চুলের যত্নরূপচর্চালাইফস্টাইল

ঘরোয়াভাবে চুল সিল্কি করার উপায়

সিল্কি চুল পেতে করণীয়

ঘন ও লম্বা, ঝলমলে, সিল্কি চুল প্রতিটি নারীরই চাওয়া থাকে। প্রতিটি নারীই চায় যতই রোদ থাকুক, বাতাস থাকুক, ধুলা থাকুক না কেন চুল যেন থাকে ঝলমলে, সিল্কি, পরিপাটি ও জট্মুক্ত। কিন্তু এই দূষণের দুনিয়ায় এমন মনের মতো চুল পাওয়া খুবই কঠিন। চুল খুব সহজেই ম্যাড়ম্যাড়ে হয়ে যায়, আগা ফেটে যায় ও চুল ঝরে যায়।

চুলের এসব সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে চুল ছোট করে ফেলি। কিন্তু তাতেই কি মুক্তি? চুল সেই জট লেগেই যায়। চুলের কিছু প্রসাধনী চুলকে সিল্কি করলেও চুলের স্বাভাবিক রং নষ্ট হয়ে যায়। চুল ভেঙ্গে যায়।

পার্লারে যেয়ে চুলের ট্রিটমেন্ট নেওয়ার কথা চিন্তা করলে অপর দিকে মাথায় আসে দুনিয়ার পয়সা খরচ হয়ে যাবে। ফলে আর পার্লারে চুলের ট্রিটমেন্ট নেওয়াই হয় না।

এসব কথা ভুলে যেয়ে আমরা যদি বাড়িতেই ঘরোয়াভাবে কিছু উপকরণ দিয়ে চুল এর ট্রিটমেন্ট করতে পারি তাহলে তো ভালোই হয়। চুল স্বাস্থ্যেজ্জ্বল, ঘন ও সিল্কি থাকবে।

চলুন এখন দেখে নেওয়া যাক চুলের কিছু প্রাকৃতিক হেয়ার প্যাক-

১। কলা ও মধুর হেয়ার প্যাক-

উপকরণঃ

১। ১ টি পাকা কলা

২। ২ টেবিল চামচ মধু

৩। ১ টেবিল চামচ নারিকেল তেল

ব্যবহারবিধি-

পাকা কলা ভালো মতো ব্লেন্ড করে নিতে হবে। তার সাথে মধু ও নারিকেল তেল মেশাতে হবে। তারপর মিশ্রণটি সম্পূর্ণ চুলে ভালো মতো লাগিয়ে নিতে হবে। আধা ঘণ্টা পর শ্যাম্পু করে চুল ধুয়ে ফেলতে হবে। সপ্তাহে দুইদিন করে এই প্যাক ব্যবহার করলেই যথেষ্ট।

উপকারিতা-

কলাতে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম, কার্বোহাইড্রেট ও ভিটামিন থাকে। এসব উপাদান চুলের স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য খুবই জরুরী। খুশকী, চুল পড়া রোধ, চুল ঘন ও ঝলমলে করতে পাকা কলা খুব সাহায্য করে। মধুতে থাকা অ্যান্টিওক্সিডেন্ট চুলের উজ্জ্বলতা বাড়ায়, চুল ঘন ও লম্বা করতে সাহায্য করে। নিয়মিত এই প্যাক ব্যবহার করলে চুল সুন্দর ও সিল্কি হয়।

২। চালের হেয়ার প্যাক-

উপকরণ-

১। ১ কাপ চাল

২। ২ চা চামচ অ্যালোভেরা জেল

৩। ১ বাটি পানি

ব্যবহারবিধি-

চাল সারারাত ভিজিয়ে রাখতে হবে। এভাবে ভিজিয়ে রাখলে চালের পুষ্টিগুণ অনেকটাই পানিতে চলে আসবে। সকালে চাল সরিয়ে রাখতে হবে। তারপর চাল ধোয়া পানিতে অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে নিতে হবে। মিশ্রণটি চুলে লাগিয়ে ৩০ মিনিট রেখে দিতে হবে। তারপর শ্যাম্পু করে চুল ধুয়ে নিতে হবে। শ্যাম্পুর সাথে মিশিয়েও এই প্যাকটি ব্যবহার করা যেতে পারে। সপ্তাহে দুইদিন করতে হবে।

উপকারিতা-

চালের পানিতে থাকা পুষ্টি উপাদান চুলের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সাহায্য করে। এটি চুলকে প্রাণচঞ্চল ও ঝলমলে করতে সাহায্য করে। চুলের বৃদ্ধির জন্য চালের পানি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অ্যালোভেরা জেল চুল অল্প সময়ের মাঝে সিল্কি ও ঝলমলে করতে সাহায্য করে।

৩। ডিম, লেবু, মধু, নারিকেল তেলের হেয়ার প্যাক-

উপকরণ-

১। ২ টি ডিমের সাদা অংশ

২। ১ চা চামচ লেবুর রস

৩। ২ টেবিল চামচ মধু

৪। ২ চা চামচ নারিকেল তেল

ব্যবহারবিধি-

একটি বাটিতে সব উপকরণ একসাথে ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে। গোসলের ১ ঘণ্টা আগে প্যাকটি সম্পূর্ণ চুলে ম্যাসাজ করে নিতে হবে। ১ ঘণ্টা পরে চুলগুলো ভালো মতো ধুয়ে নিতে হবে। যাতে ডিমের গন্ধ না লেগে থাকে। সপ্তাহে একদিন এই প্যাকটি ব্যবহার করতে হবে।

উপকারিতা-

এই প্যাকটি চুলকে খুব ঘন ও সিল্কি করতে সাহায্য করে। এই প্যাকটি চুল পড়া বন্ধ করে। চুলের রুক্ষতা দূর করে । ডিমে সালফার নামক উপাদান থাকে যা চুলের গোড়া শক্ত করে। লেবুতে থাকে ভিটামিন সি ও অ্যান্টিওক্সিডেন্ট যা চুলের বৃদ্ধি ঘটায়। মধু চুলের আগা ফাটা রোধ করে। নারিকেল তেল চুলকে মসৃণ রাখতে সাহায্য করে।

৪। ভিটামিন ই ও লেবুর হেয়ার প্যাক-

উপকরণ-

১। ২ টেবিল চামচ শ্যাম্পু

২। ১ টি ভিটামিন ই ক্যাপ্সুল

৩। আধা টেবিল চামচ লেবুর রস

ব্যবহারবিধি-

এই প্যাকটি দুইভাবে ব্যবহার করা যায়। গোসলের আধা ঘণ্টা আগে চুলে ম্যাসাজ করে লাগিয়ে এরপর ধুয়ে নিতে হবে। অথবা গোসলে চুলে শ্যাম্পু করার সময়ে শ্যাম্পুর সাথে ভিটামিন ই এবং লেবুর রস মিশিয়ে নিতে হবে। যেভাবেই এই প্যাক ব্যবহার করা হোক না কেন চুলের লেন্থ ও ঘনত্ব অনুযায়ী উপকরণের পরিমাণ বাড়িয়ে কমিয়ে নিতে হবে।

উপকারিতা-

লেবুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি ও সাইট্রিক অ্যাসিড আছে। এসব উপাদান চুল পড়া কমিয়ে দিতে সাহায্য করে। ভিটামিন ই ক্যাপসুল চুল পড়া কমায় ও চুলের ঘনত্ব বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। এটি চুলের আগা ফাটা রোধ করে ও চুলকে সিল্কি করে।

৫। ডিম, মধু, দুধ ও অলিভ অয়েলের হেয়ার প্যাক-

উপকরণ-

১। ১ টি ডিম

২। ২ চা চামচ খাটি মধু

৩। ২ চা চামচ কাঁচা দুধ

৪। ২ চা চামচ অলিভ অয়েল

ব্যবহারবিধি-

সবগুলো উপকরণ বাটিতে মিশিয়ে নিতে হবে। ডিমের সাদা অংশ আলাদা করে নিতে হবে না। পুরো ডিমই ফেটিয়ে নিতে হবে। সবগুলো উপকরণ একসাথে মিশিয়ে আঙ্গুলের সাহায্যে ভালোভাবে চুলের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত লাগিয়ে দিতে হবে। ৩০-৪০ মিনিট চুলে লাগিয়ে রাখতে হবে। তারপর শ্যাম্পু করে নিতে হবে। সপ্তাহে দুইদিন ব্যবহার করতে হবে।

উপকারিতা-

কাঁচা দুধ চুলের প্রোটিনের অভাব দূর করে। চুলের রূক্ষতা দূর করতে সাহায্য করে ও চুলের আগা ফাটা রোধ করে। অলিভ অয়েলে প্রচুর অ্যান্টিওক্সিডেন্ট পাওয়া যায় যা চুলকে গভীর থেকে পুষ্টি জোগাতে সাহায্য করে, চুল ভাঙ্গা কমিয়ে দেয়। ফলে চুল ভেতর থেকে সুন্দর ও সিল্কি হয়ে যায়।

আরো পড়ুনঃ

ঘরোয়া উপায়ে কিভাবে লম্বা চুলের যত্ন নিবেন?

উকুন প্রতিরোধের উপায়

ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে যেসব খাবার

বাদাম খাওয়ার উপকারিতা

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
error: Content is protected !!

Adblock Detected

Please turn off your Adblocker.