মামা ও শিশু

গর্ভাবস্থায় যা করণীয়

গর্ভাবস্থায় করণীয়

গর্ভাবস্থা খুবই জটিল একটি অবস্থা। অনেক সময় দেখা যায় কিছু দম্পতি খুবই তাড়াতাড়ি গর্ভধারণ করে আবার কিছু দম্পতি অনেক সময় পর যেয়ে গর্ভধারণ করে। যখনই গর্ভধারণ করা হোক না কেন সবচেয়ে প্রথমে খেয়াল রাখতে হবে একটা সুস্থ গর্ভাবস্থা। এজন্য নিজেকে মানসিক ও শারীরিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে। প্রি- কন্সেপশন প্ল্যানিং করতে হবে স্বামী ও স্ত্রীর মাঝে। এতে একটা সুস্থ গর্ভাবস্থা নিশ্চিত করা যায়। গর্ভাবস্থায় কিছু বিষয়ের দিকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হয়। যেমন-

নিয়মিত চেক- আপ করা-

প্রি- প্রেগন্যান্সি টেস্ট স্বাস্থ্য সংক্রান্ত যেকোন জটিলতা নির্ধারণ করে। এটি গর্ভধারণের সম্ভাবনায় প্রভাব ফেলতে পারে এমন বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে সাহায্য করে। নিজের ও বাচ্চার সুস্থতা ও গর্ভধারণ নিশ্চিত করতে মেডিকেল চেক-আপের খুব বেশি প্রয়োজন রয়েছে।

খাবার ওষুধের ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে-

যেকোন শারীরিক সমস্যা যেমন- সর্দি, কাশী ও মানসিক উদ্বেগের সমস্যা হলে যেসব ওষুধ খাওয়া হয় ও যেসব ভেষজ ওষুধ খাওয়া হয় সেগুলো নিয়ে পর্যালোচনা করা উচিত। সবসময় যেকোন ওষুধ খাওয়ার আগে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করতে হয় কারণ ওষুধে থাকা উপাদানগুলো গর্ভাবস্থায় খাওয়া সঠিক নাও হতে পারে।

সুস্থ জীবনধারা বজায় রাখতে হবে-

গর্ভাবস্থায় একটি সুস্থ জীবনধারা মেনে চলতে হবে। গর্ভাবস্থায় পর্যাপ্ত ঘুমাতে হবে। ধূমপান ও মদ্যপান করা যাবে না। গর্ভাবস্থায় ও বাচ্চা জন্ম নেওয়ার পরে মা ও শিশুর সুস্থতার জন্য সুস্থ জীবনধারা মেনে চলতে হবে। এইসময় দিনে অন্তত ৮-৯ ঘণ্টা ঘুমাতে হবে।

ব্যায়াম করতে হবে-

গর্ভাবস্থায় ও আগে নিয়মিত ব্যায়াম করা উচিত। কঠোর শরীরচর্চা করার কোন প্রয়োজন নেই। হালকা পাতলা ব্যায়াম করতে হবে যাতে শরীর সক্রিয় থাকে।

সুষম খাদ্য গ্রহণ করতে হবে-

শরীরের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটানোর জন্য শুধু মাল্টিভিটামিনের উপর নির্ভর করলেই হয় না সাথে কিছু স্বাস্থ্যসম্মত ও পুষ্টিকর খাদ্য ও গ্রহণ করতে হয়। গর্ভাবস্থার পরিকল্পনা করার সময় ডায়েটে কিছু পুষ্টিকর খাদ্য যোগ করতে হবে। জাংক ফুড এসময় বাদ দেওয়া উচিত। খুব বেশি চর্বিযুক্ত খাদ্য গ্রহণ করা যাবে না। পাকা ফল, শাক সবজি ও স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য খেতে হবে।

মাল্টিভিটামিন যোগ করুন

গর্ভাবস্থায় একজন নারীর জীবনে অনেক পরিবর্তন আসে। ফলে এসময়টা এতোটাও সহজ না। এসময় বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। ফলে সুস্থ ও ফিটা থাকার জন্য পুষ্টি চাহিদার যোগান দিতে হয়। ফলে এসময় মাল্টি ভিটামিন গ্রহণ করতে হবে। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী মাল্টিভিটামিন ও ফলিক অ্যাসিড গ্রহণ করতে হবে। তাহলে শিশু বৃদ্ধি পাবে।

ওজন নিয়ন্ত্রনে রাখতে হবে-

গর্ভাবস্থায় ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখাতে হবে। বডি মাস ইনডেক্স অনুযায়ী ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। কারণ গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত ওজন সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। গর্ভবতী মহিলার যদি উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের সমস্যা থাকে তাহলে ওজন নিয়েও নানা সমস্যায় ভুগতে হতে পারে। এসময় ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী নিজের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

আরো পড়ুনঃ

শিশুকে কলিজা খাওয়ানোর গুরুত্ব

ছোট সোনামণিদের ত্বকের যত্ন

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
error: Content is protected !!

Adblock Detected

Please turn off your Adblocker.