চুলের যত্নরূপচর্চালাইফস্টাইল

যেসব তেল চুলের জন্য খুব উপকারী

চুলের জন্য উপকারী তেল

এখনকার দিনে সবাই শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার নিয়েই বেশি ব্যস্ত থাকে। চুলের জন্য উপকারী যে তেল তা নিয়ে কেউ ভাবেই না। বর্তমান যুগের মেয়েরা মনে করে আদিম কালের মানুষ চুলে তেল দিতো। মা, দাদিরা চুলে তেল দিবে আমরা কেন?

কিন্তু চুলের জন্য তেল খুবই উপকারী একটা উপাদান। চুলকে স্বাস্থ্যজ্জ্বল রাখতে তেল খুব ভালো কাজ করে। চুলের ডগা ফেটে গেলে বা চুল ঠিক ভাবে না বাড়লে তেল দিতে হবে। তেল চুলের জন্য প্রাণ।

আমরা তেল ব্যবহার করতে গেলে বাজার থেকে কেনা যেকোন একটি তেল ব্যবহার করি। কিন্তু এসব তেল আমাদের চুলের জন্য খুব একটা ভালো ফল দেয় না। তাই বাড়িতেই বেশ কিছু উপাদান দিয়ে তেল বানিয়ে চুলে দিলে খুব ভালো ফলাফল পাওয়া যায়।

আমাদের চুলের জন্য ভালো ও কার্যকরী এমন বিশেষ কিছু উপাদান দিয়ে তেল বানিয়ে আমরা চুলে দিতে পারি। এখন এমন কিছু তেলের সম্পর্কে জানবো যেগুলো আমাদের চুলকে বড় করবে, ঘন করবে ও স্বাস্থ্যজ্জ্বল করবে।

১। নারিকেল তেল-

নারিকেল তেল ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক বিরোধী। তাই এই তেল চুলে দিলে স্ক্যাল্প কোমল থাকে। নারিকেল তেল খুব ভালো ময়েশ্চারাইজার হিসাবে কাজ করে। চুলের উজ্জ্বলতা ধরে রাখে ও নারিকেল তে ব্যবহার করলে কোন জ্বালাপোড়া হয় না। ফলে চুল কম পড়ে।

২। তিলের তেল-

তিলের তেল ব্যবহার করলে চুল ভালো বৃদ্ধি পায়। স্ক্যাল্পে কোন সংক্রমণ রোগ হতে পারে না। চুলের কন্ডিশনার হিসাবে কাজ করে। খুসকি থেকে মুক্তি পেতে তিলের তেল গরম করে দিলে দ্রুতই উপকার পাওয়া যায়। স্ক্যাল্পে পুষ্টি জোগাতে তিলের তেল ব্যবহার করা হয়।

। আমন্ড তেল-

আমন্ড তেল খুব হালকা হয়ে থাকে। এটি একদমই চিটচিটে না। ভিটামিন ই সমৃদ্ধ হয় আমন্ড তেল। এটি চুলের আর্দ্রতা ধরে রাখে। চুলকে মজবুত করে। চুল ঝলমলে করে আমন্ড তেল। আমণ্ড তেল স্ক্যাল্পে পুষ্টি জোগায়।

৪। ক্যাস্টর তেল-

অধিক পরিমাণে চুল উঠতে থাকলে ক্যাস্টর তেল ব্যবহার করা যায়। প্রস্টাগ্ল্যান্ডিন বা পিজিডি২ হরমোনের আধিক্য থাকে যাদের শরীরে তাদের খুব বেশি চুল পড়তে থাকে। ক্যাস্টর তেলে বিদ্যমান উপাদান এই হরমোন গুলোকে প্রতিহত করে। ফলে ক্যস্টর তেল ব্যবহার করলে চুল পড়া কমে যায়।

৫। অলিভ ওয়েল-

অলিভ ওয়েলে এসেনশিয়াল ফ্যাটি এসিড থাকায় এটি স্ক্যাল্পকে পুনরুজ্জ্বীবিত করে। চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। চুলের গোঁড়ায় পুষ্টি জোগায়। এটি স্ক্যাল্পকে ময়েশ্চারাইজ করে। এতে ভিটামিন ই থাকে। এতে ওলেইক এসিড থাকে যা চুলের গোঁড়ায় প্রবেশ করে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।

৬। জবার তেল-

জবার তেলে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান আছে। এটি চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

জবার তেল নিজেরাই বানিয়ে নিতে হয়। কিভাবে বানাবেন দেখে নিন-

আধাকাপ জবা গাছের পাতা ও দুইটি জবা ফুল নিয়ে ভালো করে পরিষ্কার ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে চুলার আচে শুকিয়ে নিতে হবে। একটি পাত্রে ১/৪ কাপ নারকেল তেল, ১/৪ কাপ আমন্ড তেল, শুকিয়ে রাখা জবা পাতা ও জবা ফুল মিশিয়ে হালকা আচে মিনিট পাঁচ গরম করতে হবে। ঠান্ডা হয়ে এলে ছেঁকে নিয়ে শিশিতে ঢেলে মাথায় দিতে পারবেন।

৭। পেয়াজের তেল-

পেয়াজে সালফার থাকে। সালফার টাক পড়ার হাত থেকে বাচায় ও নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। চুলের বৃদ্ধিতেও পেয়াজের তেল ভাল কাজ করে।

বানানোর পদ্ধতিঃ ছোট একটা পেঁয়াজ কুচি করে নিতে হবে। একটি পাত্রে ৬ টেবিল চামচ নারকেল তেল, ২ কোয়া রসুন ও পেঁয়াজ কুচি নিয়ে গরম করে নিতে হবে। বুদবুদ উঠলে চুলা বন্ধ করে নিতে হবে। এবার ঠান্ডা করে বোতলে ভরে রাখতে পারেন।

৮। অ্যালোভেরা তেল-

চুলের জন্য অ্যালোভেরা খুব ভালো কাজ করে। নিয়মিত অ্যালোভেরা দিলে চুল খুব শক্তিশালী হয়।

বানানোর পদ্ধতি- অ্যালোভেরার পাতা কেটে জেল বের করে নিতে হবে। আধা কাপ অ্যালোভেরা জেল ও আধা কাপ নারিকেল তেল মিশিয়ে হালকা আচে পাঁচ মিনিট গরম করতে হবে। ঠান্ডা হলে নামিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।

। সরিষার তেল ও মেহেদী পাতা-

চুলে সরিষার তেল খুব কম ব্যবহার করা হয়। সরিষার তেল চুলের গোড়া মজবুত করে। চুল পড়া রোধে সরিষার তেল খুব ভালো কাজ করে। সরিষার তেলের সাথে মেহেদী পাতা যোগ করলে নতুন চুল গজায় ও চুল বৃদ্ধি পায়।

কিভাবে বানাবেনঃ ২০০ গ্রাম সরিষার তেল একটি বাটিতে নিয়ে চুলায় বসান। এরপর এতে ১ কাপ মেহেদীর তাজা পাতা দিয়ে জ্বাল করুন। যখন মেহেদী পুড়ে কালো হয়ে যাবে তখন চুলা থেকে নামিয়ে ছেঁকে নিন। এবার এটি এয়ার টাইট কোন বোতলে ভরে সংরক্ষণ করতে পারেন। সপ্তাহে তিনদিন চুলে দিলে খুব ভালো উপকার পাওয়া যায়। সারারাত চুলে দিয়ে সকালে শ্যাম্পু করে নিলে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়।

১০। অলিভ ওয়েল ও ডিম-

চুলের ঘনত্ব বৃদ্ধি করে ডিম। ডিমে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন থাকায় ডিম চুল পড়া কমায়। এছাড়া ডিম নতুন চুল গজাতেও সাহায্য করে।

কিভাবে বানাবেন- একটি বাটিতে ডিমের সাদা অংশ নিয়ে ১ চা চামচ অলিভ ওয়েল ও ১ চা চামচ মধু নিন। সব কিছু ভালো করে মাখিয়ে নিন। এটি পেস্টের মতো হয়ে এলে স্ক্যাল্পে ভালো মতো ঘষে মাখিয়ে নিন। ২০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করলে খুব ভালো ফল পাওয়া যায়। সপ্তাহে ১ বার এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।

আরো পড়ুনঃ

টিনএজারদের ত্বকের যত্ন

মেদ ঝরাবে ব্ল্যাক কফি

ঘরোয়া উপায়ে ব্ল্যাক হেডস দূর করার উপায়

পানি দিয়ে রূপচর্চা

Related Articles

Back to top button
error: Content is protected !!

Adblock Detected

Please turn off your Adblocker.