চুলের যত্নরূপচর্চা

ঘন ও লম্বা চুল পেতে করণীয়

ঘন ও লম্বা চুল পেতে করণীয়

বাঙালি নারী মানেই লম্বা চুল। নারীদের সৌর্ন্দয বৃদ্ধির জন্য সুন্দর ও লম্বা চুলের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। ঘন ও লম্বা চুল প্রতিটি মানুষের কাছেই খুব বেশি ভালো লাগে। বিজ্ঞানীদের মতে, প্রতিদিন প্রায় ০.৩ মি. মি. থেকে ০. ৫ মি. মি. পর্যন্ত লম্বা হয়। ১ থেকে ১. ৫ সে. মি. পর্যন্ত চুল লম্বা হয় প্রতি মাসে। এক বছরে ১২- ১৫ সেমি পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে।

মানবদেহে দ্রুত লম্বা হওয়া টিস্যুর মাঝে চুল দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। জন্মগতভাবেই কারো কারো চুল খুব লম্বা আবার কারো কারো চুল বেশ পাতলা। এই পাতলা চুল কয়েকভাবে পরিবর্তন করা যায়। চুল বৃদ্ধি না পাওয়ার কারণ জানবো ও চুল বৃদ্ধির উপায় জানবো আজ।

চুল বৃদ্ধি না পাওয়ার কারণ-

কিছু কিছু কারণে চুলের গ্রোথ ঠিকভাবে হয় না। এখন সেসব বিষয় সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক-

১। বংশগত

২। থাইরয়েডের সমস্যা

৩। বয়স

৪। অতিরিক্ত মাত্রায় স্ট্রেস

৫। পুষ্টিহীনতা

৬। হরমোনাল পরিবর্তন

৭। অতিরিক্ত ক্যামিকেল গ্রহণ ইত্যাদি।

আরো দেখুনঃ বর্ষায় চুলের যত্ন

ঘন ও লম্বা চুল পাওয়ার উপায়

কাচির প্রয়োজন –

চুল ছোট রাখতে হলে সবসময় চুল কেটে ছেটে ছোট রাখতে হয়। কিন্তু আমরা তো এখন লম্বা চুলের কথা বলছি। তাহলে কাচি দ্বারা কি করবেন? মূলত চুল লম্বা ও স্বাস্থোজ্জ্বল রাখতে চাইলে নিয়মিত চুল ট্রিম করার প্রয়োজন রয়েছে। আগা ফাটা চুল, ভঙ্গুর ও ক্ষতিগ্রস্ত চুল ভালো রাখতে চাইলে চুলের আগা নিয়মিত ছেটে ফেলতে হবে।

কন্ডিশনার ব্যবহার করতে হবে-

একটা ভ্রান্ত ধারণা আছে, যত বেশি সময় চুলে কন্ডিশনার রাখা যাবে, তত বেশি চুল সিল্কি হবে। তবে ধারণাটি সম্পূর্ণভাবেই ভ্রান্ত। আবার অনেকের ধারণা, কন্ডিশনার শুধুমাত্র রুক্ষ, শুষ্ক চুলের জন্য। এটিও ভুল ধারণা। সব ধরনের চুলের জন্যই কন্ডিশনার ব্যবহার করা প্রয়োজন। শ্যাম্পু করার পরে চুলে অবশ্যই কন্ডিশনার ব্যবহার করতে হবে। ৩-৫ মিনিট চুলে কন্ডিশনার রাখা যাবে। চুলের চাহিদা ও ধরন বুঝে চুলে কন্ডিশনার ব্যবহার করতে হবে।

চুলে প্রাকৃতিক উপাদানের ব্যবহার

কিছু প্রাকৃতিক উপাদান সরাসরি মাথার তালুতে ব্যবহার করতে হয়। অ্যালোভেরা, হেনা, শিকাকাই, আপেল সিডার ভিনেগার, আমলকি, নারকেলের দুধ চুলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো স্ক্যাল্পে পুষ্টি জোগায় ও চুল পড়া রোধ করে। এসবের পাশাপাশি এগুলো উপাদান আমাদের চুল দ্রুত লম্বা করতে সাহায্য করে।

নিয়মিত হেয়ার অয়েল ম্যাসাজ-

চুলে তেল দেওয়া নিয়ে অনেকেরই কোন আগ্রহ নেই। চুলের গ্রোথের জন্য চুলের গোড়ায় পর্যাপ্ত পরিমাণে পুষ্টি পেতে হবে। গরম তেল মাথার তালুতে ভালোমতো ম্যাসাজ করতে হবে। এটি মাথার ত্বকের রক্তপ্রবাহ সচল রাখে। এছাড়াও চুলের গোড়ায় তেল মালিশ করলে চুল খুব দ্রুত লম্বা হয়। তেল চুলের হেয়ার ফলিকলকে উদ্দীপিত করতে সাহায্য করে। তেল ম্যাসাজ করলে চুলের গোড়া মজবুত হওয়ার পাশাপাশি চুল কোমল হতে সাহায্য করে। তাই সপ্তাহে ২/৩ দিন চুলে খাটি নারকেল তেল ম্যাসাজ করতে হবে। নারকেল তেলের সাথে কয়েক ফোটা ক্যাস্টর তেল মিশিয়ে দিতে হবে।

বালিশের কভার পরিবর্তন

চুল লম্বা করতে হলে একটা অজানা বিষয় জানতে হবে। চুল দ্রুত লম্বা করতে চাইলে বালিশের কভার পরিবর্তন করতে হবে। সুতি কভারের পরিবর্তে সিল্ক বা সাটিন কাপড়ের কভার ব্যবহার করতে হবে। সিল্ক কাপড় সুতি কাপড় থেকে বেশি নরম। সুতি কাপড়ের কভারে চুলে বেশি ঘর্ষণ লাগে। ফলে চুলের গোড়া নরম করে দেয় এবং চুল বেশি পড়তে থাকে। সিল্কের কাপড়ে এজন্য চুল কম পড়ে।

চুলকে নিঃশ্বাস নিতে দিতে হবে-

চুল প্রতিনিয়ত টাইট করে বেধে রাখা বাদ দিতে হবে। টাইট করে বেধে রাখলে চুল দূর্বল হয়ে পড়ে। ভেজা চুল বেধে রাখা যাবে না। তাহলে চুলে মাইক্রোবিয়াল ইনফেকশন হতে পারে। রোদে যেতে হলে চুল ঢেকে বের হতে হবে। নাহলে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্নি চুলের ক্ষতি করতে পারে।

অ্যালোভেরা হেয়ার প্যাক বানিয়ে নিন

চুল বৃদ্ধির জন্য সপ্তাহে ১/২ দিন হেয়ার প্যাক ব্যবহার করতে হবে। কয়েক চামচ অলিভ অয়েলের সাথে অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে নিতে হবে। এটি চুলে ও স্ক্যাল্পে ব্যবহার করতে হবে। ১৫-২০ মিনিট পরে শ্যাম্পু করতে হবে। অ্যালোভেরা চুলের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। অ্যালোভেরাতে প্রোটিওলাইটিক এনজাইম রয়েছে যা চুল লম্বা করতে সাহায্য করে। অলিভ অয়েলে প্রাকৃতিক অ্যান্টিওক্সিডেন্ট থাকে। এটি চুলের বৃদ্ধি করে।

চুলের জন্য কিছু টিপস

১। চুলে সর্বদা নরম কোন শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে ( চুলের ধরন বুঝে )।

২। চুলে খুব প্রয়োজন ছাড়া হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করা যাবে না। খুব প্রয়োজনে হিট প্রোটেক্টর ব্যবহার করে নিতে হবে।

৩। ভেজা চুল কখনোই তোয়ালে দিয়ে পেচিয়ে রাখা যাবে না।

৪। প্রতিদিনের মিলে বায়োটিন ও ভিটামিন এইচ সমৃদ্ধ খাদ্য রাখতে হবে। দুধ, ডিম ,পনির, বাদাম, মাছ, বাধাকপি, অ্যাভোকেডো রাখতে হবে।

চুলের বৃদ্ধি ও চুলকে ঘন করতে চাইলে প্রথমেই চুলের যত্ন নিতে হবে ও পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ করতে হবে। চুলের বৃদ্ধির জন্য সর্বদা প্রাকৃতিক প্রোডাক্ট ব্যবহার করতে হবে।

আরো পড়ুনঃ

ঘরোয়াভাবে চুল সিল্কি করার উপায়

রিবন্ডিং করা চুলের যত্ন

চুল ও ত্বকের সৌন্দর্য রক্ষায় নারকেলের পানি

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
error: Content is protected !!

Adblock Detected

Please turn off your Adblocker.