পুষ্টি পরামর্শ

জিওল মাছের পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা

শিং, মাগুর, শোল, টাকি ও কৈ মাছের পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা।

User Rating: 4.55 ( 1 votes)

অসুখ-বিসুখ ও রক্তশূন্যতায় আক্রান্ত ব্যক্তিদে অনেকেই জিওল মাছ খেতে বলেন এই মাছের পুষ্টিগুণ এর কারণে। জিওল মাছ মানে যে মাছ রান্নার আগ পর্যন্ত জ্যান্ত থাকে। যেমন- শিং, মাগুর, শোল, কৈ ইত্যাদি। বাজার এগুলো জ্যান্ত অবস্থায় পাওয়াযায় এবং বাজার থেকে কিনে এসব মাছ পানিতে জিইয়ে রাখা যায়। কিন্তু এমন মাছ খেলে উপকার বেশি পাওয়া যাবে—এ ধারণার সত্যতা কতটা? আসুন আমরা আজ জেনে নিই জিওল মাছের বাড়তি কি কি উপকারিতা আছে।

শিং

এই মাছে আয়রন ও ক্যালসিয়ামের মতো খনিজ উপাদানের পরিমাণ বেশি থাকে। তাই প্রাচীনকাল থেকেই রক্তশূন্যতার ভোগা রোগীদের শিং মাছ খেতে বলা হয়। এটি হাড়েকে শক্ত করে ও হাড়ের ঘনত্বও বাড়ায়। প্রতি ১০০ গ্রাম ভক্ষণযোগ্য শিং মাছে ২২ দশমিক ৮ জিএম প্রোটিন, ৬৭০ এমজিএম ক্যালসিয়াম ও ২ দশমিক ৩ এমজিএম আয়রন আছে।

মাগুর

মাগুর মাছে আয়রন ও ক্যালসিয়ামের পরিমাণ একটু কম থাকে শিং মাছের তুলনায়। তবে বেশ সুস্বাদু বলে এর কদর বেশি। প্রতি ১০০ গ্রাম ভক্ষণযোগ্য মাগুর মাছে আছে ৮৬ ক্যালরি, ১৫ জিএম প্রোটিন, ২১০ এমজিএম ক্যালসিয়াম, ২৯০ এমজিএম ফসফরাস ও শূন্য দশমিক ৭ এমজিএম আয়রন।

শোল

সুস্বাদু এই মাছ মানবদেহের হাড় ও মাংসপেশি গঠনে সহায়তা করে, খাবারে রুচিও বাড়ায়। প্রতি ১০০ গ্রাম ভক্ষণযোগ্য শোল মাছে আছে ৯৪ ক্যালরি, ১৬ দশমিক ২ জিএম প্রোটিন, ১৪০ এমজিএম ক্যালসিয়াম, শূন্য দশমিক ৫ এমজিএম আয়রন, ৯৫ এমজিএম ক্যালসিয়াম এবং ১ হাজার ৮০ মাইক্রোগ্রাম জিংক।

টাকি

অনেকে এই মাছ ভর্তা করে খায় যা অনেক সুস্বাদু । প্রতি ১০০ গ্রাম ভক্ষণযোগ্য টাকি মাছে ১৭ দশমিক ১৮ জিএম প্রোটিন, ৭৫৭ মাইক্রোগ্রাম জিংক, ১ দশমিক ১৭ এমজিএম আয়রন ও ১৫৭ এমজিএম ক্যালসিয়াম আছে।

কৈ

কৈ মাছে বেশী পরিমাণে ভিটামিন এ এবং খনিজ পদার্থ যেমন আয়রন ও কপার রয়েছে, যা রক্তে হিমোগ্লোবিন তৈরিতে অত্যাবশ্যক। এছাড়াও সহজে পচনযোগ্য চর্বি এবং অনেক অ্যামাইনো এসিড বিদ্যমান। প্রতি ১০০ গ্রাম খাবারযোগ্য কৈ মাছে প্রোটিন ১৪.৮০ জিএম, স্নেহ ৮.৮০ জিএম , আয়রন ১.৩৫ জিএম, ক্যালসিয়াম ০.৪২ জিএম, ফসফরাস ০.৩৯ জিএম এবং ভিটামিন রয়েছে ৩২.০০ জিএম।

আসলে যেকোনো তাজা মাছেই পুষ্টি উপাদান বেশি পরিমানে আছে। প্রোটিনের প্রাকৃতিক উৎস হিসেবে জিওল মাছ খুবই ভালো একটি উপাদান। দীর্ঘদিন রেফ্রিজারেটরে সংরক্ষণ করলে মাছের গুণাগুণ কিছুটা নষ্ট হয়, কিন্তু জিওল মাছে তা অক্ষুণ্ন থাকে। তা ছাড়া এটি খাওয়ার রুচি বাড়ায় বলে রোগাক্রান্ত লোকদের খেতে বলা হয়। আর একারনেই তুলনামূলক ভাবে অন্যান্য মাছের চেয়ে জিওল মাছের দামও বেশি হয়।

আরো পড়ুনঃ

রসুনের উপকারীতা

বাদাম খাবার উপকারিতা

আদার উপকারিতা জেনে নিন কী কী

পান্তা ভাতের পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
error: Content is protected !!

Adblock Detected

Please turn off your Adblocker.