ডায়াবেটিসরোগতত্ত্ব

ডায়াবেটিস রোগীরা কোন ফল খেতে পারবে ও কোন ফল খেতে পারবে না?

ডায়াবেটিস রোগীরা কি কি ফল খাবেন

ডায়াবেটিস একটি পরিচিত রোগ। ডায়াবেটিসকে কোন ক্ষতিকারক রোগ না মনে হলেও ডায়াবেটিস একটি দীর্ঘমেয়াদী রোগ ও নানা ধরনের অসুখ ডেকে আনার জন্য ডায়াবেটিস নামক রোগটিই যথেষ্ট।

ডায়াবেটিস রোগটি কখোনই নিরাময়যোগ্য নয়। রক্তের শর্করার পরিমাণ বেড়ে গেলে লিভার, কিডনি ও চোখে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

রক্তের শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা খুব বেশি জরুরি। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের কথা বলা হয়। ডায়াবেটিস দেখা দিলে মানুষের খাবারের ধরণে বেশ পরিবর্তন দেখা দেয়। তখন নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের পরামর্শ দেওয়া হয়।

যাদের খুব বেশি রাত জাগার অভ্যাস থাকে তাদের সুগারের পরিমাণ বাড়তে পারে। আমাদের খাওয়া প্রতিদিনের ফলে প্রাকৃতিক শর্করা থাকলে তা শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়। যেহেতু ডায়াবেটিস হলে রক্তে চিনি বা শর্করার পরিমাণ বেড়ে যায় তাই মিষ্টি বা শর্করা জাতীয় খাবার খাওয়ার সময় কিছুটা সচেতন হতে হয়।

ডায়াবেটিস রোগীদের কি কি ফল খাওয়া যাবে ও কি কি ফল খাওয়া যাবে না তা নিয়ে আলোচনা করা হলো-

ডায়াবেটিস রোগীদের যেসব ফল কম খাওয়া উচিত-

১। আম-

স্বাদে ও গন্ধে অতুলনীয় একটি ফল হচ্ছে আম। আমাদের স্বাদ খুব মিষ্টি হয়ে থাকে। যেকোন বয়সের যেকোন লোক আম খেতে খুব পছন্দ করে। তবে আমে শর্করার পরিমাণ বেশি থাকে। একটি মাঝারি সাইজের আমে ৪৫ গ্রাম চিনি থাকে। ডায়াবেটিস রোগী ও যারা ওজন কমাতে চায় তাদের জন্য আম না খাওয়াই ভালো। প্রতিদিন খুব কম পরিমাণ আম খাওয়া যাবে তাও আবার চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে।

। আঙ্গুর-

আঙ্গুর দেখতে ও খেতেও খুবই সুস্বাদু। আঙ্গুরে শর্করার পরিমাণ কিছুটা বেশি থাকে। এক কাপ আঙ্গুরে প্রায় ২৩ গ্রাম চিনি থাকে। কিন্তু ডায়াবেটিস রোগীদের আঙ্গুর খাওয়া বন্ধ করার দরকার নেই। প্রতিদিন কিছুটা আঙ্গুর খাওয়া যেতে পারে। আঙ্গুর স্মুদি ও শেক বানিয়েও খাওয়া যেতে পারে।

৩। কলা-

কলাকে শক্তির পাওয়ার হাউস বলা হয়। কলা খেলে খুব দ্রুত শক্তি পাওয়া যায়। কলা শরীরের অনেক পুষ্টি যোগায়। কিন্তু কলা ফলটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য প্রযোজ্য নয়। একটি মিডিয়াম সাইজের কলাতে ১৪ গ্রাম চিনি থাকে, তাই ডায়াবেটিস রোগীদের কলা না খাওয়াই ভালো। সকালের খাবারের সময় পিনাট বাটারের সাথে কয়েক টুকরা কলা খাওয়া যেতে পারে।

৪। চেরি-

চেরি খুব মিষ্টি একটা ফল। চেরি বাংলাদেশে খুব বেশি জনপ্রিয় হলেও বাংলাদেশে চেরি খুব একটা চাষ করা হয় না। চেরিতে অনেক শর্করা পাওয়া যায়। এককাপ চেরিতে ১৮ গ্রাম চিনি থাকে। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের চেরি না খাওয়াই ভালো।

৫। তরমুজ-

তরমুজ একটা গ্রীষ্মকালীন ফল। তরমুজ খাওয়া খুব ভালো কিন্তু ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য তরমুজ খুব বেশি ভালো না। এক ফালি তরমুজে ১৭ গ্রাম চিনি থাকে। তাই তরমুজ ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ভালো নয়। তবে তরমুজ খেলে পানির ঘাটতি পূরণ হয়। ইলেকট্রোলাইট ব্যালান্স করতে তরমুজ খাওয়া হয়।

৬। নাশপাতি-

নাশপাতি কারো কারো কাছে খুব বেশি ভালো লাগে আবার কারো কাছে একদমই ভালো লাগে না। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এই ফল খাওয়া ভালো নয়। কারণ একটি মাঝারি নাশপাতিতে ১৭ গ্রাম চিনি থাকে। তবে দইয়ের সাথে এক বা দুই টুকরা নাশপাতি খাওয়া যেতে পারে। তবে নাশপাতিতে অনেক পরিমাণে ফাইবার থাকে তাই অনেক চিকিতসকেরা ডায়াবেটিস রোগীদের নাশপাতি খাওয়ার পরামর্শ দেন।

ডায়াবেটিস রোগীরা কি কি ফল খেতে পারবেন-

১। আমলকী-

আমলকীতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি পাওয়া যায়। ডায়াবেটিস রোগীরা আমলকী খেলে তাদের রক্তে চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

২। আনারস-

আনরাস একটি অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টি ভাইরাল ও অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল। আনারস খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। তাই আনারস খেলে ভাইরাল জ্বর কমে যায়। ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে আনারস খাওয়া হয়।

৩। আমড়া-

আমড়াতে ভিটামিন সি থাকে। আমরা একটি পুষ্টিকর টক জাতীয় ফল। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য আমড়া খাওয়া খুব ভালো।

৪। পেয়ারা-

পেয়ারাতে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি ও ডায়াটেরি ফাইবার থাকে। ডায়াটেরি ফাইবার থাকার কারণে জিআই খুবই কম থাকে ফলে রক্তে শর্করার পরিমাণ না বাড়িয়ে শরীরে পুষ্টি জোগায়। পেয়ারা কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধেও সাহায্য করে।

৫। আপেল- আপেল এমন একটি ফল যা প্রায় বছরের সব সময়েই পাওয়া যায়। আপেলে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে তাই আপেল খাওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যেও আপেল খাওয়া খুবই ভালো। আপেলে ফাইবারের পাশাপাশি ভিটামিন সি ও থাকে। আপেল খেলে অনেক সময় পেটে থেকে যায়।

৬। পিচ-

পিচ ফল খুব উপকারী একটা ফল। পিচ ফলে প্রচুর ফাইবার থাকে। প্রতিদিন পিচফল খেলে বিপাক হার বৃদ্ধি পায়। স্মুদি বানিয়েও পিচ ফল খাওয়া যেতে পারে। রোজ সকালে দই বা ঘোলের সাথে কিছুটা দারুচিনি গুড়া, আদা ও কয়েকটা পিচ ফল নিয়ে স্মুদি বানিয়ে খাওয়া যেতে পারে।

৭। স্ট্রবেরি-

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য স্ট্রবেরি খাওয়া খুবই উপকারী। কিছু কিছু ফল রক্তের শর্করা বাড়িয়ে দেয় কিন্তু স্ট্রবেরি ফল খেলে ডায়াবেটিসের মাত্রা কম থাকে। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের স্ট্রবেরী ফল খাওয়া যেতে পারে।

৮। জাম-

জাম অ্যান্টিওক্সিডেন্টের খুব ভালো উৎস। জাম ফল আকারেও খাওয়া যায় আবার সালাদ হিসাবেও খাওয়া যায়। জাম ফল ডায়াবেটিস দের জন্য ও খুবই উপকারী।

আরো পড়ুনঃ

ডায়াবেটিস রোগী কি লিচু খেতে পারবে

রোজায় ডায়াবেটিস রোগীদের কি কি বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে

ডায়াবেটিসের খাদ্য জেনে নিন

ডায়াবেটিসের চিকিৎসা সম্বন্ধে জেনে নিন

ডায়াবেটিসের কারণ, লক্ষণ ও পরীক্ষা

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
error: Content is protected !!

Adblock Detected

Please turn off your Adblocker.