খাদ্য ও খাদ্যাভ্যাস

জাপানিজ খাবার

জাপানিজ খাবার

জাপানের রন্ধনশৈলী মূলত জাপানের বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। জাপানিজ খাবার শত বছরের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের মাধ্যমে আরো বেশি উন্নত হয়েছে। জাপানের এই রন্ধনশৈলী ওয়াশোকু চালের উপর নির্ভর করে তৈরী হয়।

জাপানে তাদের মৌসুমী উপাদানের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। জাপানিজ খাবারে মাছ, শাকসবজির আচার ও ঝোলওয়ালা শাকসবজি ও তরকারী থাকে। তেমপুরার মতো পাতলা গোলায় মাখিয়ে সামুদ্রিক মাছ ও শাকসবজি প্রায়ই ভাজা করে নেওয়া হয়।

সামুদ্রিক খাবার প্রায়ই ভাজা হয়। অনেক সময় আবার সাশিমি হিসাবে কাঁচা বা সুশিতেও খাওয়া হয়। ভাত ছাড়াও জাপানে সোবা ও উডন খাওয়া হয়।

জাপানে অনেক ধরনের মজাদার খাবার রয়েছে। যেমন- মাছের ঝোল ওডেন ও সুকিয়াকি ও নিকুঞ্জাগায় গোমাংস। বিদেশ থেকে বিভিন্ন অণুপ্রাণিত খাবার যেমন- রামেন, ফ্রাইং ডামপ্লিংস, গয়জা জাপানে এখন খাওয়া হয়। এসব খাবারে জাপানিজরা আলাদা করে স্বাদ ও গন্ধ যোগ করেছে।

জাপানিজরা খুব কম মাংস খেত। জাপানিজ রান্না সুশি খুব জনপ্রিয়তা পেয়েছে সব দেশে। যেহেতু জাপান একটি দ্বীপদেশ তাই জাপানিজরা প্রচুর সীফুড খেত। জাপানিজরা শষ্যজাতীয় খাদ্য খেত সাথে শাকসবজি বা সমুদ্রের বিভিন্ন আগাছা, পাখির মাংস ও লাল মাংস।

জাপানিরা বৌদ্ধধর্ম গ্রহণের আগে থেকেই মাংস খাওয়ার প্রতি তাদের কোন আগ্রহ ছিল না। জাপানিদের চারপেয়ে জন্তু খাওয়া নিষিদ্ধ ছিল। তবুও জাপানে লাল মাংস খাওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হয়ে যায়নি।

জাপানিজ খাদ্যদ্রবের উর্ধবগতির জন্য জাপানি পরিবার প্রক্রিয়াজাত খাদ্যগুলো বেশি খেত। এজন্য কিয়োটো সবজি বা কিয়াইয়াই সবজির ব্যাবহার আবারো জাপানে ফিরে আসে।

পুরো পৃথিবী জুড়ে জাপানিরাই খুব অদ্ভুত ও দুঃসাহসিক খাবারের দাবিদার হয়ে আছে। জাপানের খাবার বেশ চটকদার ও উদ্ভট। জাপানি শেফরা তাদের ফিউশন রন্ধনপ্রণালীর জন্য সারা বিশ্বে কুখ্যাত। তারা তাদের রন্ধনশৈলীর সাথে বিশ্বের অন্যান্য সব খাবারের সমন্বয় সাধন করতে পারে।

এখন কিছু জাপানি খাবার সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক-

১। সুশি

সুশি

সুশি হচ্ছে একটি জাপানি খাবার। যা ভিনেগার দেওয়া ভাত, সামুদ্রিক মাছ, সবজি ও নানারকমের ফল দিয়ে তৈরী করা হয়। সুশি জাপানের বহু জনপ্রিয় একটা খাবার।

সুশি সাধারণত বাদামী বা সাদা ভাত দিয়ে তৈরী করা হয়। এতে একটি মাছ দেওয়া থাকে যা সমুদ্রে পাওয়া যায় ও কাঁচা অবস্থায় এটি খাওয়া যায়। আবার মাঝে মাঝে সুশিতে ভাজা মাছ ও দেওয়া হয়। সুশি সাধারণত পরিবেশন করা হয় আদা, সয়া সস ও মূলা দিয়ে।

সুশি সাধারণত বিভিন্ন ভাবে তৈরী করা হয়। যেমন-

ক) চিরাশিসুশিঃ চিরাশিসুশি হচ্ছে এক বাটি সুশি ভাত যার উপরে কাচামাছ দেওয়া থাকে। আরো থাকে ভিনেগার, ফল ও সবজি।

খ) ইনারিসুশিঃ ইনারিসুশি হচ্ছে ভাজা তফু যা সাধারণত সুশি ভাত থেকে তৈরী করা হয়।

গ) মাকিসুশিঃ মাকিসুশিতে বিভিন্ন রকমের রোল দেওয়া হয়। সাথে ডিম ভাজা ও নরি দেওয়া থাকে।

২। বাসাসি

বাসাসি

জাপানিরা বাসাসি খুব বেশি পছন্দ করে। কবে থেকে যে বাসাসি খাওয়ার প্রচলন শুরু হলো তা এখনো জানা যায়নি। তবে এ নিয়ে কিছু মন্তব্য রয়েছে। কেউ কেউ বলে বাসাসি প্রথম সামুরাইরা খায়। ১৮৭৭ সালে যুদ্ধাবস্থায় কাইয়োসুতে আটকা পড়েন তখন থেকে সামুরাইরা প্রথম ঘোড়ার কাঁচা মাংস খাওয়া শুরু করে। যুদ্ধরত সৈনিকেরা নিজেদের প্রাণ বাচাতে ঘোড়ার কাঁচা মাংস খাওয়া শুরু করেন।

বাসাসি সাধারণত ঠান্ডা অবস্থায় পরিবেশন করা হয়। এটি রসুন ও সয়া সসের সাথে খাওয়া হয়। জাপানিরা বাসাসি দিয়ে বাসাসি আইসক্রিম তৈরী করে।

৩। ফুগু

ফুগু

খাবারে ফুগু যোগ করা একটু কঠিন ব্যাপার। কোন শেফ যদি ফুগু পরিবেশন করতে চান তাহলে তাকে আগে ফুগু বানানোর ও পরিবেশন করার লাইসেন্স নিতে হয়। এটি টেট্রোডোটক্সিন নামক বিষাক্ত পাফার মাছ। এই মাছের ত্বক ও অঙ্গ বিষাক্ত। শুধুমাত্র যোগ্যতাসম্পন্ন শেফরাই ফুগু প্রস্তুত করতে পারে। প্রতিবছর প্রায় ১০ হাজার মানুষ ফুগু খায়।

৪। যাযামুসি

যাযামুসি

জাপানের জনপ্রিয় কিন্তু উদ্ভট একটা খাবার হচ্ছে যাযামুসি। যাযামুসি সমুদ্রের তীরের পোকামাকড় দিয়ে তৈরী করা হয়। এই খাবারটি রেস্টুরেন্টে ও গ্রোসারি শপে পাওয়া যায়।

যাযামুসি নামটির আক্ষরিক অনুবাদ mushi অর্থাৎ পোকামাকড় এমন স্থানে বসবাস করে যেখানে zaazaa অর্থাৎ পানির প্রবাহের শব্দ হয়। যাযামুসি একটি পোকামাকড়ের নাম না। এটি সমুদ্রের যে সমস্ত পোকামাকড় পাওয়া যায় তার সবই।

৫। হাচিনোকো

হাচিনোকো

জাপানি বারগুলোর জনপ্রিয় স্ন্যাক্স হলো হাচিনোকো। এটি হলো তেলে ভাজা মৌমাছির শূককীট মুড়মুড়ে করা। শুককীট হলো মৌমাছির বাচ্চা।

দারুণ মুড়মুড়ে ও মজাদার এই মৌমাছির শুককীট সয়া সস ও চিনি দিয়ে ভাজা হয়। হাচিনোকো সাধারণত বিয়ারের সাথে খাওয়া হয়। কারো যদি এই ভাজা মৌমাছি খেতে ইচ্ছা করে তাহলে জাপানের বারে যেয়ে খেতে পারেন।

৬। ড্যান্সিং স্কুইড

ড্যান্সিং স্কুইড

জাপানের অন্যতম জনপ্রিয় খাবার ড্যান্সিং স্কুইড। এই খাবারে স্কুইড গুলো দেখলে মনে হয় যেন এগুলো এখনো বেঁচে আছে কিন্তু আসলে এগুলো অনেক আগেই মরে গেছে। স্কুইডে সয়া সস ঢালার সাথে সাথে এগুলো লাফাতে শুরু করবে। কারণ স্কুইডগুলো মারা গেলেও তাদের কোষগুলো সক্রিয় আছে। ফলে সয়া সসের মাঝে থাকা লবণ স্কুইডে লাগার সাথে সাথেই এগুলোতে বিক্রিয়া শুরু হয়ে যায়। ফলে তারা লাফাতে শুরু করে।

এই ড্যান্সিং স্কুইডগুলো অনলাইনে বিতর্কের সৃষ্টি করে। এটাকে মনে করা হয় অ্যানিমেল ক্রুয়েল্টি। তবে রান্নার সময়েই স্কুইডের মস্তিষ্ক সরিয়ে ফেলা হয়। তাই সয়া সস লাগলে এদের কোন ব্যাথা লাগে না।

৭। শিরোও নো ওদোরিগু

শিরোও নো ওদোরিগু

আমরা যেকোন একটি খাবার খাওয়ার আগে ভাবি খাবারটি যেন মৃত হয়। তবে যারা জাপানিজ শিরোও নো অদোরিগু খেতে ভালোবাসে তাদের কথা অন্য। শিরোও হচ্ছে স্বচ্ছ মাছ। আর ওদোরিগু হচ্ছে যা খাওয়ার সময় দারুণ নড়াচরা করে। ড্যান্সিং স্কুইডের মতো এটিও খাওয়ার সময় মুখের ভিতর নড়াচড়া করে।

এরকম আরো অনেক ধরনের জাপানি খাবার রয়েছে যেগুলো জাপানের বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে বা বারে পাওয়া যায়।

আরো পড়ুনঃ

Related Articles

Back to top button
error: Content is protected !!