মামা ও শিশু

গর্ভাবস্থায় ডিম খাওয়া নিয়ে কিছু কথা

গর্ভাবস্থায় ডিম খাওয়া কি নিরাপদ

গর্ভাবস্থায় মায়েদের খাদ্যতালিকার প্রতি বিশেষ যত্ন নিতে হয় কারণ এসময় শিশুর বিকাশের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। মায়ের নিজের সুস্থতার পাশাপাশি শিশুর সুস্থতার জন্য ও খাদ্যতালিকার উপর বিশেষ নজর রাখতে হয়। একজন গর্ভবতী মায়ের জন্য তার দৈনন্দিন খাদ্যতালিকার খাবারগুলো তার জন্য উপকারী হবে কিনা সে বিষয়ে খেয়াল রেখে নির্ধারণ করা উচিত। গর্ভাবস্থায় মাকে এমন কোন খাবার দেওয়া যাবে না যেটা তার শরীরের জন্য ক্ষতিকর হয়।

গর্ভবতী মা কি গর্ভাবস্থায় ডিম খেতে পারবে?

অনেক মায়েরা গর্ভাবস্থায় ডিম খেতে পারবেন কিনা সে বিষয়ে প্রশ্ন করে থাকেন। ডিম খাওয়ার আগে মূলত কিছু সর্তকতা মেনে ডিম খাওয়া উচিত। ডিম একটি উৎকৃষ্ট খাদ্য। এতে খনিজ পর্দাথ, ভিটামিন ও স্নেহ পর্দাথ প্রচুর পরিমাণে থাকে। গর্ভাবস্থায় ডিম খেলে মা ও শিশু এই ধরনের সকল পুষ্টি উপাদান পাবে।

গর্ভাবস্থায় সিদ্ধ ডিম খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় সবসময়। কারণ এটি ডিমে উপস্থিত যেকোন ব্যাকটেরিয়া নির্মূল করতে সক্ষম হয়। প্যাকেজিং এর তারিখ নিশ্চিত করে ডিমের অবস্থা সম্পর্কে অবগত হতে হয়। ডিম কেনার সময়ে পরিষ্কার জায়গা থেকে ডিম কেনা উচিত। তাহলে ডিম দূষিত হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।

গর্ভবতী মহিলা দিনে কয়টি ডিম খেতে পারে?

ডিম খেতে হলে কোলস্টেরলের মাত্রা চেক করে ডিম খাওয়া উচিত। কোলেস্টেরলের মাত্রা ঠিক থাকলে প্রতিদিন দুইটি করে ডিম খাওয়া যেতে পারে। প্রতিটি ডিমে প্রায় ১৮৫ মিলিগ্রাম করে কোলেস্টেরল থাকে ও শরীরের জন্য প্রতিদিন প্রায় ৩০০ মিলিগ্রাম করে প্রয়োজন হয়। তবে উচ্চ কোলেস্টেরল থাকলে ডিম জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।

এক দিনে কতটা ডিম খেতে পারবেন তার সংখ্যা নির্ধারণ করে আপনার শরীরের কোলেস্টেরলের মাত্রার উপর। শরীর সুস্থ রাখার জন্য এক মাসে কুড়ির উপর ডিমের কুসুম খাওয়া যাবে না। চিকিতসকেরা গর্ভবতী মহিলাদেরকে শুধুমাত্র ডিমের সাদা অংশ খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন সর্বদা।

ডিম সংরক্ষণ করার সঠিক নিয়ম কি?

ডিমে মূলত সালমোনেলা নামক ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ করে। ডিমকে ব্যাকটেরিয়া মুক্ত রাখতে সেগুলো সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা খুবই জরুরি।

১। ডিম সবসময় ফ্রিজে রাখতে হয়। তাহলে নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।

২। ডিম ফ্রিজে রাখার সময় অন্যান্য খাবার থেকে দূরে রাখতে হয়। ডিম কোন ট্রে বা বাক্সে রাখতে হয়। তবে যে বাক্সে ডিম বাজার থেকে কেনা হয়েছে সে বাক্সে রাখা যাবে না।

৩। ডিম অসাবধানতাবশত খোসা ভেঙ্গে যেতে পারে। সেই ডিম কখনো খাওয়া উচিত নয়। কারণ সেই ডিমে ব্যাকটেরিয়া বা ধুলাবালি প্রবেশ করতে পারে।

৪। ডিম সিদ্ধ করার তিন দিনের মাঝে ডিম খেয়ে নেওয়া উচিত।

৫। ডিমের মেয়াদ পার হওয়ার পর ডিম আর না খাওয়া উচিত।

ডিম আসল কি নকল নির্বাচন কিভাবে করবেন?

ডিম যখন বাছাই করা হবে তখন নিশ্চিত হতে হবে ডিমগুলো কি স্বাস্থ্যকর স্থানে সংরক্ষণ করা কিনা। ডিমগুলো এমন স্থানে সংরক্ষণ করা হয়েছে কিনা যেখানে ডিম দূষিত হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই।

বাইরে থেকে যেসব খাবার ক্রয় করা হয় সেসব খাবারে যদি ডিম দেওয়া থাকে তাহলে সেসব খাবার এড়িয়ে চলা উচিত কারণ ডিমের উৎস যাচাই করা যাবে না। ডিম গুলো ভালো কিনা তাও জানা যাবে না।

ডিম

ডিম কতদিন ভালো থাকে?

মূলত যেদিন ডিম পাড়া হয়েছে সেদিন থেকে আঠাশ দিনের মাঝে ডিমটি খেয়ে নেওয়া উচিত। আর সিদ্ধ ডিম সিদ্ধ করার ২-৩ দিনের মাঝে খাওয়া উচিত।

গর্ভবতী মহিলাদের জন্য কিভাবে ডিম রান্না করা যেতে পারে?

গর্ভাবস্থায় ও অন্যান্য মানুষের ডিম খাওয়ার পদ্ধতি একই রকম। ডিম রান্নার সময় যেন সালমোনেলা ব্যাকটেরিয়া মরে যায় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

ডিম রান্নার সময় একটি ডিম নিয়ে সেটি পাঁচ- সাত মিনিট সিদ্ধ করে নিন। ডিম ভাজতে গেলে ডিমের দুই পিঠই ভালো মতো ভেজে নিতে হবে। ডিমের সাদা অংশের স্বচ্ছ ভাব যতসময় চলে না যায় ততসময় ধরে ডিম ভাজতে হবে। ডিমের কুসুম যেন শক্ত হয়ে যায় এভাবে ভাজতে হবে। এভাবে ডিম ভাজতে প্রায় পাঁচ মিনিট সময় লাগে।

বাইরের ডিমযুক্ত যেকোন খাবার খাওয়ার সময় বিশেষভাবে সর্তক হতে হবে।

ডিম খাওয়ার উপকারিতা

ডিম শক্তিতে ভরপুর একটা খাদ্য উপাদান। মায়ের ও বাচ্চার জন্য ডিম একটি পুষ্টির ভালো উৎস। ডিমের পুষ্টি উপাদান গুলো শরীরের কি কি উপকার করে দেখে নেওয়া যাক-

১। মস্তিষের বিকাশঃ ডিমে কোলাইন নামক উপাদান থাকে যা শিশুর মস্তিষ্কের বৃদ্ধি ও শিশুর সামগ্রিক বিকাশে সাহায্য করে। এটি শিশুকে স্পাইনা বিফিডা ও অ্যানেনসেফালির মতো রোগ হতে বাধা প্রদান করে।

। উচ্চ প্রোটিনঃ প্রোটিন কোষের মূল গঠন করে। প্রোটিন শিশুর বিকাশে সাহায্য করে। পর্যাপ্ত পরিমাণে ডিম খেলে শিশুর স্বাস্থ্য বৃদ্ধি পায়।

৩। কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণঃ ডিম খেলে শরীরে কোলেস্টেরল এর ভারসাম্য বজায় রাখার সুযোগ থাকে। গর্ভাবস্থায় কারো যদি কোলেস্টেরলের সমস্যা থাকে তাহলে তার ডিমের কুসুম খাওয়ার প্রয়োজন নেই।

৪। ক্যালরি গ্রহণঃ একটি ডিমে প্রায় ৭০ ক্যালরি থাকে। শিশুর ও মায়ের প্রয়োজনীয় ক্যালরির একটা বিরাট অংশ এই ডিম পূরণ করতে পারে।

এছাড়াও ডিমে ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি-১২, ভিটামিন বি-২ থাকে।

গর্ভাবস্থায় ডিম খাওয়ার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

ডিম গর্ভবতী মায়েদের পুষ্টির একটি বিরাট অংশ পূরণ করে। তবুও ডিমে কিছু ঝুকি রয়েছে। তাই ডিম সঠিকভাবে খাওয়া উচিত-

1. সালমোনেলা বিষক্রিয়া

কাঁচা ডিমে সালমোনেলা নামক ব্যাকটেরিয়া বাসা বাধতে পারে। এই ব্যাকটেরিয়া খাদ্যে বিষক্রিয়া সৃষ্টি করে। ফলে বমি, ডায়ারিয়া, মাথা ব্যথা, উচ্চ জ্বর, পেট ব্যথা, ডিহাইড্রেশন হতে পারে। এসব লক্ষণ অকাল প্রসব ও গর্ভস্রাব ঘটাতে পারে। একে সালমোনেলা বিষক্রিয়া বলা হয়।

2. অন্যান্য ঝুঁকি

কোন গর্ভবতী মহিলার আগেই যদি কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি থাকে তাহলে ডিমের কুসুম খেলে যেকোন অসুবিধা হতে পারে। ডিম খাওয়ার কারণে ত্বকের ফুসকুড়ি, এলার্জি, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া ইত্যাদি হতে পারে।

ডিম খাওয়া মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ এড়ানোর জন্য পরামর্শ

১। হাত পরিষ্কার করে ধুয়ে নিতে হবে।

২। অন্যান্য থালা বাসন বা খাদ্য দ্রবের উপর কাঁচা ডিম ফেলা যাবে না।

৩। ডিম অন্য কোন খাবারের সাথে রাখা যাবে না।

৪। গরম সাবান জল দ্বারা পরিষ্কার পাত্র ব্যবহার করতে হবে।

৫। রান্না শেষ হওয়ার পর রান্না ঘর ও বাসন পরিষ্কার করে ধুয়ে ফেলা উচিত।

আরো পড়ূনঃ

যেসব খাবার যা গর্ভাবস্থায় খাওয়া উচিত নয়

গর্ভাবস্থায় কিসমিস খাওয়া উপকারী না অপকারী?

খাটি মধু চেনায় উপায়

গর্ভাবস্থায় যা করণীয়

কাঁচা পেপে গর্ভপাতের ঝুকি বাড়ায়

মায়ের বুকের দুধ বৃদ্ধির উপাকারী খাদ্য

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
error: Content is protected !!

Adblock Detected

Please turn off your Adblocker.