আউটডোর প্ল্যান্টইনডোর প্ল্যান্টপ্ল্যান্টিং

গাছের জন্য ঘরোয়া উপায়ে সার তৈরী

জৈব সার প্রস্তুতি

বাড়িতে বর্তমানে আমাদের প্রয়োজনীয় অনেক কিছুই আমরা তৈরী করছি। বাইরে করোনার জন্য অনেকেই ঘর থেকে খুব কম বের হয়। ফলে গাছের জন্য কোন জিনিস প্রয়োজন হলে ঘরে বসেই ঘরোয়া উপায়ে তৈরী করা হয় সার।

বাইরে এখন অনেক নার্সারিই বন্ধ থাকছে। ফলে নার্সারীতে যেয়ে সার আনার কোন ব্যবস্থা নেই। তাই আমরা চাইলেই ঘরে প্রয়োজনীয় সার গাছের জন্য তৈরী করে নিতে পারি।

গাছের ফুল, ফল আনার জন্য সার প্রয়োজন হয়ে থাকে। আমরা যেসব খাদ্য থেকে পুষ্টি পেয়ে থাকি সেসব খাদ্য উপাদান ব্যবহার করে গাছের জন্য ও সার প্রস্তুত করা যায়। গাছের জন্য সহজেই ক্যালসিয়াম কার্বোনেট, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, সালফার ও পটাশিয়াম পুষ্টি পাওয়া যেতে পারে।

মূলত জৈব সার হলো গাছের প্রাণ বা হৃদপিন্ড। মাটির স্বাস্থ্য ভালো রাখতে গাছের জন্য জৈব সার প্রয়োগ করতেই হয়। মূলত গাছপালা ও পশুপাখির মৃতদেহ মাটিতে পচিয়ে জৈব পদার্থ সৃষ্টি করা হয়। জৈব পদার্থ থেকেই জৈব সার উৎপন্ন হয়। জৈব সারের মধ্যে কম্পোস্ট সার খুব জনপ্রিয়। কম্পোস্ট সার চার প্রকার। যেমন- সাধারণ কম্পোস্ট, ভার্মি কম্পোস্ট, কুইক কম্পোস্ট ও ট্রাইকো কম্পোস্ট।

আরো পড়ুনঃ বর্ষাকালে পোকামাকড়ের উপদ্রব থেকে বাচতে করণীয়।

জৈব সার ব্যবহারের উপকারিতা সমূহঃ

১। জৈব সার ব্যবহার করলে ফসলের উৎপাদন ভালো হয়।

২। ফসলের গুণাগুণ বৃদ্ধি পায়।

৩। দীর্ঘদিন ধরে রাসায়নিক সার ব্যবহার করলে মাটির গুনাগুণ হারিয়ে যায়। ফলে জৈব সার ব্যবহার করে সেই গুণাগুণ ফিরিয়ে আনা যায়।

৪। জৈব সার ব্যবহার করলে জমিতে অন্য কোন সার প্রয়োগ করতে হয় না।

৫। বীজের অঙ্কুরোদমগম ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

৬। মাটিতে পানির ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। ফলে পানি সেচ দিতে হয় কম ও অর্থ কম খরচ হয়।

৭। বড় ও ভালো ফল ও সবজি পাওয়া যায়।

৮। জমিতে পোকার উপদ্রব কমে যায়।

৯। জৈব সার ব্যবহার করলে জমিতে কম আগাছা জন্মে।

১০। ফলে কৃষকেরা খুব লাভবান হয়।

আরো পড়ুনঃ কি দেখে গাছের চারা কিনবেন ?

নিচের উপকরণ গুলো ব্যবহার করে ফসলের জন্য উতকৃষ্ট জৈব সার তৈরী করা যায়ঃ

১। ফল ও সবজির খোসাঃ

রান্না করার সময় বিভিন্ন সবজির খোসা ফেলে না দিয়ে এটা দিয়ে উতকৃষ্ট মানের একটা জৈব সার তৈরী করা যায়। এগুলো জমিতে দিলে খুব বেশি উপকার পাওয়া যায়। যেকোন ধরনের সবজির খোসা যেমন- আলু, গাজর, কলা, পেপে ইত্যাদি সবজির খোসা দিয়ে জৈব সার বানানো যায়।

সবজি বা ফলের খোসা পানিতে ১ সপ্তাহ চুবিয়ে রেখে সেই পানি ছেঁকে নিয়ে গাছে দিলে খুব ভালো পুষ্টি পায় গাছ। মূলত এ থেকে গাছ ধীরে ধীরে পুষ্টি পেয়ে থাকে। এই সার মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। তবে মিষ্টি ফলের খোসা ব্যবহার না করাই ভালো।

২। ডিম

গাছের সার তৈরী করতে ডিমের খোসা খুব ভালো কাজ করে। ডিমের খোসা প্রায় সবার বাড়িতেই পাওয়া যায়। ডিম খাওয়ার পর খোসা গুলো ফেলে না দিয়ে ভালো মতো ধুয়ে নিতে হবে।

তারপর খোসাগুলো ২-৩ দিন শুকিয়ে নিতে হবে। তারপর ডিমের খোসাগুলো ভালো মতো গুড়া করে নিতে হবে। ব্লেন্ডারে সুন্দর মতো গুড়া করা যায়। কিন্তু ব্লেন্ডার না থাকলে হাত দিয়েই সুন্দর মতো গুড়া করে নিতে পারেন।

আবার পানির সাথেও ডিমের খোসাও ব্যবহার করা যায়। ২০ টি ডিমের খোসার সাথে ১ গ্যালন ফুটন্ত পানি দিয়ে সারা রাত ভিজিয়ে ছেঁকে দিলেই গাছ খুব ভালো সার পাবে। ডিমের খোসা থেকে ক্যালসিয়াম কার্বোনেট পাওয়া যায়।

৩। কলা

কলাতে পটাশিয়াম পাওয়া যায় প্রচুর পরিমাণে। গোলাপ গাছের জন্য পটাশিয়াম খুবই উপকারী। গোলাপ গাছের টবের উপরে কলার খোসা রেখে দিলে খুব ভালো সার পাওয়া যায় আস্তে আস্তে।

৪। অ্যাকুরিয়ামের পানি

মাছের অ্যাকুরিয়ামের পানি খুব ভালো সার হিসাবে কাজ করে। অ্যাকুরিয়ামের মিঠা পানি গাছে ব্যবহার করা যায়। কিন্তু যদি অ্যাকুরিয়ামে লবণাক্ত পানি ব্যবহার করা হয় তাহলে সেই পানি গাছে দেওয়া যাবে না।

৫। কফি

কফি গুড়া করে গাছের গোড়ায় দিলে খুব উপকার পাওয়া যায়। এতে মাটির অম্লতা বাড়ে। মাটির উপর গুড়া করা কফি ছড়িয়ে দিলে খুব ভালো উপকার পাওয়া যায়। মাটি শুকিয়ে গেলে কফির গুঁড়া দিয়ে দিতে হবে। গোলাপ ও টমেটো গাছের জন্য কফির গুঁড়া খুব ভালো কাজ করে।

৬। লবণ

এক গ্যালন পানিতে ১ টেবিল চামচ ইপসম লবণ দিয়ে স্প্রেয়ারের মাধ্যমে পাতায় দিয়ে দিলে খুব ভালো সারের কাজ করে। ১ মাসে ১ বার এই ইপসম লবণ ব্যবহার করলেই যথেষ্ট। ম্যাগনেশিয়াম ও সালফারের ঘাটতি কমায় ইপসম লবণ।

৭। চা পাতা

আমরা চা খাই প্রায় প্রতিদিন। চা খাওয়া শেষে চায়ের পাতা ফেলে দিই। কিন্তু আমরা জানি না চায়ের পাতা খুব ভালো সারের কাজ করে। যখন কাজ ঘরোয়া তাপমাত্রায় থাকবে তখন গাছের গোড়ায় চায়ের পাতা ব্যবহার করা যায়।

তবে খেয়াল রাখতে হবে যে, চায়ের লিকারে যেন কোন চিনি না থাকে। চায়ের পাতা ভালো মতো ধুয়ে রোদে শুকিয়ে নিতে হবে। চায়ের পাতার সাথে চিনি থাকলে গাছের গোড়ায় পিপড়া হতে পারে।

৮। সরিষার খৈল

বাড়িতে খুব সহজেই সরিষার খৈল দিয়ে ভালোমানের জৈব সার উতপাদন করা যায়। প্রথমে মাটি সংগ্রহ করে নিতে হবে তারপর দেখতে হবে মাটি গুলো যেন সম্পূর্ণ ভেজা বা পুরোপুরি শুকনো না হয়। তারপর মাটি গুড়া করে ঝরঝরা বানিয়ে নিতে হবে। তারপর সমপরিমাণ সরিষার খৈল গুড়া করে মাটির সাথে মিশিয়ে নিতে হবে। তারপর ৭ দিন ভালো মতো রোদে দিতে হবে। ৭ দিন পর ব্যবহার করতে পারবেন।

৯। গোবর

গোবর সংগ্রহ করে কিছুদিন ছায়ায় রেখে দিতে হবে। তারপর গোবরের মাঝে অর্ধ পচা কলাগাছের টুকরা ও অর্ধ পচা কচুরি পানা মেশাতে হবে।

একটি পাত্রে ত্রিশ কেজি পরিমাণ গোবরের মিশ্রণ ও আধা কেজি পরিমাণ ভার্মি কেচোর মিশ্রণ রেখে দিতে হবে। গরমের মাঝে পাত্রটি রাখা যাবে না। আবার পাত্রটিতে যেন বৃষ্টির পানিও না পড়ে। ত্রিশ দিন পর সেই সার চালনি দিয়ে চেলে ব্যবহার করা যাবে।

আরো পড়ুনঃ গাছের পোকা ও পিপড়া দূর করার উপায়

স্বল্প আলোতে বাচবে যেসব ইনডোর প্ল্যান্ট

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
error: Content is protected !!

Adblock Detected

Please turn off your Adblocker.