অন্যান্যরোগতত্ত্ব

ডাস্ট এলার্জি থেকে মুক্তির ঘরোয়া উপায়

ডাস্ট এলার্জি থেকে মুক্তির উপায়

রাস্তাঘাটে যে জায়গায়ই যাওয়া যায় না কেন সব জায়গায় খুব বেশি ধুলাবালি থাকে। এসব ধুলাবালি থেকে ডাস্ট এলার্জি হয়ে থাকে। বাসার মাঝেও ঘরবাড়ি পরিষ্কার করার সময় রুমের মাঝে অনেক ধুলাবালি জমতে থাকে। এসব ধুলাবালি থেকে ডাস্ট এলার্জি হতে পারে।

আবার অনেকের সিজনাল ডাস্ট এলার্জি থাকে । শীতকালে বাতাসের শুষ্কতার জন্য ডাস্ট এলার্জি বেশি হয়ে থাকে। আবার অনেকের সারা বছরই ডাস্ট এলার্জি থাকে। তবে ডাস্ট এলার্জিতে ভুগেন না এমন মানুষ কম দেখা যায়।

ডাস্ট এলার্জির কারণে হাচি, কাশি ছাড়াও চোখ, নাক থেকে অনবরত পানি পড়তে পারে। ডাস্ট এলার্জি থেকে শ্বাসকষ্ট, ত্বকে র‍্যাশ হতে দেখা যায়। ত্বকে লালচে ভাব দেখা যায়।

ডাস্ট এলার্জি দেখা দিলে সবাই সাথে সাথে অ্যান্টি এলার্জি ওষুধ খেয়ে থাকে। কিন্তু এসব ওষূধ মূলত আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য খুব বেশি ক্ষতিকর। তাই অ্যান্টি এলার্জি ওষুধ না খেয়ে ঘরোয়া কিছু টিপস ফলো করলে আমরা ডাস্ট এলার্জি থেকে মুক্তি পেতে পারি।

চলুন দেখে নিই কি কি ঘরোয়া টোটকা মেনে চললে ডাস্ট এলার্জি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়-

১। আপেল সিডার ভিনেগার-

আপেল সিডার ভিনেগার ডাস্ট এলার্জি প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। এক গ্লাস পানিতে এক চা চামচ আপেল সিডার ভিনেগার মিশিয়ে দিনে ২-৩ বার পান করলে ডাস্ট এলার্জি দূর হয়ে যায়।

২। মধু-

মধু ডাস্ট এলার্জি প্রতিরোধে খুব ভালো কাজ করে। মধু পরিবেশে উপস্থিত অ্যালোর্জেনের সাথে শরীরকে খাপ খাওয়াতে সাহায্য করে। মধুতে প্রদাহ বিরোধী বৈশিষ্ট্য থাকে যা ডাস্ট এলার্জি নির্মূল করতে সাহায্য করে।

৩। সবুজ শাক সবজি-

সবুজ শাক সবজি খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। আবার সবুজ শাক সবজিতে এলার্জি কমানোর ক্ষমতা থাকে। আবার সবুজ শাক সবজি শরীরের প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজের যোগান দেয়। ফলে সবুজ শাক সবজি খেলে ডাস্ট এলার্জি অনেকটাই দূর করা যায়।

৪। অ্যালোভেরা

ডাস্ট এলার্জি কমাতে অ্যালোভেরা খুব ভালো কাজ করে। প্রাকৃতিক ভেষজ অ্যালোভেরা ডাস্ট এলার্জি কমাতে খুব বেশি সাহায্য করে। ৩-৪ টেবিল চামচ অ্যালোভেরার রস পানিতে মিশিয়ে দিনে ২ বার পান করলে এলার্জি অনেকটাই ভালো হয়ে যায়। অ্যালোভেরা ব্যথা ও প্রদাহ নাশ করতে সাহায্য করে।

৫। ঘি

ডাস্ট এলার্জি সমস্যা দূর করতে ঘি খুব বেশি সাহায্য করে। ঘি একটি প্রাকৃতিক উপাদান যা যেকোন ধরনের এলার্জি প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। এক চামচ ঘি তুলাতে লাগিয়ে সরাসরি এলার্জি আক্রান্ত ত্বকে লাগালে খুব ভালো উপকার পাওয়া যায়। এতে ত্বকের জ্বালাপোড়া কমে ও অস্বস্তি ভাব কমে যায়। প্রতিদিন এক চামচ ঘি খেলে ঠান্ডা লাগা ও এলার্জির সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

৬। গ্রিন টি

গ্রিন টিতে থাকা অ্যান্টি অক্সিডেন্ট এলার্জির সমস্যা সমাধান করতে খুব ভালো কাজ করে। চোখের লালচে ভাব দূর করে ও র‍্যাশ থেকে বাচাতে সাহায্য করে গ্রিন টি।

ডাস্ট এলার্জি

৭। ইউক্যালিপটাস তেল

মাথা ব্যথা, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, চোখ ও নাক দিয়ে পানি পড়া থেকে রক্ষা করতে ইউক্যালিপটাস তেল খুব ভালো কাজ করে। এক চামচ ঘি তুলাতে লাগিয়ে সরাসরি এলার্জি আক্রান্ত ত্বকে লাগালে খুব ভালো উপকার পাওয়া যায়। এতে ত্বকের জ্বালাপোড়া কমে যায়। ত্বকের অস্বস্তি কমে যায়। তাই প্রতিদিন এক চামচ ঘি খেলে ঠান্ডা লাগা ও এলার্জির সমস্যা থেকে উপকার পাওয়া যায়।

। স্টিম-

ডাস্ট এলার্জির প্রভাব কাটাতে স্টিম নেওয়া খুবই জরুরি। একটি বড় পাত্রে গরম পানি নিয়ে তার মাঝ থেকে আসা বাষ্প নাক ও মুখের সাহায্যে নিতে হবে। তাছাড়া স্টিম নেওয়ার যন্ত্র বাজারে কিনতে পাওয়া যায়। এলার্জি কমাতে ১০ মিনিট নাকে স্টিম নিতে হয়।

৯। টক দই-

টক দই এলার্জি সারাতে খুব ভালো কাজ করে।কারণ টক দইতে প্রোবায়োটিক নামক উপাদান থাকে। এই উপাদান ডাস্ট এলার্জি দূর করতে খুব ভালো কাজ করে। এলার্জি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতার জন্য হয়ে থাকে। অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় রাখতে টক দই খুব ভালো কাকজ করে।

০। দুগধজাত পদার্থ-

আমাদের খাদ্যতালিকায় সবসময় টক দই, লস্যি, ছানা রাখা উচিত। কারণ এসব উপাদানে প্রোবায়োটিক নামক উপাদান থাকে জীবাণুর সাথে লড়াই করে। আবার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। তাই ধুলাবালি থেকে আক্রান্ত হয়ে এলার্জি হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।

১১। কলা-

কলাতে অনেক পুষ্টি উপাদান থাকে। কোন খাবার থেকে যদি এলার্জি হয় তাহলে কলা খেলে সেই এলার্জি ভালো হয়ে যায়। শরীরে ছোট র‍্যাশ দেখা দিলে বা পেটের কোন সমস্যা হলে কলা খেতে হয়। কলা মেটাবলিজমের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

২। লেবু-

লেবু সাইট্রিক এসিডের অন্যতম উৎস। লেবু এলার্জি দূর করতে খুব ভালো কাজ করে। মধুর সাথে লেবু মিশিয়ে খেলে খুব ভালো উপকার পাওয়া যায়। নিয়মিত লেবু ও মধুর পানি খেলে শরীর থেকে টক্সিন বের হয়ে যায় ও এলার্জির সমস্যা দূর হয়ে যায়।

৩। শসা ও গাজর-

কোন খাবার থেকে এলার্জি সৃষ্টি হলে শসা ও গাজরের রস খেলে দূর হয়ে যায়। শসা ও গাজর এই দুই সবজিতে অ্যান্টি এলার্জি উপাদান থাকে তাই এই সবজির রস খেলে এলার্জি দূর হয়ে যায়।

৪। কমলা-

পাকস্থলীতে প্রোটিনের আধিক্য দেখা দিলে এলার্জি সমস্যা দেখা দেয়। সেক্ষেত্রে অ্যাসিড জাতীয় খাবার ও ভিটামিন সি খেলে এলার্জি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

১৫। আদা-

আদাতে এলার্জি দূর করার খুব ভালো উপাদান তাহকে। আদাতে বমি ভাব, মাথা ঘোরানো, হজমে সমস্যা ও ডায়রিয়া দূর করার মতো ক্ষমতা থাকে। গরম পানিতে আদা ফুটিয়ে মধু দিয়ে খেলে খুব ভালো কাজ করে।

আরো পড়ুনঃ

করোনা সারার পর বেশি চুল পড়লে কি করবেন?

বলিরেখা দূর করার ঘরোয়া উপায়

মুখের দূর্গন্ধ দূর করার ঘরোয়া উপায়

ডেঙ্গু জ্বরের কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার

পানিশূণ্যতার লক্ষণ ও প্রতিকার

ঘরোয়া উপায়ে ব্ল্যাক হেডস দূর করার উপায়

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
error: Content is protected !!

Adblock Detected

Please turn off your Adblocker.