পুষ্টি পরামর্শ

কামরাঙ্গার উপকারিতা

কামরাঙ্গার পুষ্টিগুণ

কামরাঙ্গা শ্রীলঙ্কা ও ইন্দোনেশিয়া থেকে উদ্ভূত বলে মনে করা হয়। শত শত বছর ধরে ভারতীয় উপমহাদেশে ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার অঞ্চলসমূহে কামরাঙ্গা চাষ করা হয়। কামরাঙ্গা একটি সুস্বাদু ফল।

কামরাঙ্গা পুষ্টি জোগাতে সাহায্য করে ও নানা ধরনের রোগ প্রতিরোধ করতেও সাহায্য করে। কামরাঙ্গার মতো একটি সাধারণ ফল খেয়েই অনেক ধরনের সমস্যা সমাধান করা যায়।

বাংলাদেশের বিভিন্ন মৌসুমে বিভিন্ন ধরনের ফল পাওয়া যায়। তার মাঝে একটি ফল কামরাঙ্গা। কামরাঙ্গা ফলের গাছটি একটি চিরসবুজ গাছ। এই গাছটি মাঝারি ধরনের হয়ে থাকে। এর ফল ৭-১০ মিটার লম্বা হয়। কামরাঙ্গা কাঁচা অবস্থায় সবুজ থাকে ও পাকলে হলুদ হয়ে যায়। কামরাঙ্গা টক ও মিষ্টি দুই ধরনের হয়ে থাকে।

কামরাঙ্গা

কামরাঙ্গার পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক-

১। চিকিৎসকেরা বলে থাকেন কামরাঙ্গা ভিটামিন বি নাইন ফলিক অ্যাসিডে সমৃদ্ধ একটি ফল। কামরাঙ্গা হার্ট অ্যাটাকের ঝুকি কমায়। আম, আঙ্গুর ও আনারসের চেয়ে কামরাঙ্গাতে ভিটামিন সি এর পরিমাণ বেশি। কাঠাল, কমলালেবু, পাকা পেপে ও লিচুর চেয়েও কমারাঙ্গাতে আয়নের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে।

২। কামরাঙ্গাতে বি ফাইভ ও ভিটামিন বি সিক্স পাওয়া যায় প্রচুর পরিমাণে। কামরাঙ্গা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে ও কোলেস্টেরল কম রাখে। হাইপারটেনশন দূর করে কামরাঙ্গা।

৩। কামরাঙ্গাতে রয়েছে এলাজি এসিড যা খাদ্যনালীর ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। কামরাঙ্গার কচি পাতায় রয়েছে ট্যানিন যা রক্ত জমাট বাধতে সাহায্য করে।

৪। কামরাঙ্গা ব্রণ দূর করে। কামরাঙ্গার রস ও লেবুর রস সমপরিমাণ নিয়ে প্যাক তৈরী করতে হবে। তারপর একটি তুলার সাথে এটি লাগিয়ে ব্রণের উপরে লাগাতে হবে। ১০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে। তাহলে আস্তে আস্তে ব্রণ দূর হয়ে যাবে।

৫। কামরাঙ্গা বয়সের ছাপ দূর করে। যেকোন প্রাকৃতিক উপাদানের সাথে কামরাঙ্গা মিশিয়ে মুখে লাগাতে হবে। এটি ত্বকের বলিরেখা দূর করবে ও ত্বক টানটান করে। ফলে বয়সের ছাপ দূর হবে।

৬। প্রতিদিন বাসায় এসে কামরাঙ্গার রস ৫ মিনিট মুখে লাগিয়ে ম্যাসাজ করতে হবে। তারপর ১৫ মিনিট অপেক্ষা করে পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিতে হবে। তাহলে ত্বকের ময়লা দাগ দূর হয়ে যাবে ও মুখ পরিষ্কার হয়ে যাবে।

৭। কামরাঙ্গা স্লাইস করে কেটে চোখের নিচে দিয়ে ১০ মিনিট চোখ বন্ধ করে রাখতে হবে। তারপর পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে চোখের নিচের ফোলা ভাব দূর হয়ে যায়।

৮। কামরাঙ্গাতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে যা আমাদের হজম শক্তি বৃদ্ধি করে। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে।

৯। কামরাঙ্গাতে খুব কম ক্যালরি থাকে তাই এটি দ্রুত ওজন কমাতে সাহায্য করে।

১০। শুকনা কামরাঙ্গার গুড়া আধা চা চামচ এক গ্লাস পানির সাথে মিশিয়ে প্রতিদিন একবার খেলে অর্শ রোগ দূর হয়ে যায়।

১১। কামরাঙ্গা পুড়িয়ে ভর্তা বানিয়ে খেলে সর্দি কাশির সমস্যা দ্রুত সেরে যায়।

১২। কামরাঙ্গা বিষনাশক হিসাবে কাজ করে।

১৩। কামরাঙ্গা ভর্তা রুচি ও হজম শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।

১৪। কামরাঙ্গা জ্বর থেকে সেরে উঠতে সাহায্য করে।

১৫। পাকা কামরাঙ্গা রক্তক্ষরণ বন্ধ করে।

১৬। কামরাঙ্গা ফল ও পাতা গরম পানিতে সেদ্ধ করে খেলে বমি বন্ধ হয়ে যায়।

১৭। কামরাঙ্গা ঘাম, কফ ও বাতনাশক হিসাবে কাজ করে।

১৮। কামরাঙ্গা দাঁত, চুল, নখ পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।

আরো পড়ুনঃ

লেবুর খোসার উপকারিতা

ব্রকলির উপকারিতা

দারুচিনির বিভিন্ন গুণাগুণ ও উপকারিতা

মিষ্টি কুমড়া কেন খাবেন জেনে নিন

কাঠালের পুষ্টিগুণ

লিচুর উপকারিতা

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!