আউটডোর প্ল্যান্টইনডোর প্ল্যান্টপ্ল্যান্টিং

গাছের পোকা ও পিপড়া দূর করার উপায়

গাছের পোকা ও পিপড়া দমন

ইট কাঠের এই শহরে একটুখানি সবুজের ছোয়া পেতে অনেকেই এখন বাসার বারান্দা ও ছাদে গাছ লাগায়। করোনার এই লকডাউনের সময় মানুষ গাছের পরিচর্যা করতে কিছুটা সময় পেয়েছে। গাছে শুধুমাত্র পানি ও সার দিলেই হবে না। গাছগুলোতে পোকা আক্রমণ করছে কিনা সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

গাছের পোকা গাছের ছোট ছোট পাতা খেয়ে ফেলে। আবার গাছের গোড়ায় পিপড়া আক্রমণ করে। এতে সমস্ত গাছেরই ক্ষতি হতে দেখা যায়। গাছের পোকা ও পিপড়া দমন করতে বাজার থেকে বিভিন্ন কীটনাশক কিনে ব্যবহার করা যায়। কিন্তু যেহেতু এখন লকডাউনে ইচ্ছে করলেই ঘর থেকে বের হওয়া যাচ্ছে না। তাই বাড়িতেই বানিয়ে নেওয়া যেতে পারে ঘরোয়া কীটনাশক।

যেমন-

১। লেবুঃ লেবুর রসের সাথে পানি মিশিয়ে গাছের ডাল ও পাতাতে স্প্রে করতে হবে। সপ্তাহে দুইদিন গাছে লেবু পানি স্প্রে করে দিলে গাছ পোকা ও পিঁপড়ার আক্রমণ থেকে রক্ষা পাবে।

২। সাবান পানিঃ ৪ কাপ পানিতে ৫ টেবিল চামচ বাসন মাজার লিকুইড সাবান দিয়ে বোতলে করে স্প্রে করে সাছে দিতে হবে। এতে পোকার ডিহাইড্রেশন দেখা দিবে। ফলে পোকা আর গাছে থাকতে পারবে না।

৩। রসুনঃ গাছে পোকা লাগলে রসুন দিলে খুব ভালো কাজ হয়। পোকামাকড় রসুনের গন্ধ সহ্য করতে পারে না। তাই পোকামাকড় এড়াতে গাছের গোড়ায় রসুনের কোয়া রেখে দিতে হবে। এতে গাছের গোড়ায় কোন পোকামাকড় আসতে পারবে না।

৪। শুকনো মরিচঃ ২ টেবিল চামচ শুকনো মরিচ, ৬-৭ ফোটা সাবান পানি ও ৩ লিটার পানি দিয়ে একটি মিশ্রণ বানাতে হবে। আই মিশ্রণ বার বার স্প্রে করতে হবে গাছের গোড়ায়। শুকনো মরিচ ছাড়া কাঁচা মরিচ, আদা বা পাপরিকা পাউডার ও ব্যবহার করা যেতে পারে। এগুলো পোকা ও পিপড়া তাড়াতে খুব ভালো কাজ করে।

গাছের পাতায় পোকা

৫। ডিটারজেন্টঃ অল্প পানিতে ডিটারজেন্ট ভালো মতো গুলিয়ে গাছের পাতায় স্প্রে করতে হবে। এই কাজটি বিকালে করলে ভালো হয়। পরদিন সকালে পানি দিয়ে গাছের পাতা মুছে ফেলতে মুছে ফেলতে হবে। এভাবে ৪/৫ বার মাসে ডিটারজেন্ট পানি দিলে গাছের পোকা ও পিপড়া দূর হয়।

৬। নিম তেলঃ নিম তেল একটি প্রাচীন ভেষজ। এটি দিয়ে পোকামাকড়া ও পিপড়া দূর করা যায়। আবার গাছে ছত্রাক লাগলেও এটি দ্বারা দূর করা যায়। একটি বোতলে নিম তেল ভরে গাছে স্প্রে করতে হবে।

নিম কীটনাশকের কয়েকটি প্রকরণ আছে। যেমন-

নিম কীটনাশক- ০১

উপকরণঃ নিমপাতা, কর্পূর, কাচাহলুদ, ছাল, ডাল।

তৈরীর পদ্ধতিঃ নিমপাতা, ছাল ও ডাল একটি পাত্রতে রেখে তার মাঝে পরিমাণ মতো কাঁচা হলুদ ও অল্প একটু কর্পূর দিয়ে জ্বাল করতে হবে। এই পানি চায়ের লিকারের মতো ফুটে গেলে একদিন রেখে দিতে হবে।

এক লিটার পানিতে পাঁচ মিঃলিঃ নিম তেল ইশিয়ে গাছের পাতায় স্প্রে করতে হবে। এতে সব ধরনের পোকা দূর করা যায়। সাতদিন পর পর এই কাজটি করতে হবে। এটি যেহেতু জৈব কীটনাশক তাই কোন ধরনের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এটি ব্যবহারের পর বোতলে সংরক্ষণ করা যায়।

নিম কীটনাশক-০২

উপকরণঃ নিমপাতা, কাঁচা রসুন

তৈরীর পদ্ধতিঃ নিমপাতার মাঝে তিন টুকরা কাঁচা রসুন দিতে হবে। এক লিটার পানি দিয়ে ভালো মতো জ্বাল করে নিতে হবে। ঘন হয়ে এলে নামিয়ে ঠান্ডা করে সরাসরি বা পানি মিশিয়ে গাছের পাতায় স্প্রে করা যেতে পারে।

নিম কীটনাশক-০৩

উপকরণঃ এক লিটার পানি, পাঁচ গ্রাম লিকুইড সাবান, ২০০ গ্রাম নিমপাতা।

তৈরীর পদ্ধতিঃ কাঁচা নিমপাতা এক লিটার পানিতে ভিজিয়ে ১২ ঘণ্টা রাখতে হবে। পানি থেকে নিমপাতা তুলে নিতে হবে। এ পাতা বেটে পেস্ট বানিয়ে আগের মতো পানিতে মিশাতে হবে। পানির মাঝে কিছুটা তরল সাবান মিশিয়ে নিতে হবে।

এ পানি আগের পানিতে মিশিয়ে নিতে হবে। তাহলেই হয়ে গেল জৈব কীটনাশক। সন্ধ্যার পরে এই কীটনাশক স্প্রে করতে হবে।সূর্যের আলোতে নিম কীটনাশক ভালো কাজ করে না। এই বর্ষাকালে যেহেতু ঘন ঘন বৃষ্টি হয় তাই ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি। তাই সবসময় নজর রাখতে হবে গাছের গোঁড়ায় যেন পানি জমে না থাকে। কিছু সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। যেমন-

  • টবের ট্রেতে যেন পানি জমে না থাকে।
  • পানি জমলে ফেলে দিতে হবে।
  • আগাছা পরিষ্কার করতে হবে।
  • প্রয়োজন মতো গাছের ডাল পালা ছেটে দিতে হবে।

গাছের গোড়ায় পানি জমলে গাছ মরে যায়। তাই কখনো পানি জমতে দেওয়া যাবে না। গাছের গোড়ায় সবজির খোসা, মাছের আশ, টি ব্যাগ দিয়ে সার বানিয়ে দেওয়া যেতে পারে।

আরো পড়ুনঃ


Related Articles

Back to top button
error: Content is protected !!

Adblock Detected

Please turn off your Adblocker.