পানীয়পুষ্টি পরামর্শস্বাস্থ্য টিপস

খালি পেটে ডাবের পানি খাওয়ার উপকারিতা

খালি পেটে ডাবের পানি খাওয়ার উপকারিতা

গরমের মৌসুম শুরু হতে চলেছে। গরম ও বেশ পড়তে শুরু করেছে। এই গরমে একটুখানি ডাবের পানি হলে কিন্তু মন্দ হয়না। ডাবের পানি স্বস্তি এনে দিতে পারে। এর কোন বিকল্প নেই। ডাবের পানি যে শুধু তৃষ্ণা মেটায় তাই নয়, ডাবের পানি আমাদের শরীরের জন্য ও খুব গুরুত্বপূর্ণ।

ডাবের পানিতে আয়রন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, জিংক, ম্যাঙ্গানিজ, ভিটামিন সি, ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স, অ্যামাইনো এসিড, অ্যান্টিওক্সিডেন্ট থাকে। এসব উপাদান আমাদের শরীর গঠনে সাহায্য করে। আর এই ডাবের পানি যদি খালি পেটে খাওয়া যায় তাহলে তো কোন কথাই নেই। খালি পেটে ডাবের পানি খেলে খুব উপকার পাওয়া যায়।

চলুন দেখে নিই ডাবের পানির পুষ্টিগুণঃ

১। শরীরকে বিষমুক্ত করে-

ডাবের পানি দেহের প্রতিটি কোণায় উপস্থিত ক্ষতিকারক টক্সিন উপাদান বের করে দিতে সাহায্য করে। এই কাজটি করতে ডাবের পানির কোন বিকল্প নেই। প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস ডাবের পানি পান করলে নানাবিধ রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। যেকোন রোগ শরীরের ধারে কাছে ঘেষতে পারে না। তাই শরীরের ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে ডাবের পানি সাহায্য করে।

২। হাড়ের স্বাস্থ্য উন্নতি করে-

ডাবের পানিতে ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়। ক্যালসিয়াম হাড়কে শক্ত করতে সাহায্য করে। হাড়ের স্বাস্থ্য উন্নত করতে ক্যালসিয়াম সাহায্য করে। ডাবের পানিতে ম্যাগনেশিয়াম পাওয়া যায় যা আমাদের দেহের স্বাস্থ্যের অনেক উন্নতি করে।

৩। কিডনির ক্ষমতা বাড়ায়-

পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম ডাবের পানিতে থাকে। ডাবের পানি কিডনির কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি ডাবের পানি শরীরে উপস্থিত টক্সিন উপাদান ইউরিনের সাথে বের করে দিতে সাহায্য করে। ফলে নানা জটিল রোগের আশঙ্কা কমে যায়।

৪। শরীর ও ত্বকের বয়স কমে যায়-

ডাবের পানিতে সাইটোকিনিস নামক উপাদান থাকে যা একটি অ্যান্টি-এজিং উপাদান। এগুলো শরীরে বয়সের ছাপ পড়তে দেয় না। পাশাপাশি ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতেও সাহায্য করে।

৫। ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণ করে-

ডাবের পানিতে অ্যামাইনো এসিড ও ডায়াটারি ফাইবার থাকে। এগুলো ইনসুলিনের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। ফলে ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। রোজার সময়ে ডায়েটে ডাবের পানি রাখতে পারেন।

৬। ওজন হ্রাস করে-

ডাবের পানিতে কিছু উপকারি এনজাইম থাকে যেগুলো হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। এসব উপাদান মেটাবলিজম উন্নত করতেও সাহায্য করে। ফলে খাবার খাওয়ার সাথে সাথেই হজম হয়ে যায়। ফলে শরীরে মেদ হয়ে জমতে পারে না। ফলে ওজন কমতে শুরু করে।

৭। পানির ঘাটতি কমে যায়-

ডাবের পানি শরীরে প্রবেশ করে পানির ঘাটতি মিটায়। এতে ইলেক্ট্রোলাইট কম্পোজিশন থাকে যা ডায়ারিয়া, বমি ও অতিরিক্ত মাত্রায় ঘামের পরে শরীরের ভিতরের খনিজ এর ঘাটতি মেটাতে সাহায্য করে।

৮। হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি করে-

শরীরের ক্ষতিকারক কোলেস্টেরল ও এল ডি এল এর পরিমাণ ও এল ডি এল এর পরিমাণ কমিয়ে হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে ডাবের পানি সাহায্য করে। দেহে কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমিয়ে হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা কমাতে সাহায্য করে ডাবের পানি।

৯। মাথার যন্ত্রণার প্রকোপ কমায়-

ডিহাইড্রেশনের জন্য মাথা ব্যথা ও মাইগ্রেনের সমস্যা দেখা দেয়। তখন খুব শ্রীঘই এক গ্লাস ডাবের পানি খেলে খুব ভালো উপকার পাওয়া যায়। প্রাকৃতিক এই উপাদানটিতে ম্যাগনেশিয়াম থাকে তাই শারীরিক বিভিন্ন সমস্যায় এটি সমাধান দিয়ে থাকে।

১০। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি-

রাইবোফ্লাবিন, নায়াসিন, থায়ামিন, পাইরোডোক্সিনের মতো উপকারি উপাদান ডাবের পানিতে অত্যাধিক পরিমাণে পাওয়া যায়। এতে অ্যান্টি- ব্যাক্টেরিয়াল ও অ্যান্টি- ভাইরাল উপাদান আছে। এগুলো আমাদেরকে সংক্রমণের হাত থেকে বাচাতে সাহায্য করে।

আরো পড়ুনঃ কাঁচা কলার পুষ্টিগুণ

শিশুদের সংক্রমণ রোধ করতে যেসব খাবার কাজ করে

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button