মামা ও শিশু

বাচ্চা নেওয়ার পূর্বে জানতে হবে কিছু কথা

গর্ভধারণের উল্লেখযোগ্য বিষয়

সাধারণত অপুষ্টিতে আক্রান্ত মায়েরা অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশু জন্ম দেয়। গর্ভবতী মা গর্ভকালীন সময়ে এবং প্রসব পরবর্তী সময়েও নানা অপুষ্টিজনিত জটিলতায় ভুগতে পারেন। তাই গর্ভধারণের পূর্বে মাকে বিভিন্ন পুষ্টিজনিত বিষয়ে সতর্ক হতে হবে। গর্ভবতী মায়ের পুষ্টি

গর্ভধারণের পূর্বে যেসব বিষয়ে সর্তক হতে হবে তা নিম্নরূপঃ

১। প্রথমে মায়ের ওজন মেপে নিতে হবে। মা যদি কৃশকায় হয় বা অতিকায় হয় তাহলে প্রথমেই তাকে তার উচ্চতা অনুযায়ী ওজনে আসতে হবে। নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। প্রতিদিন কলা খেতে হবে কেন?

২। মা যদি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয় তাহলে গর্ভধারণের পূর্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বড়ি খাওয়া বাদ দিয়ে ইনসুলিন নিতে হবে। রক্তে হিমোগ্লোবিন এ১সি এর মাত্রা যদি ৬.৫ শতাংশের কাছাকাছি হয় তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে গর্ভধারণের চেষ্টা করতে হবে।যে তিনটি পানীয় ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে

৩। মা যদি গর্ভধারণের আগে ক্যালসিয়ামের অভাবে ভুগে থাকে তাহলে তার প্রসব পরবর্তী সময়ে ক্যালসিয়ামের অভাবজনিত বিভিন্ন রোগ দেখা দিতে পারে। তাই গর্ভধারণের পূর্ব থেকেই মাকে দুধ, পনির, দই, সামুদ্রিক মাছ, সয়াবিন, আখরোট, কাঁচা বাদাম, কচু শাক, পুইশাক, ডাটা শাক, সজনে পাতা, পুদিনা পাতা, কুমড়া বীজ, সূর্যমুখী বীজ, ছোট মাছ, চিংড়ি শুটকি, ডুমুর ইত্যাদি খাওয়াতে হবে। এগুলোর পাশাপাশি মাকে হালকা রোদে বসতে হবে। যাতে মা ভিটামিন ডি গ্রহণ করতে পারে। বেশি কিসমিস খেলে কি ক্ষতি হতে পারে?

৪। গর্ভধারনের পূর্বে মা যদি আয়রনের অভাবে ভুগতে থাকে তাহলে মাকে গর্ভধারণের পূর্ব থেকেই আয়রন সমৃদ্ধ খাদ্য খাওয়াতে হবে। যাতে মা রক্তস্বল্পতায় না ভোগে। নাহলে সন্তানের ও আয়রনের অভাব হতে পারে। আয়রন সমৃদ্ধ খাদ্য হচ্ছে মাছ, মাংস, কলিজা, ডিম, কচুশাক, পুইশাক, ডাটা শাক, ফুলকপির পাতা, ছোলা শাক, ধনেপাতা, তরমুজ, খেজুর, আমড়া, পাকা তেতুল ইত্যাদি। মাকে অবশ্যই এসব খাবার দিতে হবে।

৫। গর্ভধারণের আগে থেকেই মাকে ধূমপান ও মদ্যপান থেকে বিরত থাকতে হবে।যেসব খাবার যা গর্ভাবস্থায় খাওয়া উচিত নয়

৬। যেসব মা গর্ভধারণের পূর্বে জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি খেতেন তাদেরকে গর্ভধারণের সময়ে ভিটামিন বি৬ ও ভিটামিন বি১২ সমৃদ্ধ খাদ্য খেতে হবে। ভিটামিন বি-৬ সমৃদ্ধ খাদ্য হচ্ছে চিড়া, ডাল, মটরশুটি, কলা, দুধ ও দুগধজাত খাবার, কলিজা, ডিম, গরু ও খাসির মাংস, চর্বিযুক্ত মাছ, মিষ্টি আলু, পালং শাক, গাজর ইত্যাদি।

অন্যদিকে ভিটামিন-বি ১২ সমৃদ্ধ খাদ্য হচ্ছে মাংস, কলিজা, ডিম, দুধ, দই, পনির, মাশরুম, চিংড়ি ইত্যাদি। গর্ভধারণের পূর্বে তাদেরকে অবশ্যই এসব খেতে হবে। গর্ভবতী মায়ের খাদ্য ব্যবস্থা

৭। গর্ভধারণের প্রস্তুতির সময়েই মাকে প্রতিদিন ০.৪ মিলিগ্রাম করে ফলিক অ্যাসিড খেতে হবে। শিশুর যাতে কোন ধরনের নিউরাল টিউব ডিফেক্ট ও জন্মগত ত্রুটি না হয়। ফলিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাদ্য হচ্ছে ব্রকলি, বাধাকপি, শিম, মটরশুটি, কমলা, বাতাবি লেবু, মাল্টা, তরমুজ, টমেটো, মাংস, কলিজা, বিভিন্ন শাক ইত্যাদি।

৮। গর্ভধারণের পূর্বে মা যেন দৈনিক ভিটামিন এ প্রচুর পরিমানে খায়। মায়ের দুধ পানের উপকারিতা

৯। গর্ভধারণে ইচ্ছুক মাকে ক্যাফেইন গ্রহণের ব্যাপারে সর্তক থাকতে হবে। এসময়ে চার কাপের বেশি চা এবং দুই কাপের বেশি কফি পান করা উচিত নয়।

আরো পড়ুনঃ স্তন্যদানের ক্ষেত্রে যা মাথায় রাখা উচিত

গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে করণীয়

স্তন্যদানকারী মায়ের খাদ্য

Related Articles

Back to top button
error: Content is protected !!

Adblock Detected

Please turn off your Adblocker.