করোনা ভাইরাস

করোনাকালীন সময়ে বাইরে যাওয়ার সময় যা যা মাথায় রাখতে হবে

করোনাকালীন সময়ের সতর্কতা

করোনাতে লকডাউন দিলেও এই লকডাউন অনেকটাই ঢিলেঢালা। গণপরিবহন চলছে, সবাইকে কাজে অফিস, আদালতে যেতে হচ্ছে। বাড়ির বাইরে যেয়ে সবাইকে কাজ করতেই হচ্ছে। আবার অন্যদিকে ঈদের জন্য বাড়িতে স্বজনের সাথে ঈদ কাটাতে রাস্তায় হয়েছে ঘরমুখো মানুষের ঢল। ফলে কারো সাথে কারো সামাজিক দূরত্ব মানার কোন চিহ্নই দেখা যাচ্ছে না। এভাবে করোনা আরো বেশি বৃদ্ধি পাবে। ফলে আমাদেরকে আগে থেকেই ঘর থেকে বের হতে কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। এসব বিষয় মাথায় রেখেই আমরা ঘরের বাইরে চলাচল করবো।

১. দূরত্ব মানতেই হবে

আসলে আমাদের নিজেদেরকে নিজেরাই সুস্থ রাখতে হবে। বর্তমানে এই কঠোর লকডাউনের ভিতরেই মানুষের স্বাস্থ্যবিধি মানার কোন বালাই নাই। সবাই নিজের ইচ্ছা মতো বাইরে ঘুরছে, শপিং করছে, বাইরের খাবার খাচ্ছে। আর এই লকডাউন উঠে গেলেই তারা আরো বেশি নির্বিচারে বাইরে ঘুরাঘুরি করবে। কিন্তু কিছু মানুষ নিজেদেরকে ঘরবন্দী করে রেখেছে। তারা নিজেরা সুস্থ থাকার চেষ্ট করছে। তাই আমাদের যদি জরুরী কোন প্রয়োজনেও বাইরে যেতে হয় তাহলে দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। কেউ যদি কাছে ঘেষে আসে তাকে নিজ থেকেই দূরে যেতে বলতে হবে।

২. স্যানিটাইজার সঙ্গে রাখতে হবে

বর্তমান পরিস্থিতিতে সবসময় স্যানিটাইজার সাথেই রাখতে হবে। এখন কিন্তু সব দোকানেই স্যানিটাইজার পাওয়া যায়। তাই যেকন দোকান থেকে স্যানিটাইজার কিনে সাথে রাখতে হবে। আপনার কেনা স্যানিটাইজারটি যেন হয় বেশি এলকহলযুক্ত। যেকোন জায়গায় গেলে প্রায় ১০ মিনিট পর পর স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন। যেমন টাকা ধরলে, দোকান থেকে কোন পণ্য নিলে, বাসের হ্যান্ডেল ধরলে, সিনজির দরজা ধরার সাথে সাথে হাতে একটু স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন। এতে আপনি সবসময় খানিকটা নিরাপদ থাকবেন।

মাস্ক

৩. মাস্ক ছাড়া বাইরে নয়

বর্তমান পরিস্থিতে সবারই মাস্ক পড়া অভ্যাস হয়ে গেছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মানুষ সবসময় মাস্ক পড়ে থাকেন। আমাদেরও এমন করতে হবে। সবসময় বাইরে যেতে মাস্ক পড়ে যেতে হবে। এন-৯৫ মাস্ক না থাকলে অন্য যেকোন মাস্ক পড়তে পারেন। সার্জিক্যাল মাস্ক একদিন পড়েই ফেলে দেওয়া উচিত। কাপড়ের মাস্ক ও বেশিদিন ব্যবহার করা উচিত নয়। কাপড়ের মাস্ক পড়লে ধুয়ে জীবাণুমুক্ত করতে হবে।

গ্লাভস

৪. গ্লাভস ব্যবহার করুন

গ্লাভস পড়াটা এখনো আমাদের অভ্যাসের মধ্যে আসেনি। আমাদের প্রয়োজনে দুটো গ্লাভস সাথে রাখতে হবে। একটা গ্লাভস রস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় অন্যটি কর্মস্থলে যেয়ে পড়তে হবে। কারণ হাত দিয়েই আমরা সবথেকে বেশি বস্তু ধরি। তাই আমাদের হাত বেশি সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বাড়িতে এসেই আমাদের বাইরের গ্লাভস ফেলে দিতে হবে।

৫. অফিসেও নিজের ব্যবস্থা নিজে করুন

অফিসে প্রতিদিন হয়তো পুরো অফিস বা সবার ডেস্ক স্যানিটাইজ করছে কিন্তু আপনি নিজেও আপনার ডেস্ক, ডেস্কটব, চেয়ার সব স্যানিটাইজ করে নিন। তাহলে আপনি অন্য কারো বহন করা ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হবেন না।

৬. বাড়িতে আসরা পর

বাড়িতে আসার সময় যদিও আপনার সাথে কিছু ভাইরাস এসেও থাকে তাহলে বাড়িতে এসেই জামা প্যান্ট বাইরে খুলে রেখে দিন। ভিতরে এসার আগেই জুতাতে স্যানিটাইজার করে ভিতরে আসুন। ভিতরে এসে সারা গায়ে স্যানিটাইজার স্প্রে করে নিন। এরপর সোজা বাথরুমে যেয়ে গোসল করে নিন। বাইরে এসে গরম পানি বা চা পান করুন।

আরো পড়ুনঃ দেখে নিন গরমে কি কি ফল খাবেন

৭. জড় বস্তুর আলাদা যত্ন

আপনি বাইরে যাওয়ার সময় কিছু জড় বস্তু নিজস্ব প্রয়োজনে বাইরে নিয়ে যান। যেমন মোবাইল, ঘড়ি, ল্যাপটপ, মানিব্যাগ ইত্যাদি। এসব বস্তু বাড়িতে এসেই স্যানিটাইজ করে নিন। এসবের জন্য আবার আলাদা স্যানিটাইজার আছে যেগুলো হোমিওপ্যাথিক দোকানে পাওয়া যায়।

৮. বিনা দরকারে বাইরে নয়

আমাদের প্রত্যেকেরই স্বভাব বাইরে যেয়ে একটু ঘোরাফেরা করা , খাবার খাওয়া, আড্ডা মারা। কিন্তু এই মহামারীর সময়ে আমাদেরকে অবশ্যই ঘরে থাকতে হবে। কারণ ঘরে থাকলেই আমরা সুস্থ থাকবো। বাইরে বের হলে মানুষের কাছাকাছি এসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই এখন বাইরে যেতে গেলে আমাদের মনকে প্রশ্ন করতে হবে যাবো কি যাবো না? যদি একান্তই দরকার হয় তবেই বাইরে বের হন।

৯. গণ পরিবহণ এড়িয়ে চলুন

গণ পরিবহন এড়িয়ে চলা খুব একটা সহজ নয়। কিন্তু এসময় গণ পরিবহন এড়িয়েই চলতে হবে। কারণ এসব পরিবহনে অনেক জায়গার অনেক লোক উঠে। কিন্তু আমাদের তো সকলেরই প্রাইভেট কার নাই। কিন্তু আমাদের অনেকেরই সাইকেল আছে, বাইক আছে। এগুলো ব্যবহার করতে হবে। কিংবা হেঁটে যেতে হবে।

১০.একান্ত দরকারেই হাসপাতাল

খুব বেশি দরকার হলে এসময় হাসপাতালে যাওয়া যাবে। নাহয় এসময় হাসপাতাল এড়িয়ে চলাই উচিত। ডায়ালাইসিস, ক্যান্সার কিংবা কোন বড় অসুখের চিকিৎসা করতে শুধু হাসপাতালে যাবেন। নাহয় বাড়িতে ডাক্তারের পরামর্শমত বাড়িতেই চিকিৎসা করুন। কারণ হাসপাতাল থেকে অনেকেরই করোনা ছাড়াচ্ছে।

টাকা

১১. টাকার ব্যবহার কম করুন

বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের ক্যাসলেস মাধ্যম চালু করা হয়েছে। তাই হাত দিয়ে টাকা ব্যবহার করা বাদ দিন। যেকোন জিনিস কিনলে কেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড, মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করুন। কারণ টাকা থেকে করোনা ছড়াতে পারে।

১২. বাইরে একজন যান

আমাদের অনেক প্রয়োজনেই ঘরের বাইরে যেতে হয়। এসব প্রয়োজনে ঘরের সবাই মিলে দলবেধে চলে যাবেন না। যেকোন একজন যাবেন। চার বা পাচদিন পর পর এক একজন করে বাইরে যান। বাইরে থেকে এসেই নিজেকে এবং প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি স্যানিটাইজ করে নিন।

১৩. বাইরের খাবার নয়

গরমের সময়ে আমরা বাইরে গেলে লেবুর পানি, আইসক্রিম, শরবত, লাচ্ছি খেয়ে থাকি। কিন্তু এই করোনাকালীন সময়ে বাইরে গেলে কোন ধরনের খাবার খাওয়া যাবে না। তাই বাইরে যেতে গেলে ঘর থেকে লেবু পানি বানিয়ে নিয়ে যান। তাছাড়া বাইরের অন্য যেকোন খাবার বাড়িতে এনে বা বাইরে বসে খাওয়া যাবে না । কারণ যে দিচ্ছে তার তো করোনা থাকতে পারে তাই বাইরীরে খাবারকে না বলুন।

১৪. আদার ব্যবহার

আদাতে এন্টিওক্সিডেন্ট থাকায় আদা কুচি করে খেলে অনেকটা উপকার পাওয়া যায়। বাইরে যাওয়ার সময় আদা কুচি করে মুখে দিয়ে রাখলে ভালো হয়। তাই বাড়িতে আদা কুচি করে লবণ দিয়ে রোদে শুকিয়ে রেখে খেতে পারেন। তাহলে এই সংক্রমণ থেকে অনেকটাই মুক্তি পাওয়া যায়।

এই করোনার সময়ে এইসব নিয়ম মেনে বাইরে গেলে অনেকটাই সুস্থ থাকা যায়।

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ করোনা হওয়ার পর শরীর দূর্বল হলে কি করবেন

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
error: Content is protected !!

Adblock Detected

Please turn off your Adblocker.