গৃহসজ্জালাইফস্টাইল

কোন ঘরে কেমন আলো হবে?

ঘরে বাতির ব্যবহার

আমাদের ঘরে আলোর ব্যবহার একটা ঘরকে আমূল পরিবর্তন এনে দিতে পারে। ঘরে আলোর ব্যবহারে বেশ কৌশলী হতে হয়। বর্তমান সময়ে যেহেতু ফ্ল্যাট একটু ছোট হয়ে থাকে তাই ঝাড়বাতির ব্যবহার কমে আসছে।

ছিমছাম নকশা ও পরিষ্কার করার সুবিধার জন্য অনেকেই বর্তমানে ঝুলন্ত বাতি বেশি পছন্দ করছে। তাই শুধু বসার ঘর বা খাবার ঘরেই নয় প্যাসেজ, রান্নাঘর সব জায়গাতেই এই ঝুলন্ত বাতির ব্যবহার বেশি দেখা যাচ্ছে।

আলো ও ছায়ার উপর নির্ভর করে কিছু জায়গাকে সুন্দর ও আর্কষণীয় করে সাজানো যেতে পারে। ঝুলন্ত বাতি ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি ঘরে কিছুটা নাটকীয় পরিবেশ সৃষ্টি করে।

শোবার ঘরে-

শোবার ঘরে বিছানার পাশে একটি টেবিলে ল্যাম্পশেড রাখা যেতে পারে আবার একটা ঝুলন্ত বাতিও রাখা যেতে পারে। ঘুমানোর আগে প্রয়োজনীয় কাজ সারতে বা বই পড়ার সময় এই বাতির ব্যবহার অপ্রতুল। শোবার ঘরে নরম আলো ব্যবহার করাই ভালো। তবে টেবিলে একটি উজ্জ্বল আলো রাখা যেতেই পারে। সেজন্য স্পটলাইট ব্যবহার করা যায়।

সিলিঙয়ে স্রাওফেস লাইট, কনসিল লাইট, স্পটলাইট, ফলস সিলিঙয়ে পকেট লাইট ব্যবহার করা যেতে পারে। শোবার ঘরে কাজ করলে একটা উজ্জ্বল বাতি লাগাতে হবে। শোবার ঘরে ফ্লোরস্ট্যান্ড ল্যাম্প ব্যবহার করা যায়।

শোবার ঘরে আলো

ড্রেসিং টেবিল ও আয়নার সামনে উজ্জ্বল বাতি হিসাবে ঝুলন্ত বাতি ব্যবহার করা যেতে পারে। ড্রেসিং টেবিলে আলো লাগানোর সময় খেয়াল রাখতে হবে এই আলো যেন আয়নার মুখোমুখি হয়। শোবার ঘরে ১২০-১৫০ বর্গফুটের জন্য ৫০-৬০ ওয়াটের আলো লাগানো যেতে পারে। পুরো ঘরের জন্য ৩০ ওয়াট ও ড্রেসিং টেবিলের জন্য ৩০ ওয়াটের বাতি লাগাতে হবে। বিছানার পাশে টেবিল ল্যাম্পের জন্য ২০ ওয়াটের বাতিই যথেষ্ট।

শিশুদের ঘরে-

শিশুদের ঘরে সবসময় কোমল আলো ব্যবহার করা ভালো। পড়ার টেবিলে একটি উজ্জ্বল আলোর ব্যবস্থা করা উচিত। বাচ্চাদের ঘরে তাদের পছন্দের চরিত্রের আদলে কোন বাতি লাগানো যেতে পারে। শিশুদের ঘরে বিছানার উপরে, পড়ার টেবিলে বা খেলনার জন্য আলাদা একটি কোণা সাজানো যেতে পারে যেখানে ফুটবল, রিকশা, গাড়ির আদলে বাতি লাগানো যেতে পারে।

খাবার ঘরে-

খাবার ঘরে আলো

খাবার টেবিলের উপরে বাড়তি আলোর ব্যবস্থা করতে হবে। সেই আলোটি যদি হয় ঝুলন্ত বাতি তাহলে দেখতেও সুন্দর লাগবে ও কাজেও দিবে। খাবার ঘরে যদি কোন পেইন্টিং বা ছবি থাকে সেটাকে আলোকিত করার জন্য স্পটলাইট ব্যবহার করা যেতে পারে।

টেবিলে মাপ অনুযায়ী পরিমানমতো ঝুলন্ত বাতি টেবিলের উপরে ঝুলিয়ে দেওয়া যেতে পারে। গোলাকার টেবিলে ত্রিভুজের মতো করে সাজিয়ে দেওয়া যেতে পারে। বাতি এমনভাবে ঝোলাতে হবে যাতে আল খাবারে পড়ে।

খাবারের ঘরের পাশেই কিচেন থাকলে কিচেন কাউন্টারের সাজে একটি নকশাদার ঝোলানো বাতি লাগানো যেতে পারে। মূলত একেক ঘরে একেক ধরনের বাতি লাগালে সম্পূর্ণ ঘর দেখতে সুন্দর লাগবে।

বসার ঘরে-

সেন্টার টেবিলের উপরে গুচ্ছাকারে বা সারি বেধে কয়েকটি ঝুলন্ত বাতি লাগিয়ে দেওয়া যেতে পারে। ঘরের কোণা সাজানো থাকলে সেখানেও বাতি লাগিয়ে দেওয়া যেতে পারে। বাতিগুলো উপর থেকে নিচের দিকে লাগালে বেশ ভালো দেখা যাবে। বসার ঘরের থিমের সাথে মানিয়ে দেশীয় বা আধুনিক যেকোন ভাবে সাজানো যেতে পারে। তাহলে বসার ঘরের আড্ডা আরো জমে উঠবে।

করিডোরে-

করিডোরের ক্যাবিনেটে একটি ঝুলন্ত বাতি লাগানো যেতে পারে। তাহলে ঘরের সৌন্দর্য আরো বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। বারান্দায় বসার ব্যবস্থা থাকলে একটি বাতি লাগিয়ে দেওয়া যেতে পারে। দেশীয় মোটিফের গোলাকার বা বলের মতো বাতি লাগানো যেতে পারে।

আরো পড়ুনঃ

কিভাবে ব্যালকনি সাজাবেন?

আপনার শোবার ঘর কেমন হবে?

আপনার ছোট্ট সোনামণির ঘরটি কেমন হবে?

র্ষায় ঘর আসবাবপত্রের যত্ন

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button