লাইফস্টাইলসৌন্দর্য চর্চা

শিশুদের মাড়ি ও দাঁতের যত্নে যেসব খাবার খাওয়া যাবে?

শিশুর দাঁত ও মাড়ি সুস্থ রাখে যেসব খাবার

মুখ, দাঁত ও মাড়ির ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের ফলে যেসব রোগ দেখা দেয় সেগুলো শুধুমাত্র যে মুখের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে তা নয়, এসব রোগ লিভার, অগ্ন্যাশয়, হৃৎপিণ্ড, কিডনিকেও ক্ষতিগ্রস্থ করে দেয়। দাঁতের ও মুখের বিভিন্ন রোগের কারণে হাড় ক্ষয় ও হয়ে থাকে। তাই শিশু অবস্থা থেকেই দাঁতের ও মাড়ির যত্ন নিতে হয়। তাহলে দাঁতের সমস্যা দূর হয়ে যেতে পারে।

ছোটবেলায় দাঁত ও মাড়ির যত্ন ও অভ্যাসের উপর ভিত্তি করে দাঁতের স্বাস্থ্য নির্ভরশীল। শিশুর দাঁতের যত্ন নেওয়ার প্রথম শর্ত হচ্ছে শিশুর খাওয়াদাওয়ার প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। শিশুদেরকে কোল্ড ড্রিংকস, চকোলেট, আইসক্রিম, চিপস, ক্যান্ডি থেকে দূরে রাখতে হবে। শিশুদেরকে দাঁত ও মাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে শিক্ষা দিতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দাঁত ও মাড়ি ভালো রাখতে হলে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাদ্য আমাদের খাদ্যতালিকায় যুক্ত করতে হবে। অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট দাঁতের সংক্রমণ দূর করে ও দাঁতের প্রদাহের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। এটি দাতকে বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাদ্য হচ্ছে আঙ্গুর, বাদাম, আপেল, বিনস ইত্যাদি।

দাঁতের সমস্যা থাকলে গর্ভবতী নারীদের গর্ভপাত ও প্রিম্যাচিউর নবজাতক প্রসবের আশঙ্কা থাকে। তাই দাঁত ও মাড়ির যত্ন নেওয়া সার্বিকভাবে জরুরী। খাদ্য উপাদানের পরিবর্তন আনলে দাঁত ও মাড়ির সমস্যা অনেকটাই দূর করা যায়।

এখন দেখে নেওয়া যাক যেসব খাবার দাঁত ও মাড়ির সমস্যা দূর করতে পারে-

১। অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যুক্ত খাবারঃ

দাঁত, মুখ ও মাড়িকে বিভিন্ন ভাইরাস থেকে রক্ষা করার জন্য প্রতিদিন অ্যান্টি-অক্সিডেন্টযুক্ত খাদ্য খাওয়া উচিত। অ্যান্টি-অক্সিডেন্টযুক্ত খাদ্য হচ্ছে বেরিজাতীয় ফল যেমনঃ আমলকী, স্ট্রবেরী, জাম, আঙ্গুর ইত্যাদি। এসব খাবারে পলিফেনোল থাকে যা একটি উচ্চমানের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। এটি দাঁতের ক্যাভিটি প্রতিরোধে সাহায্য করে। গ্রিন টিতে ফ্যাভোনয়েডস নামক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে। এগুলো স্বাস্থ্যকর কোষ বজায় রাখে ও মুখের দূর্গন্ধ ও মাড়ির রক্তপাত দূর করতে সাহায্য করে।

২। ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও ভিটামিন ডিঃ

হাড়, দাঁত, মাড়ি ও দাঁতের এনামেল শক্ত ও মজবুত করতে প্রয়োজনীয় খনিজ লবণ যেমন ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস । একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের দেহে দৈনিক চাহিদা ১০০০-২০০০ মিলিগ্রাম এবং ফসফরাসের দৈনিক চাহিদা ৪০০ মিলিগ্রাম।

ক্যালসিয়ামযুক্ত খাদ্য হচ্ছে দুধ, দই, ছানা, চিয়া সিড, পনির, তিলবীজ, কাঠবাদাম, পালংশাক, ব্রকলি, ছোলা ডাল, ফুলকপি, বাধাকপি, শালগম ইত্যাদি। ফসফরাসযুক্ত খাদ্য হচ্ছে ডাল, মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, সয়াবিন, শিমের বিচি ইত্যাদি। ক্যালসিয়াম শোষিত হওয়ার জন্য ভিটামিন ডি প্রয়োজন। ভিটামিন ডি এর দৈনিক চাহিদা ৬০০ আইইউ। ভিটামিন ডি এর মূল উৎস হচ্ছে সূর্যালোক। ভিটামিন ডিযুক্ত খাদ্য হচ্ছে মাশরুম, ডিমের কুসুম, কলিজা, তৈলাক্ত মাছ ইত্যাদি।

৩। ম্যাগনেশিয়ামঃ

রক্ত অতিরিক্ত এসিডীয় হলে দাঁত দূর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে যায়। ম্যাগনেশিয়াম এসিডের সমস্যা বজায় রাখে। ফলে দাঁত শক্ত ও মজবুত থাকে। ম্যাগনেশিয়ামের দৈনিক চাহিদা ৩০০-৩৫০ মিলিগ্রাম। ম্যাগনেশিয়াম সমৃদ্ধ খাদ্য হচ্ছে পালংশাক, কলা, চিনাবাদাম, কাঠবাদাম, মিষ্টি কুমড়ার বিচি, তিসিবীজ, দই, দুধ, গুড়, মধু ইত্যাদি।

। ভিটামিন সিঃ

মাড়ি থেকে রক্ত ঝরা প্রতিরোধে ভিটামিন সি যুক্ত খাদ্য গ্রহন করা জরুরি। মুখ, দাঁত ও মাড়ির প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে ভিটামিন সি যুক্ত খাদ্য। ভিটামিন সি এর দৈনিক চাহিদা ৭০-৯০ মিলিগ্রাম। ভিটামিন সি যুক্ত খাদ্য হচ্ছে লেবু, আনারস, মাল্টা, পেপে, ক্যাপসিকাম, ধনেপাতা, পালংশাক ইত্যাদি।

৫। আশযুক্ত খাদ্যঃ

দাঁত ও মাড়ির পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাকারী হিসাবে কাজ করে আশযুক্ত খাদ্য। শাক-সবজি ও মৌসুমি রঙ্গিন ফলমূলে আশ থাকে। দৈনিক আশযুক্ত খাদ্যের চাহিদা ৩০ গ্রাম। এটি ক্যাভিটি প্রতিরোধে সাহায্য করে। আশযুক্ত খাদ্য হচ্ছেঃ আপেল, শসা, তরমুজ, বিট, গাজর, পেয়ারা ইত্যাদি।

৬। ভিটামিন কেঃ

দাঁতের ক্যাভিটি প্রতিরোধ করে ও মাড়ির রক্তক্ষরণ দূর করতে সাহায্য করে ভিটামিন কে সমৃদ্ধ খাদ্য। এর দৈনিক চাহিদা ৯০-১২০ মাইক্রোগ্রাম। ধনেপাতা, পুদিনাপাতা, শসা, পালংশাক ইত্যাদিতে ভিটামিন কে পাওয়া যায়।

আরো পড়ুনঃ শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্য হলে কি করবেন?

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button