অন্যান্যরোগতত্ত্ব

গ্যাস্ট্রিক বা গ্যাসট্রাইটিস রোগের উপশম

গ্যাস্ট্রিক থেকে মুক্তির উপায়

পাকস্থলীর আবরক কলায় প্রদাহ ও স্ফীতি হলে যে অবস্থার সৃষ্টি হয় তাকে গ্যাস্ট্রিক বা গ্যাসট্রাইটিস বলে। যেসমস্ত কারণে গ্যাসট্রাইটিস হয় এবং এর উপশম নিচে বর্ণনা করা হলোঃ

১। দূষিত খাদ্য, মদ এবং বিশেষ কতগুলি ওষুধ যেমন এসপিরিন ইত্যাদি গ্রহণ করতে থাকলে এবং তা পাকস্থলীর আবরক কলায় সরাসরি উত্তেজনার সৃষ্টি করতে সক্ষম হলে।

২। ইনফ্লুয়েঞ্জা, নিউমোনিয়া ইত্যাদি রোগে দীর্ঘদিন ভুগতে থাকলে ব্যাকটেরিয়াজাত বিষ রক্ত দ্বারা বাহিত হয়ে পাকস্থলিতে পৌছালে।

৩। কোন বিশেষ খাদ্যের প্রতি রোগীর এর্লাজি থাকলে এবং সেই খাদ্য গ্রহণ করলে।

লক্ষণঃ বমি বমি ভাব, ক্ষুদামন্দা, অস্বস্তি, বুকজ্বালা, পরে ক্রমাগত বমি হওয়া ও ডায়রিয়া হওয়া গ্যাসট্রাইটিস এর লক্ষণ। গ্যাসট্রাইটিস হলে এনিমিয়া বিশেষ করে পার্নিশিয়াস এনিমিয়া দেখা দেয়। অত্যাধিক বমি ও ডায়রিয়া হলে দেহে পানির পরিমাণ কমে গিয়ে শুষ্কতা দেখা দেয়।

গ্যাসট্রাইটিস দুই রকমের হতে পারে। যথাঃ ১। তীব্র গ্যাসট্রাইটিস

২। দীর্ঘমেয়াদী গ্যাসট্রাইটিস

তীব্র গ্যাসট্রাইটিসঃ অধিক মদ, এসপিরিন জাতীয় বেদনাদায়ক ওষুধ ইত্যাদি ক্রমাগত গ্রহণ করতে থাকলে তীব্র গ্যাসট্রাইটিস হতে পারে। বমি বমি ভাব, পেটে ব্যথা এবং বমি হওয়া এই রোগের লক্ষণ।

এরকম হলে পাকস্থলীর গহ্বর ধৌত করার জন্য ব্যবস্থা নিতে হয়। এছাড়া এন্টিবায়োটিক দেয়ার দরকার এবং বিশেষ বিষাক্ততার কারণে এমন হলে তার জন্য এন্টিডোট ব্যাবহার করতে হয়। অন্তত ২৪-৪৮ ঘণ্টা কোন রকম শক্ত খাবার দেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। বমি হলে শরীর থেকে অনেক পানি বের হয়ে যাওয়ায় শুষ্কতা দেখা যায় এই কারণে স্যালাইন দেওয়া দরকার হয়।প্রথম দিন ডাবের রস, ফলের রস ও স্যালাইন ১ ঘণ্টা পরপর দিতে হয়। অবস্থা ভালো হলে ২ ঘণ্টা পর দুধ বার্লি দেওয়া যায়। দুদিন পর পরীজ, সুজি, নরম ভাত ইত্যাদি দিয়ে পথ্য দেওয়া যায়।

দীর্ঘমেয়াদী গ্যাসট্রাইটিসঃদীর্ঘদিন যাবত পাকস্থলীর আবরক কলায় প্রদাহ এবং স্ফীতি থাকলে তাকে দীর্ঘমেয়াদী গ্যাসট্রাইটিস বলে। এ অবস্থায় রোগী ক্ষুদাহীনতা, পেটব্যথা ও অস্বস্তিতে ভুগতে থাকে। এ ধরনের গ্যাসট্রাইটিস হওয়ার পিছডঃনে সাধারণত খারাপ খাদ্যাভ্যাস, মদ্যপান অথবা ধূমপানের অভ্যাস থাকতে দেখা যায়। রোগের সঠিক কারণ নির্ণয় করে সেটিকে দূর করতে হবে। প্রদাহযুক্ত আবরক কলার যেন বিশ্রাম হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সেভাবে খাদ্যব্যবস্থা করতে হবে। তীব্র গ্যাসট্রাইটিস এর মত এক্ষেত্রে সাধারণত তরল খাদ্য দেওয়া যেতে পারে। তবে দীর্ঘকাল রোগে ভুগতে থাকায় রোগী যেন অপুষ্টিতে না ভোগে সেজন্য ভিটামিন ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান বহুল খাদ্য প্রস্তুত করা দরকার। চিকিৎসার প্রথম দিন ময়দা অথবা চালের গুড়া , দুধ দিয়ে পাতলা করে জাউয়ের মতো রান্না করে প্রতি ২ ঘণ্টা অন্তর অন্তর রোগীকে খাওয়াতে হবে। এর সাথে পানি ওচিনি মিশিয়ে কমলার রস দিনে ২ গ্লাস খাওয়ানো ভালো। ২য় দিনে উপরোক্ত খাদ্যের সাথে দুধের পুডিং ও পাউরুটির নরম অংশ দেওয়া যায়। তৃতীয় দিন হতে পরবর্তী কয়েক দিন উল্লেখিত সকল তরল খাদ্যের সাথে মুরগির স্যুপ, সবজি, বিস্কুট, আশবিহীন ফল যেমন পেপে, কলা, আম ইত্যাদি দেওয়া যেতে পারে। এভাবে কিছুদিন খাওয়ার পর সুস্থ হওয়ার সাথে সাথে পরিবারের সাধারণ খাদ্য ব্যবস্থায় ফিরে আসতে পারবে। তবে মশলা, পিয়াজ, রসুন, কড়া চা এবং কফি ও ভাজা খাদ্য অনেকদিন পর্যন্ত পরিহার করতে হবে। মদ্যপান ও ধুমপান থেকেও সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে।

আরো পড়ুনঃ

কিডনি এবং পাকস্থলী সুস্থ রাখার উপায়

কোলাইটিসের প্রতিকার

আর্থ্রাইটিসে ভুগছেন? জেনে নিন সমাধান

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
error: Content is protected !!

Adblock Detected

Please turn off your Adblocker.