ডায়াবেটিসরোগতত্ত্ব

ডায়াবেটিসের চিকিৎসা সম্বন্ধে জেনে নিন

ডায়াবেটিসের চিকিৎসা

ডায়াবেটিস চিকিৎসার সময় কয়েকটি বিষয় লক্ষ্য রাখা হয় যেমনঃ

১। রক্তে গ্লুকোজের আধিক্য এবং প্রসাবের গ্লুকোজ এই দুইটি কমিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে আসা।

২। ডায়াবেটিসের লক্ষণ গুলি দূর করার সময় খেয়াল রাখতে হবে যে রক্তে গ্লুকোজ বেশি কমে গিয়ে আশংকাজনক পর্যায়ে না আসে।

৩। দেহের ওজন এমন পর্যায়ে আনা ও তা বজায় রাখা যা তার বয়স এবং রোগ অনুযায়ী কাম্য।

৪। এই রোগের বিবিধ জটিলতা থেকে রোগীকে মুক্ত রাখা।

যখনই কোন ব্যক্তির ডায়াবেটিস হয়েছে বলে প্রমাণিত হবে তখনই রোগীকে এই রোগ সম্বন্ধে অবহিত করতে হবে। রোগীর সচেষ্ট সহযোগিতা ব্যতীত এই রোগ দূর করা কঠিন।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের প্রধান ব্যবস্থাগুলি হচ্ছে খাদ্য নিয়ন্ত্রণ, ওষূধ ও ব্যায়াম। বর্তমানে ডায়াবেটিস সম্বন্ধে শিক্ষাকে রোগ নিয়ন্ত্রণের একটি কার্যকরী পদক্ষেপ বলে গণ্য করা হচ্ছে। কারণ শিক্ষা ছাড়া খাদ্য নিয়ন্ত্রণ, ওষুধ ও ব্যায়াম এই তিনটি যথাযথভবে পালন করা হয় না।

সাধারণত তিনটি পদ্ধতিতে ডায়াবেটিসের চিকিৎসা করা হয় যেমনঃ-

১। কেবলমাত্র খাদ্যনিয়ন্ত্রণ দ্বারা

২। খাদ্যনিয়ন্ত্রণ এবং মুখে খাওয়ার ওষুধ দ্বারা

৩। খাদ্যনিয়ন্ত্রণ এবং ইনসুলিন ইনজেকশন দ্বারা

এই তিনটি পদ্ধতির যে কোনটিই অনুসরণ করা হোক না কেন ব্যায়াম সব অবস্থাতেই করতে হবে। বয়স ও শারীরিক অবস্থার উপর নির্ভর করে ব্যায়ামের মাত্রা নির্ধারণ করতে হয়।

ডায়াবেটিসের চিকিৎসা

খাদ্য নিয়ন্ত্রণ সব অবস্থাতেই করতে হয়। কোন কোন খাদ্য গ্রহণ করা যাবে এবং কোন কোন খাদ্য বর্জন করতে হবে রোগীকে সে সম্বন্ধে অবহিত করতে হবে। ডায়াবেটিস হলে সমস্ত জীবন খাদ্য সম্বন্ধে সংযত ও হিসেবি হয়ে চলতে হবে। ইনসুলিন ইঞ্জেকশন দেওয়ার সময় খাদ্য অত্যন্ত সাবধানতার সাথে ওজন করে প্রস্তুত করতে হবে এবং সমস্ত দিনের বরাদ্দ খাবার হিসাব মতো ভাগ করে ৪/৫ বারে খেতে হবে। একই ধরনের খাদ্য যেন বিরক্তির উদ্রেক না করে সেজন্য খাদ্য বিনিময় তালিকা ব্যবহার করা উচিত। এই খাদ্য তালিকায় একই পুষ্টিমূল্যের বিভিন্ন খাদ্যদ্রবের পরিমাণ এমন ভাবে দেওয়া আছে যেন একের স্থানে অন্য খাদ্য দ্বারা আহার্য প্রস্তুত করলেও খাদ্যের উপাদানগুলি ঠিক থাকে।

আরো পড়ুনঃসুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য যে কাজগুলো করা দরকার

ডায়াবেটিস রোগীর পথ্যাদি প্রস্তুত করার সময় নিম্নলিখিত বিষয়গুলি মনে রাখতে হবেঃ

১। রোগীর দেহের ওজন, তার বয়স, উচ্চতা ইত্যাদি অনুসারে যতটা হওয়া কাম্য ঠিক ততখানি অথবা তার চাইতে কিছু কম ওজনে রাখার চেষ্টা করতে হবে। এর জন্য কতখানি ক্যালরি গ্রহণ করা উচিত তা প্রথমে নির্ধারণ করে নিতে হবে। খাদ্যে ক্যালরির পরিমাণ এমন হবে যেন মেদ কমিয়ে বা বাড়িয়ে রোগীর জন্য উপযুক্ত পর্যায়ে আসে এবং পরে সেই ওজন টিকিয়ে রাখার জন্য খাদ্য ব্যবস্থা করা দরকার।

২। খাদ্যে প্রোটিনের পরিমাণ স্বাভাবিক সুস্থ ব্যক্তির চাইতে সামান্য বেশি অর্থাৎ প্রতি কিলোগ্রাম দেহের ওজনের জণ্য ১-১.৫ প্রোটিন অনুমোদন করা হয়েছে।

৩। খাদ্যে শর্করা কমিয়ে ফেলতে হবে। যেটুকু শর্করা হিসেব মতো বরাদ্দ করা হবে সেটুকু যেন সহজলভ্য শর্করা থেকে না এসে শ্বেতসার থেকে আসে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

৪। স্নেহপর্দাথের পরিমাণ কিছুটা বাড়িয়ে শর্করার ঘাটতি পূরণ করা যায়। তবে এর পরিমাণ ও বেশি বাড়ানো বিপদজনক। কারণ চর্বি বাড়ালে কিটোসিসের আশঙ্কা দেখা দেয়।

৫। ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্যে ভিটামিন ও খনিজ লবণ যেন প্রচুর পরিমাণে থাকে এবং খাদ্যটি যেন সুষম হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

আরো দেখুনঃ গ্যাস্ট্রিক বা গ্যাসট্রাইটিস রোগের উপশম

খাদ্যের পরিমাণ নির্ধারণঃ

রোগীর বয়স, ওজন, উচ্চতা ও দৈনন্দিন কাজের উপর এবং রোগের প্রকৃতির উপর খাদ্যের পরিমাণ নির্ভর করে। সাধারণভাবে মাঝারি গড়নের মোটামুটি কর্মব্যস্ত ডায়াবেটিস রোগীর জন্য ২২০০ কিলোক্যালরি খাদ্য গ্রহনের পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে।

এই ক্যালরির শতকরা ৫৫ ভাগ শর্করা থেকে আসতে হলে অর্থাৎ প্রায় ১২০০ কিলোক্যালরি জন্য ৩০০ গ্রাম শর্করা দরকার। শতকরা ১৫ ভাগ অর্থাৎ ৩৩০ কিলোক্যালরি শক্তি প্রোটিন থেকে আসতে হলে ৮৩ গ্রাম প্রোটিন এবং স্নেহ থেকে শতকরা ৩০ ভাগ শক্তি আসতে হলে ৬৬০ কিলোক্যালরি অর্থাৎ প্রায় ৭৪ গ্রাম স্নেহ দরকার। অতএব ২২০০ কিলোক্যালরি খাদ্যে নিম্নোক্ত হারে শর্করা, প্রোটিন ও স্নেহ থাকা বাঞ্চনীয়।

মোট ক্যালরির ৫৫%= ১২১০ কিলোক্যালরি= প্রায় ৩০০ গ্রাম শর্করা

মোট ক্যালরির ১৫%= ৩৩০ কিলোক্যালরি= প্রায় ৮৩গ্রাম প্রোটিন

মোট ক্যালরির৩০%= ৬৬০ কিলোক্যালরি = প্রায় ৭৪ গ্রাম স্নেহ

মোট ক্যালরি= ২২০০

এই অনুপাতের হিসাবটি একটি সাধারণ নির্দেশক হিসাবে কাজ করতে পারে।

আরো পড়ুনঃ মস্তিষ্কের জন্য সেরা খাবার

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
error: Content is protected !!

Adblock Detected

Please turn off your Adblocker.