। কারণ সেগুলোতে সালমোনেলা দ্দ্বারা দূষিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ফলে ডায়রিয়া বা বমি বমি ভাব হতে পারে।

এসময় কার্স্টাড বা অন্যান্য যেসব খাবার কাঁচা ডিম থেকে তৈরী করা হয় সেসব খাবার খাওয়া উচিত নয়। গর্ভাবস্থায় ডিম খেতে হলে এমনভাবে খেতে হবে যাতে ডিমের হলুদ অংশ সম্পূর্ণ ভাবে সিদ্ধ হয়ে যায়। ডিমহীন বিভিন্ন সালাদ, মেয়োনিস ও অন্যান্য ডিমহীন যেকোন খাবার খাওয়া যেতে পারে।

। কাঁচা, আধা সিদ্ধ করা সিফুড বা মাছ-

গর্ভাবস্থায় নির্দিষ্ট ধরনের কিছু সিফুড খাওয়া যাবে না। যেমন-

  • হাঙ্গর, ম্যাকেরেল, তালোয়ার মাছ ও টাইলফিশের মতো কিছু মাছে পারদ উচ্চ মাত্রায় থাকে। এসব মাছ গর্ভাবস্থায় খাওয়া যাবে না। পারদ বাচ্চার বিকাশ বিলম্বিত করে দিতে পারে ও মস্তিষ্কের ক্ষতি করতে পারে।
  • ব্লুফিশ, সালমন, ট্রাউট, ওয়ালাই এর মতো মাছগুলো দূষিত জলে চাষ করা হতে পারে। ফলে এসব মাছ শিশুর ইমিউন সিস্টেমের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
  • ডায়েটে কখনোই কাঁচা মাছ রাখা যাবে না। সুশি খেতে হলে কয়েক মাস পর থেকে খেতে পারেন।
  • ক্ল্যাম, মুসেল ও অয়েস্টার এর মতো কাঁচা ও কম রান্না করা খাদ্য থেকে সমুদ্রজাত অসুস্থতা দেখা দিতে পারে। তাই রোগ প্রতিরোধ করতে হলে শেলফিশ সম্পুর্ণ এড়িয়ে চলাই উচিত।

৩। কাঁচা বা বিরল মাংস-

একজন হবু মায়ের ডায়েটে মাংস থাকবে এটাই স্বাভাবিক। তবে কিছু বিধি নিষেধ মেনে চলা উচিত। কাঁচা মাংসে মূলত লিস্টেরিয়া নামক ব্যাকটেরিয়া থাকে। ফলে এগুলো গর্ভাবস্থায় এড়িয়ে চলাই উচিত। মাংস খেতে হলে সঠিকভাবে রান্না করে খাওয়া উচিত। ব্যাকটেরিয়া অপসারণ করার জন্য মাংসে লবণ ও পানি দিয়ে সঠিকভাবে ধুয়ে রান্না করা উচিত।

৪। না ধোয়া সবজি ও ফল-

গর্ভাবস্থায় ফল ও সবজি খাওয়া খুবই গুরুত্বপুর্ণ। তবে বিশ্বের ৭৮% মানুষ না ধুয়েই ফল ও সবজি খেয়ে ফেলে। না ধোয়া ফল ও সবজির খোসাতে থাকে ক্ষতিকারক কীটনাশক। ফলে সেভাবে না ধুয়ে খাওয়া উচিত নয়। স্প্রাউট, লেটুস ও বাধা কপির মতো সবজি না ধুয়ে কখনোই কাঁচা অবস্থায় খাওয়া উচিত নয়।

গর্ভাবস্থায় আনারস, পেপে, আঙ্গুর জাতীয় ফল খাওয়া যাবে না। কাঁচা পেপে গর্ভপাতের ঝুকি বাড়ায়। মূলত গর্ভাপাতের একটি বিরাট কারণ হতে পারে। যেকোন ফল খাওয়ার আগে খোসা ছাড়িয়ে সেগুলো আলাদা পাত্রে রাখতে হবে। পাতা ওয়ালা সবজি গুলো ভালো করে রান্না করে খেতে হবে।

গর্ভবতী মা

৫। অপরিষ্কার রস জাতীয় খাবার-

তাজা ফলের রস গর্ভাবস্থায় সবসময়ের জন্যই ভালো। কিন্তু তাজা ফল মারাত্নক ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই কাঁচা ফলের বাইরে থেকে খাওয়া উচিত নয়। সবসময় নিজেদের ঘরে তৈরী ফলের রস খাওয়া উচিত। প্যাকেটে করা রস খেতে হলে রেফ্রিজারেটরে সংরক্ষিত রস খাওয়া উচিত। নাহলে যেকোন ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সংক্রমিত হতে পারে। ফলে মা ও শিশুর ইমিউন সিস্টেম দূর্বল হয়ে যেতে পারে।

৬। অত্যাধিক চিনি যুক্ত খাদ্য-

গর্ভাবস্থায় আইসক্রিম ও চকলেটের প্রতি অনেকেরই ঝোক আসে। এগুলো উচ্চ চিনির মাত্রা বাড়িয়ে ভ্রূণের ক্ষতি করতে পারে। তাই প্রতিদিন কত পরিমাণ চিনি খাচ্ছেন সেটা পরীক্ষা করে নিতে হবে। যত দ্রুত সম্ভব বেশি চিনি খাওয়ার অভ্যাস ভুলে যেতে হবে। মাঝে মাঝে চিনিযুক্ত খাবার খাওয়া যাবে। তবে খুবই কম।

৭। পাস্তুরাইজ না করা দুগ্ধজাত খাদ্য-

সন্তানের বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত দুগ্ধজাআত খাদ্য গ্রহণ করা উচিত। তাহলে এটা আপনার শিশুকে খনিজ, ক্যালসিয়াম ও প্রোটিন সরবারহ করবে। কিন্তু দুধ ও দুধজাতীয় খাদ্য খাওয়ার আগে নিশ্চিত করতে হবে খাদ্যটি যেন পাস্তুরাইজ করা হয়। পাস্তুরাইজ না করা থাকলে প্যাথোজেন নামক বিষাক্ত পর্দাথ থাকতে পারে। ফলে বিষক্রিয়া দেখা দিতে পারে। তাই পাস্তুরাইজ না করা দুধ খাওয়া উচিত নয়। তাজা দুধ খাওয়াই শ্রেয়।

৮। বাইরের খাবার-

বাসায় গর্ভবতী মহিলা থাকলে বাইরে থেকে খাবার অর্ডার করতে হলে সর্তক হতে হবে। কারণ বাইরের খাবার তৈরীর উপাদান গুলো সম্পর্কে আমাদের কোন ধারণা নেই। দোকান থেকে আনা সালাদ ও এড়িয়ে চলা উচিত। সালাদে ব্যবহৃত ফল ও সবজি পরিষ্কার না করেই বানানো থাকতে পারে। তাই বাসায় বানিয়ে খাওয়া এসময় বেশি গ্রহণযোগ্য।

৯। অত্যাধিক কৃত্রিম মিষ্টি-

কৃত্রিম মিষ্টি গর্ভাবস্থায় খাওয়া উচিত নয়। এগুলো স্বাস্থ্যকর নয়। প্লাসেন্টা সবচেয়ে বেশি সাধারণভাবে কৃত্রিম মিষ্টি ফিল্টার করে না তাই এগুলো খাওয়ার ক্ষেত্রে সংযমী হওয়া উচিত।

১০। অত্যাধিক ক্যাফিন-

গর্ভাবস্থায় আপনার ডায়েটে কফি না থাকাই ভালো। এটি মূত্রবর্ধক ফলে কফি বেশি খেলে প্রস্রাব বেশি হতে পারে। আপনার শরীর ডিহাইড্রেট হয়ে যেতে পারে। আবার শিশুর ওজন কম হওয়ার ক্ষেত্রেও কফিকে দায়ী করা হয়। ক্যাফিন অত্যাধিক গ্রহণ করলে ভ্রূণের মৃত্যু হতে পারে, প্রসবকালীন মৃত্যু ও গর্ভপাত হতে পারে।

আরো পড়ুনঃ

গর্ভাবস্থায় কিসমিস খাওয়া উপকারী না অপকারী?

গর্ভাবস্থায় যা করণীয়

শিশুদের কোন বয়সে কি খাওয়ান উচিত এবং কি খাওয়ান উচিত নয়।

মায়ের বুকের দুধ বৃদ্ধির উপায় ও দুধ বৃদ্ধির জন্য খাদ্য

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button