করোনা ভাইরাসমা ও শিশু

করোনার সময় শিশুর ওজন নিয়ন্ত্রণ

শিশুর ওজন নিয়ন্ত্রণ

করোনার এই সময়ে যেহেতু শিশুদের স্কুল বন্ধ তাই তারা বাসায় বসে থেকে অবসাদ্গ্রস্ত হয়ে পড়ছে। শিশুদের এসময় বড়দের সাথে বিভিন্ন ধরনের কাজে অংশগ্রহণ করাতে হবে। তাদেরকে বিভিন্ন কাজ করতে উতসাহিত করতে হবে। এতে শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়ে পড়বে না আবার শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যও ভালো থাকবে।

শিশু সুস্থ থাকবে যখন তার ওজন ঠিক থাকবে। ওজন কম হলে মা-বাবার জন্য সেতা যেমন দুশ্চিন্তার তেমনি ওজনাধিক্য ও শিশুর জন্য খুব ঝুকিপূর্ণ। আমাদের দেশের আর্থসামাজিক উন্নতির সাথে শিশুদের ওজন ও বৃদ্ধি পাচ্ছে ব্যাপক হারে।

শিশুদের ওজনাধিক্য সবার জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। বড়দের যেকোন কিছুই তারা চাইলেই অতি সহজেই নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে কিন্তু শিশুদের বেলায় সেটা অন্যরকম।

শিশুদের ওজন যখন একবার বাড়তে থাকে তখন আর তার ওজন সহজে কমানো যায় না। শিশুরা মূলত ভালোভাবে বুঝতে পারে না তাদের এই ওজনাধিক্য থেকে বের হতে কি করতে হবে এবং না বুঝার ফলে তারা সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে না। আবার মা- বাবারা বুঝিয়ে দিলেও তারা এদিক সেদিক করে ফেলে। ফলে শিশুদের ওজন কমানো খুব কষ্টকর বিষয়।

ওজনাধিক্য শিশু

অধিক ওজন বৃদ্ধির কারণ হচ্ছে বেশি ক্যালরিযুক্ত খাবার গ্রহণ ও শরীরচর্চা বা ব্যায়ামের অভাব। করোনাকালে স্কুল বন্ধ থাকায় তারা বদ্ধ জীবন কাটাতে কাটাতে তারা বাসায় বসে অপর্যাপ্ত খাবার খাচ্ছে, দীর্ঘদিন অলস ভাবে দিন কাটাচ্ছে। ফলে তাদের ওজন বেড়েই যাচ্ছে দিন দিন। শিশুদের এসবের হাত থেকে রক্ষা করতে কিছু বিষয় অবলম্বন করতে হবে। যেমন-

১। শিশুকে কমপক্ষে ১-২ ঘণ্টা অ্যাকটিভ করে রাখার চেষ্টা করতে হবে। শিশুকে হালকা ব্যায়াম করাতে হবে। শিশুকে ঘরের ভিতরে বেত খেলতে দিতে হবে। শিশুকে ছাদে নিয়ে যেতে হবে। সেখানে গিয়ে দৌড় করাতে হবে।

২। শিশুকে মোবাইল, কম্পিউটার থেকে বিরত করতে হবে। শিশুকে পর্যাপ্ত পরিমাণে টিভি দেখতে দিতে হবে। শিশু যেন টিভি দেখার সময় দূর থেকে দেখে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

৩। শিশুকে তার বয়সের সাথে মানিয়ে পরিবারের কাজে উতসাহিত করতে হবে। এসব করলে শিশুর বাড়তি ওজন কমাতে সাহায্য করবে। শিশুর মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য ঠিক থাকবে।

৪। শিশুকে সবসময় সুষম খাদ্য দিতে হবে। অতিরিক্ত ক্যালরিযুক্ত খাদ্য বিশেষ করে মিষ্টি , তেলযুক্ত খাবার শিশুকে বেশি করে দেওয়া যাবে না।

৫। আইসক্রিম ও চকলেট জাতীয় খাদ্য শিশুরা খুব বেশি পছন্দ করে। তাই শিশুদের সেগুলো খুব বেশি দেওয়া যাবে না। এগুলো শিশুর ওজন বাড়াতে সাহায্য করে।

৬। শিশুকে পানীয় জাতীয় খাদ্য বেশি দেওয়া যাবে না। জুস ও কোমল পানীয় শিশুকে কম পরিমাণে দিতে হবে।

৭। শিশুর যখন স্কুল থাকবে তখন তাকে রুটিনমাফিক খাদ্যাভ্যাসের ব্যাবস্থা করাতে হবে। শিশু যেন স্কুলে যেয়ে বেশি তেলেভাজা খাবার ও দোকান থেকে কেনা খাবার না খায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

৮। শিশুদের একঘেয়েমি কাটাতে তাদেরকে মাঝে মাঝে রুটিনের বাইরে কিছু ভালো খাবার দিতে হবে। সুস্বাদু খাবার শিশুর খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে যাতে সে মজা করে খেতে পারে। শিশুর সাথে একসাথে বসে আড্ডা দিতে হবে। খেলা করতে হবে। মুভি দেখতে হবে।

৯। শিশুর মানসিক বিকাশ ঠিক রাখতে তারা সাথে খেলতে হবে ও তাকে পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে।

১০। শিশুর সঠিক ও নিয়মমতো ঘুমের ব্যবস্থা করতে হবে।

১১। শিশুর ওজন সপ্তাহে একবার হলেও মাপতে হবে।

১২। যাদের খুব বেশি বেড়েই চলছে অর্থাৎ ওজনের লাগাম টেনে ধরাই যাচ্ছে না তাদের খুব শীঘ্রই পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিতে হবে।

১৩। খাদ্যনিয়ন্ত্রণে আছে এবং সঠিকভাবে ব্যায়াম করা সত্ত্বেও যাদের ওজন বেড়ে যাচ্ছে। তাদের হরমোন জনিত কোন সমস্যা আছে কিনা তা ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে ব্যবস্থা গ্রহণ করাতে হবে।

আরো পড়ুনঃ মায়ের বুকের দুধ কম হওয়ার কারণ

শিশুদের ডায়রিয়া হলে কি করবেন

শিশুর যত্নে লক্ষ্যণীয় বিষয়

শিশুর যত্নে কিছু কথা

শিশুদের করোনা থেকে মুক্ত রাখতে কি করবেন

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
error: Content is protected !!

Adblock Detected

Please turn off your Adblocker.