অন্যান্যরোগতত্ত্ব

ক্যান্সারের লক্ষণ ও কারা ঝুকিতে আছে, প্রতিরোধের উপায় ?

ক্যান্সার কি, কারা ঝুকিতে আছে?

ক্যান্সার একটি মারণ রোগ। বাংলাদেশে প্রতি বছর ২১% এর বেশি মানুষ মৃত্যুবরণ করে ক্যান্সারের ফলে। বাংলাদেশে প্রায় ১০ লাখেরও বেশি মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত। এদের মাঝে বেশির ভাগ মানুষ ফুসফুস, জরায়ু ও স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে। এরকম চলতে থাকলে ২০৩০ সালের মাঝে ক্যান্সারে মৃতুহার দাঁড়াবে ১২.৭%। শতকরা ৪০ ভাগ মানুষ ক্যান্সারের অভ্যাস পরিবর্তন করার মাধ্যমে ক্যান্সার প্রতিরোধ করেছে।

আজ আমরা কথা বলবো ক্যান্সারের কারণ, লক্ষণ, কারা ঝুকিতে রয়েছে, প্রতিরোধের উপায় এসব নিয়ে।

চলুন প্রথমেই দেখে নিই ক্যান্সার আসলে কি?

ক্যান্সার কি?

শারীরবৃত্তিক প্রক্রিয়ায় দেহের কোষগুলো নিয়ন্ত্রিতভাবে ও নিয়মিতভাবে বিভাজিত হয়ে নতুন কোষের জন্ম দেয়। যখন এই কোষগুলো কোন কারণে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকে তখন ত্বকের নিচে মাংসের পিন্ড বা চাকা দেখা দেয়। একে টিউমার বলা হয়।

এই টিউমার আবার কখনো কখনো বিনাইন হতে পারে আবার কখনো কখনো ম্যালিগ্ন্যান্ট হতে পারে। বিনাইন হলো নিরীহ টিউমার। এতে শরীরের ক্ষতিসাধন হয়না। কিন্তু টিউমার ম্যালিগ্ন্যান্ট হলেই তা ক্যান্সার। বিনাইন টিউমার ও ম্যালিগ্ন্যান্টে রূপ নিতে পারে। তাই শরীরের কোথাও কোন দলা বা চাকা হলে সেটি ভালোভাবে পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত।

ক্যান্সারের লক্ষণ কি?

১। শরীরের কোথাও তিল বা হঠাত করে কোন আচিল হলে

২। অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ

৩। খুসখুসে কাশি বা ভাঙ্গা গলার স্বর

৪। মল মূত্র ত্যাগের অভ্যাস পরিবর্তন

৫। খাবার হজম না হওয়া

৬। ওজন মাত্রারিক্ত কমে যাওয়া ও খুব দ্রুত কমতে থাকা

৭। সহজে ভালো হয় না এমন ক্ষত

৮। খাবার গিলতে অসুবিধা

৯। কাশির সাথে রক্ত আসা

১০। স্তনে বা শরীরের অন্য কোথাও চাকা বা পিন্ডের মতো অনুভব

এবার আমরা জানবো কারা ক্যান্সারের ঝুকিতে রয়েছে?

ফুসফুস ক্যান্সারের ঝুকিতে কারা আছে?

১। যারা ধূমপান করে বা ধূমপায়ীদের সাথে বসবাস করে।

২। যারা জর্দা, তামাক, গুল ব্যবহার করে।

৩। যারা বিষাক্ত ক্যামিকেল কারখানায় কাজ করে।

হৃদরোগ থেকে বাচতে মাংসের এসব পদ খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

জরায়ু ক্যান্সারের ঝুকিতে কারা আছে?

১। ধূমপান করে যারা

২। যৌনাঙ্গে আচিল হলে

৩। এইচ আই ভি সংক্রমণ হলে

৪। অধিক সন্তান জন্ম নিলে

স্তন ক্যান্সারের ঝুকিতে কারা আছে?

  • যাদের ওজন বেশি
  • বেশি বয়সে গর্ভধারণ করলে
  • তেল ও চর্বিযুক্ত খাদ্য বেশি খেলে
  • যাদের সন্তান হয়নি
  • সন্তানকে মায়ের দুধ না খাওয়ালে
  • পরিবারের কারো ক্যান্সারের ইতিহাস থাকলে

ডিম্বাশয়ের ক্যান্সার ঝুকিতে কারা আছে?

  • যাদের কখনো সন্তান হয়নি
  • বংশের কারো ডিম্বাশয়, স্তন ও গর্ভাশয়ের ক্যান্সার থাকলে
  • যাদের ৫০ বছর বয়সের পরে মাসিক বন্ধ হয়েছে।
  • যাদের ৩০ বছর বয়সের পরে প্রথম সন্তান হয়।
  • বদহজম ও খাদ্যব্যবস্থা

ক্যান্সার প্রতিরোধের উপায়-

১। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে।

২। হেলদি লাইফস্টাইল মেইনটেইন করতে হবে।

৩। পবিত্রতা ও প্রফুল্লতা বজায় রাখতে হবে।

৪। নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে।

৫। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

৬। দৈনিক ব্যবহারে প্লাস্টিকের বোতল বর্জন করতে হবে। ফুড গ্রেড প্লাস্টিক ম্যাটেরিয়াল কিনা সেটা দেখে নিতে হবে।

৭। তামাকজাত দ্রব্য, অ্যালকোহল ও অন্যান্য মাদকদ্রব্য বর্জন করতে হবে। রক্তের উচ্চচাপ ও খাদ্যব্যবস্থা

৮। চর্বিযুক্ত খাদ্য বর্জন করতে হবে। সর্বদা শাকসবজি ও ফলমূল খেতে হবে।

ফুস্ফুস ভালো রাখতে উপকারী উপাদান

নারীদের জন্য কিছু সাবধানতা-

১। প্রতিমাসে মাসিকের পরে নিজের স্তন নিজে চেক করা

২। বছরে একবার স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ দ্বারা চেক করা।

৩। স্তনে কোন পরিবর্তন দেখা দিলে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা

৪। মাসিকের সময়ে কোন সমস্য হলে বা মাসিকে কোন অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে।

৫। প্রতি তিন বছর পর পর একবার জরায়ুর ক্যান্সার চেক করা।

এখন আমরা ক্যান্সারের লক্ষণগুলো জেনে নিলাম। এই রোগের চিকিৎসা বেশ ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ। অস্ত্রপাচার, রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি দ্বারা ক্যান্সারের চিকিৎসা করা সম্ভব। তবে ক্যান্সার পরিপূর্ণভাবে নিরাময় করা কঠিন। এর জন্য দরকার প্রচুর মানসিক চিকিৎসা।

আরো পড়ূনঃ

গর্ভবতী মায়ের খাদ্য ব্যবস্থা

কোন খাবারে প্রোটিন বেশি

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
error: Content is protected !!

Adblock Detected

Please turn off your Adblocker.