ত্বকের যত্নরূপচর্চালাইফস্টাইল

তৈলাক্ত ত্বকের উপকারী ফেসপ্যাক

তৈলাক্ত ত্বকের যত্মে ফেসপ্যাক

যেকোন ঋতুতেই সুস্থ ত্বক পেতে চাইলে করতে হবে ত্বকের সঠিক যত্ন। ত্বকের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা থাকে প্রতিটি সমস্যার জন্য সমাধান ও আলাদা হয়ে থাকে।

তৈলাক্ত ত্বকের যত্ন নিতে হবে একটু বেশি। কারণ তৈলাক্ত ত্বকের ভোগান্তি ও বেশি। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য মেকআপ যতই সুন্দর করে করা হোক না কেন তেল উঠে মুখ তেলতেলে ও চিটচিটে হয়ে যায়।

তৈলাক্ত ত্বকের অনেক জ্বালা। বাইরে বের হলেই মুখে ধুলা ময়লা লেগে যায়। মুখে তেল থাকার কারণে এসব ময়লা মুখে বেশি আটকে যায়। ফলে ব্রণের সমস্যা দেখা দেয়। ব্রণের সমস্যা দূর করতে কৃত্রিম প্রসাধনীর চাইতে প্রাকৃতিক প্রসাধনীই বেশি কার্যকর। প্রাকৃতিক কিছু ফেসপ্যাক ত্বকের উজ্বলতা বৃদ্ধি করে পাশাপাশি ব্রণ দূর করে।

১। ডিম, শসা ও পুদিনার প্যাক –

ডিমের সাদা অংশ তৈলাক্ত ত্বকের জন্য খুবই ভালো কাজ করে। এটি ত্বকের তেল ভাব দূর করে। ত্বককে টানটান করতে সাহায্য করে। পুদিনা অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান হিসাবে ত্বকের ব্রণ দূর করে। শসা ত্বককে ভেতর থেকে ঠান্ডা করে। একটি ডিমের সাদা অংশের সাথে শসার রস ও পুদিনা পাতার পেস্ট একসাথে মিশিয়ে ত্বকে লাগাতে হবে। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে নিতে হবে।

২। বেসনের ফেসপ্যাক-

বেসন প্রাকৃতিক ফেসওয়াশ হিসাবে কাজ করে। বেসন মুখের তেলতেলে ভাব দূর করে মুখের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে। বেসন ব্যবহারে ত্বকের দাগ দূর হয়। ২ চামচ বেসন ও ৪ চামচ দুধ একসাথে ভালো মতো গুলিয়ে নিতে হবে। তারপর এই পেস্ট মুখে ও গলায় লাগাতে হবে। ১৫ মিনিট রেখে শুকিয়ে গেলে ধুয়ে নিতে হবে। সপ্তাহে ২ দিন এই ফেসপ্যাক ব্যবহার করতে হবে।

৩। শসার প্যাক –

শসা খুব ভালো টোনারের কাজ করে। শসা ত্বকের ভিতরের তেল নিয়ন্ত্রণ করে ও ত্বককে সতেজ রাখে। ২ টেবিল চামচ শসার পেস্ট, কয়েক ফোটা লেবুর রস ও ১ চা চামচ গোলাপজল মিশিয়ে নিতে হবে। তারপর প্যাকটী মুখে লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট রাখতে হবে। তারপর ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে নিতে হবে। এটি প্রতিদিন ব্যবহার করা যেতে পারে। আবার সপ্তাহে তিনদিন ও ব্যবহার করতে পারেন। এটি ব্যবহার করলে ত্বক ফ্রেশ ও তেলমুক্ত থাকবে।

৪। কমলার ফেসপ্যাক-

কমলার খোসা মুখের তেল দূর করতে সাহায্য করে। কমলার খোসা শুধু মুখের তেল দূর করে না পাশাপাশি ত্বককে গ্লোয়িং করে। ২ চামচ কমলালেবুর খোসার গুড়া, ৪ চামচ দুধ, ১ চামচ কাঁচা হলুদ বাটা একসাথে মিশিয়ে মুখে লাগাতে হবে। তারপর ২০ মিনিট রেখে দিতে হবে। এটি সপ্তাহে একদিন বা দুইদিন ব্যবহার করতে হবে।

এছাড়া ও কাঁচা হলুদ বাটা, চালের গুড়া, কমলার খোসা ও সামান্য মসুর ডাল বাটা একসাথে মুখে লাগিয়ে রাখতে হবে। ১৫ মিনিট রেখে ম্যাসাজ করে ধুয়ে নিতে হবে। তাহলে ত্বক টানটান থাকবে।

৫। লেবুর রস ও মধুর ফেসপ্যাক-

তৈলাক্ত ত্বকের জন্য লেবু খুব ভালো কাজ করে। লেবুতে সাইট্রিক এসিড থাকে যা তৈলাক্ত ত্বকের তেল নিয়ন্ত্রণ করে। লেবু ত্বকের ব্যাকটেরিয়া প্রতিরঢ করে ফলে মুখে ব্রণ উঠতে পারে না। ১ টেবিল চামচ লেবুর রস সাথে মধু মিশিয়ে গাঢ় করে তৈরী করে নিতে হবে। এটি ত্বকে ১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখতে হবে। ১৫ মিনিট পর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। এই প্যাকটি ত্বকে ব্যবহার করলে ব্রণ দূর হয়ে যায়। ব্রণের দাগ দূর হয়ে ত্বক উজ্জ্বল হয় ও ত্বকের তৈলাক্ত ভাব দূর হয়ে যায়। এটি সপ্তাহে দুইবার ব্যবহার করতে হবে।

৬। পাকা কলার ফেসপ্যাক-

কলা তৈলাক্ত ত্বকের জন্য খুবই কার্যকরী। এটি ত্বকের উজ্জ্বলতা ও কোমলতা বৃদ্ধি করে। লেবুর রস ত্বকের তেল ভাব দূর করে ও ত্বকের লাবন্যতা ফিরিয়ে আনে। মধু প্রাকৃতিক অ্যান্টি অক্সিডেন্ট হিসাবে কাজ করে। মধু ত্বকের ব্রণ ফুসকুড়ি দূর করে। মধু প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার হিসাবে কাজ করে।

১ টি পাকা কলা, ২ চা চামচ পাতি লেবুর রস ও ১ চা চামচ মধু নিতে হবে। কলার খোসা ছাড়িয়ে ভালো করে চটকে সাথে মধু ও পাতি লেবুর রস মিশিয়ে পেস্ট করে মুখে, গলায় ও হাতে লাগাতে হবে। লাগিয়ে ১৫ মিনিট রেখে দিতে হবে। তারপর নরম কাপড় দিয়ে মুখ মুছে নিতে হবে। এটি সপ্তাহে ২-৩ বার ব্যবহার করতে হবে।

প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে ফেসপ্যাক বানিয়ে মুখে ব্যবহার করলে খুব ভালো উপকার পাওয়া যায়। এগুলো ব্যবহার করতে করতে খুব ভালো সমাধান পাওয়া যায়।

আরো পড়ুনঃ

ঘরোয়া উপায়ে হাত ও পায়ের কালো দাগ দূর

সুন্দর ত্বক ও চুল পেতে কি করবেন?

ঘন ও লম্বা চুল পেতে রসুনের ব্যবহার

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!