আউটডোর প্ল্যান্টইনডোর প্ল্যান্টপ্ল্যান্টিং

কি দেখে গাছের চারা কিনবেন ?

গাছের চারা নির্বাচনে বিবেচ্য বিষয়

আমাদের একেক জনের যেমন একেকটা ঋতু বেশি পছন্দ। কিন্তু গাছ দের যদি জানতে চাওয়া যেত তাদের কোন ঋতু বেশি পছন্দ তাহলে মনে হয় তারা সবাই একত্রে বলে উঠতো তাদের প্রিয় ঋতু বর্ষাকাল। প্রকৃতি সবসময় প্রতিবছরই বর্ষাকাল নিয়ে আসে গাছদের জন্য।

এই বর্ষাকালে গাছেরা যেন জীবন ফিরে পায়। বৃষ্টির পানির ছোয়ায় তারা হয়ে উঠে সবুজ ও সতেজ। ফল দেওয়ার পর তারা যেন এই সময়ে একটু বিশ্রাম নেয়। চারা গাছগুলো যেন আকাশ ছোয়ার স্বপ্ন দেখতে থাকে।

গ্রীষ্মের খরায় প্রকৃতি হয়ে উঠে একদম মলিন ও রুক্ষ্ণ। কিন্তু বর্ষায় বৃষ্টির ছোয়া পেতে না পেতেই যেন তারা হয়ে উঠে সতেজ। গাছের চারা রোপণের শ্রেষ্ঠ সময় যেন এই বর্ষাকাল।

আমরা সর্বদাই জেনে থাকি যে একটি ভালো চারা থেকেই একটি ভালো গাছ হয়। তাই চারা রোপণের আগে ভালো মতো বুঝে নিতে হবে চারাটি ভালো কিনা। তাই চারা সংগ্রহের আগে তার বৃদ্ধি ও ফলন দেখে নিতে হবে।

চারা সংগ্রহ করতে গেলে আমরা সবসময় একটি ভালো চারা খুজে থাকি। গাছের সাথে যদি ফুল ও ফল পেয়ে যায় তাহলে তো কোন কথাই নেই। সবসময় আমরা ভাবি গাছ তো টাকা দিয়ে কিনবো তাহলে ছোট গাছ কেন কিনবো তাই সবসময় আমরা বড় গাছ খুজে থাকি।

আবার যদি গাছ বিক্রেতা গাছের দাম কিছুটা কম রাখে তাহলে তো আরো খুশি। আর এই বিষয়টি গাছ বিক্রেতারা সবাই বুঝেন। তাই তারা হাসিমুখে বড় দেখতে একটি গাছ দিয়ে দেয়।

মূলত চারাটি কেনার সময় আমরা কখনোই ভাবি না চারাটির শিকড় মাটির নিচে গেছিলো কিনা বা মাটি থেকে উঠানোর সময় শিকড় ছিড়ে গেল কিনা। চারাটি ভালো জাতের কিনা কিছুই খুজি না।

সবসময় বাসার পাশের একটা ভালো ও বিষ্বস্ত নার্সারি থেকে গাছ কেনার চেষ্টা করতে হয়। তাহলে ঠকার সম্ভাবনা কম থাকে। কাছাকাছি কোন নার্সারি থেকে গাছ নিলে তা আবার আনতেও সুবিধা হয়। ফলে চারার উপর চাপও কম পড়ে।

আমাদের অনেকসময় দেখা যায় নার্সারি থেকে একটা ভালো দেখে গাছ কিনে আনার পর গাছটি নেতিয়ে যাচ্ছে। আস্তে আস্তে মারাই গেল। আবার ফুল, ফল ধরা গাছ বাড়িতে এনে লাগানোর পর গাছটির ফুলগুলো হওয়ার পর আর ফুল হলোই না বা ফল গাছ থেকে ঝরে গেল। তাই গাছ কেনার আগে আমাদেরকে একটি সঠিক গাছ বাছাই করতে হবে।

কি কি দেখে গাছের চারা কিনবেন তা অনেকেই জানতে চান। নার্সারিতে গিয়ে প্রথমেই খেয়াল রাখতে হবে গাছগুলো সব ভালো করে সাজানো আছে কিনা। তাহলে ধরে নেওয়া যায় বিক্রেতা খব যত্নবান এবং এখান থেকে গাছ নিলে খুব ভালো গাছ পাওয়া যাবে। আবার যদি গাছের পাতা হলুদ হয়। শুকনো হয় ও গাছের নিচে অনেক আগাছা থাকে তাহলে ধরে নিতে হবে গাছ গুলো তেমন ভালো হবে না।

গাছের নার্সারীতে চারাগাছ

এবার আসুন জেনে নিই আরো কি কি বিষয় দেখে গাছ কিনতে হবে?

১। আমি গাছটি কিনে এনে কোথায় রাখবো অর্থাৎ আমার ছাদে, বারন্দায় বা বেলকনিতে কোথায় গাছটি রাখবো তা আগে নির্বাচন করতে হবে। সেই জায়গাটিতে পর্যাপ্ত আলো বাতাস পায় কিনা। প্রতিটি গাছের রোদের চাহিদা আলাদা তাই গাছটিকে কতোসময় রোদে রাখা যাবে। সব সময় গাছটি রোদে রাখা যাবে কিনা। গাছ কেনার সময় বিক্রেতাকে জিজ্ঞেস করতে হবে গাছটির জন্য কতোটা রোদের প্রয়োজন? আবার যদি ইনডোর প্ল্যান্ট হয় তাহলে কতসময় আলো লাগলেই গাছটি ভালোভাবে বাচবে তা জেনে নিতে হবে।

২। গাছ কেনার সময় আমরা সাধারণত যেসব গাছে ফুল, ফল ও কুড়ি ধরে আছে সেসব গাছ কিনে আনি। মূলত এসব গাছগুলো ছোট ছোট কাটিং করে হরমোন প্রদাব করে তৈরী করা হয়। ফলে এসব গাছ বাসায় আনার পরেই আস্তে আস্তে গাছের ফুল, ফল ও কুড়ি ঝরে যেতে থাকে। তাই আমাদের চারা কেনার সময় ফুল, ফল ও কুড়িযুক্ত চারাগাছ না কেনাই ভালো।

৩। একান্তই যদি ফুল, ফল ওয়ালা গাছ কিনতে হয় তাহলে বাসায় আসার পর গাছের ফুল, ফল কেটে দিতে হবে। কারণ গাছে যদি এসব ফুল, ফল থাকে তাহলে গাছ এসবের ভার বহন করতে না পেরে ঝিমিয়ে যাবে। ধীরে ধীরে গাছ মরেও যাবে। গাছের নির্দিষ্ট পরিপক্ক বয়স হলে গাছ একাই ফুল, ফল দিবে। ততদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করাই ভালো।

৪। গাছ কেনার জন্য নার্সারিতে গেলে সাধারণত অনেক গুলো গাছ দেখতে পাওয়া যায়। ফুল, ফল ওয়াল গাছ না কিনে সবসময় লক্ষ্য রাখতে হবে যেসব গাছ দেখতে পরিপক্ক সেসব গাছ কেনা উচিত। যেসব গাছে অনেক গুলো শাখা-প্রশাখা আছে সেসব গাছ কিনতে হবে। একটা ডাল আছে এমন গাছ কেনা উচিত নয়।

৫। গাছ কেনার সময় গাছের পাতা ও ডাল খুব ভালোভাবে দেখে নিতে হবে। পাতা ও ডালে কোনপ্রকার ছত্রাক আক্রমণ করা আছে কিনা। কোন পাতা কুকরে আছে কিনা, পাতাতে কোন ছেড়া আছে কিনা, পাতাতে ছিটা ছিটা দাগ আছে কিনা। আবার ডাল ভাংগা আছে কিনা এসব দেখে একটা চারা কিনতে হবে। সব দিকে মাথায় রেখে একটা সুস্থ সবল গাছ বাছাই করতে হবে।

৬। যেসব গাছের গোড়ায় আগাছা আছে খুব সেসব গাছ কিনবেন না কখনোই। কারণ অনেকদিনের অযত্নের ফলেই গাছের গোড়ায় এতো আগাছা জন্মেছে। এসব আগাছা গাছের পুষ্টি খেয়ে ফেলে। ফলে গাছ সবল হতে পারে না। এসব গাছে পুষ্টি খুব কম আছে বললেই চলে। তাই এসব গাছ না কেনাই ভালো।

৭। গাছ কেনার সময় শুধু উপর থেকে গাছ দেখলেই হবে না। নিচু করে গাছের শিকড় দেখতে হবে। গ্রো ব্যাগ, মাটির টব যেসব জায়গাতেই গাছ লাগানো আছে তার শিকড় যদি খুব বের হয়ে থাকে তাহলে সেসব গাছ না কেনাই ভালো। কারণ এসব গাছ বাসায় এনে লাগাতে গেলে শিকড় ছিড়ে যেতে পারে। ফলে গাছটি মারাও যেতে পারে। তাই শিকড় বাড়ন্ত গাছ না কেনাই উচিত।

৮। গাছ কেনার সময় বেশি বড় গাছ কেনা উচিত নয়। কারণ বড় গাছ নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে পারে কম। ছোট গাছ বাসায় এনে লাগাতেও সুবিধা আবার এসব গাছ বেঁচে যাওয়ার ও সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই গাছ কিনতে হলে ২.৫- ৩ ফুটের মতো গাছ কিনতে হবে।

৯। ফলের চারা কেনার সময় দেখতে হবে চারা যেন বীজ থেকে তৈরী করা না হয় । কারণ বীজের চারা থেকে বেশি ভালো ফলন আশা করা যাবে না। তাই বীজের চারাকে যেন কলম বা গ্রাফটিং বলে চালিয়ে না দিতে পারে।

১০। বর্তমানে অনেক ধরনের উন্নত ভ্যারাইটির গাছ পাওয়া যায়। যাতে অল্প দিনে অনেক ফুল হয়। অনেক ফুল ফুটে আছে এস্মন চারা না কিনে যাতে অনেক কলি আছে এমন চারা কিনতে পারেন।

আরো পড়ুনঃ

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
error: Content is protected !!

Adblock Detected

Please turn off your Adblocker.