পুষ্টি পরামর্শ
Trending

দারুচিনির বিভিন্ন গুণাগুণ ও উপকারিতা

দারুচিনির গুনাগুণ

দারুচিনিকে আমরা মশলা হিসাবে ব্যবহার করে থাকি। দীর্ঘদিন ধরে দারুচিনি খাবারের স্বাদ ও গন্ধ বৃদ্ধি করে আসছে। যেকোন ধরনের মাংস রান্না করতে দারুচিনির ব্যবহার করা হয়। মাঝে মাঝে সেটা গুড়া আকারে দেওয়া হয় আবার মাঝে মাঝে টুকরা দারুচিনি ও দেওয়া হয়। আবার যেকোন ধরনের মিষ্টি জাতীয় খাদ্যতে দারুচিনি ব্যবহার করা হয়। সেমাই, পায়েস, হালুয়া ইত্যাদি মিষ্টি জাতীয় খাবারে দারুচিনি একটা নতুন মাত্রা যোগ করে।

শুধু যে রান্নাতেই দারুচিনি একটা উপকারি উপাদান তা নয় দারুচিনি ত্বক ও শরীরের অনেক উপকার করে। দারুচিনির অনেক ওষধি গুণাগুণ রয়েছে। এটি ভেষজ অ্যান্টিওক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ।

প্রাচীন মিশরে ২০০০ খ্রিস্টাব্দ থেকে দারুচিনি মশলা ও ঔষধ হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। আমেরিকা, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে গোল মরিচের পর দারুচিনি দ্বিতীয় মশলা। মশলা হিসাবে আস্ত দারুচিনি ও গুড়া দারুচিনি যেমন ব্যবহার করা হয় তেমনি দারুচিনির তেল ও ব্যবহার করা হয়।

দারুচিনি গাছের ছালে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের উপকারী উপাদান। যেমন- সিনামাডিহাইড, সিনামিক অ্যাসিড, সিনামেট। এসব উপাদান শরীরের নানা উপকার করে থাকে।

১০০ গ্রাম দারুচিনির পুষ্টিউপাদান-

  • খাদ্য শক্তি- ৩৫৫ কিলোক্যালরী
  • আমিষ- ৪.৬ গ্রাম
  • শ্বেতসার- ৫৯.৫ গ্রাম
  • চর্বি- ২.২ গ্রাম
  • খনিজ লবণ- ৩.৫ গ্রাম
  • ভিটামিন বি ১- ০.১৪ মি.গ্রা.
  • ভিটামিন বি ২- ০.২১ মি.গ্রা.
  • ভিটামিন সি- ৩৯.৮ মি.গ্রা.
  • ক্যালসিয়াম- ১.৬ মি.গ্রা.
  • লৌহ- ০.০০৪ মি.গ্রা.
  • ক্যারোটিন- ১৭৫ মি.লি.গ্রাম
দারুচিনির উপকারিতা

দারুচিনির উপকারিতা-

১। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে-

দারুচিনি আমাদের রক্ত তরল করতে সাহায্য করে। দেহের রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখে ও হজমে সহায়তা করে। ফলে যারা ওজন কমাতে চায় তাদের জন্য দারুচিনি খুব ভালো কাজ করবে।

২। ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখে-

টাইপ টু ডায়াবেটিস রোগীরা প্রতিদিন আধা চা চামচ দারুচিনি খেলে ট্রাইগ্লিসারাইড বা খারাপ কোলেস্টেরল কমে যাবে। তাই প্রতিদিন ১২০ মিলিগ্রাম পরিমাণ দারিচিনি খেলে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে। ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ে।

৩। হৃদরোগের আশঙ্কা কমায়-

দারুচিনি খেলে হৃদযন্ত্রের বিভিন্ন অসুখ থেকে সমাধান পাওয়া যায়। প্রতিদিন দারুচিনি খেলে হৃদযন্ত্রের যেকোন রোগ হওয়ার আশঙ্কা কমে যায়।

৪। অ্যান্টি অক্সিডেন্ট বাড়ায়-

দারুচিনি একটি অ্যান্টি অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাদ্য। ফ্রি রেডিকেলের মাধ্যমে যে অক্সিডেটিভ ক্ষতি হয় তার হাত থেকে শরীরকে রক্ষা করে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট। দারুচিনিতে পলিফেলন নামক অ্যান্টি অক্সিডেন্ট থাকে। অন্যান্য মশলার তুলনায় দারুচিনিতে অনেক বেশি অ্যান্টি অক্সিডেন্ট থাকে। এজন্য একে সুপার ফুড মনে করা হয়। দারুচিনির এই অ্যান্টি অক্সিডেন্ট আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। শরীরের যেকোন ক্ষত সারাতে দারুচিনি খুব ভালো কাজ করে।

৫। অ্যাসিডিটি দূর করে-

দারুচিনি পেটের জন্য খুব ভালো কাজ করে। এটি অ্যাসিডিটির সমস্যা দূর করে। পেটের যেকোন ব্যথা দূর করে। মধু ও দারুচিনি একসাথে মিশিয়ে খেলে এসিডিটি দূর হয়।

৬। দাঁতের ক্ষয় ও মাড়ির সমস্যা দূর করে-

দারুচিনির তেল চুইংগাম, মিন্ট চকলেট, মাউথ ওয়াশ , টুঠপেস্ট ইত্যাদি তৈরীতে সাহায্য করে। দারুচিনি্তে বিদ্যমান উপাদান দাঁত ও মাড়ির ক্ষতি করে। মুখের ভিতরের ব্যাক্টেরিয়া প্রতিরোধ করে। দাঁতের যন্ত্রণায় দারুচিনি গুঁড়া দাঁতের গোড়ায় টিপে লাগিয়ে দিলে ভালো কাজ করে। ৩/৪ গ্রাম দারুচিনি গুঁড়া আধা কাপ গরম পানিতে কিছু সময় ভিজিয়ে রেখে ছেঁকে নিয়ে সেই পানি মুখে দিয়ে ৫-৭ মিনিট রাখলে খুব ভালো উপকার পাওয়া যায়।

৭। কন্ঠস্বর বিকৃতিতে বা গলক্ষতে-

কন্ঠস্বর সাময়িকভাবে বিকৃত হলে ১ গ্রাম দারুচিনি গুড়া করে ভালো ভাবে আধা কাপ গরম পানিতে রাতে ভিজিয়ে পরের দিন সকালে সেই পানি খেলে কন্ঠস্বর স্বাভাবিক হয়। গলক্ষতের জন্য সকাল বিকাল দুইবেলা এই পানি খেতে হবে।

৮। পেটের উপকার করে-

দারুচিনি পেটের জন্য খুব উপকারী। এটি অ্যাসিডিটি দূর করে। পেটের ব্যথা উপশম করে। পেট পরিষ্কার করতে রাতে শোবার আগে দারুচিনির সাথে হরিতকি গুড়া মিশিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়। এসিডিটি দূর করতে দারুচিনির সাথে মধু মিশিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়।

৯। ক্রিমি প্রতিরোধে-

ঝুরা ক্রিমির হাত থেকে রক্ষা পেতে দারুচিনির গুঁড়া সিকিগ্রাম পানির সাথে মিশিয়ে খেলে খুব ভালো উপকার পাওয়া যায়।

১০। মেছতা দূর করতে-

এক থেকে দেড় গ্রাম দারুচিনি রাতে এক গ্লাস গরম পানিতে ভিজিয়ে রেখে পরের দিন ছেঁকে নিয়ে সকালে ও বিকালে দুইবেলা ওই পানি খেতে হবে। কেউ কেউ আবার ৩/৪ গ্রা, দারুচিনি থেতো করে দুই কাপ পানিতে সিদ্ধ করে এক কাপ হলে নামিয়ে ছেঁকে দুইবার খাওয়া কথা বলেন। এতে আস্তে আস্তে মেসতা দূর হয়ে যায়।

১১। দাদ ও একজিমায়-

৩ গ্রাম দারুচিনি থেতো করে ২ কাপ পানিতে সিদ্ধ করে ১ কাপ থাকতে নামিয়ে নিয়ে ছেঁকে কিছু খাওয়ার পর সকালে ও বিকালে খেতে হবে। সেই সাথে ২/৩ গ্রাম দারুচিনি বেটে অল্প একটু দুধের সরের সাথে মিশিয়ে দিলে দাদ ও একজিমা ঠিক হয়ে যায়।

১২। বাতের ব্যথা দূর করে-

দারুচিনিতে ম্যাঙ্গানিজ থেকে যা আমাদের দেহের হাড় ও দাঁতের ও রক্তের টিস্যু গঠনে সাহায্য করে। যারা বাতের সমস্যায় আছে তারা যদি দারুচিনির তেল বা চা পান করে তাহলে বাতের ব্যথা দূর হয়ে যায়।

এছাড়াও দারুচিনি স্মৃতি শক্তি বৃদ্ধি করে, ক্যান্সার প্রতিরোধ করে , বাত ও অস্টিওপোরোসিস দূর করে, ব্যাক্টেরিয়া জনিত পেটের অসুখ দূর করে।

ঠান্ডা জনিত যেকোন রোগ, খাদ্যে বিষক্রিয়া, ব্যাক্টেরিয়া, ফাংগাস প্রতিরোধ করে দারুচিনি। ঠান্ডা লাগলে, গলা খুশখুশ করলে মধু চায়ের সাথে দারুচিনি মিশিয়ী খেলে খুব উপকার পাওয়া যায়।

আরো দেখুন-

Related Articles

Back to top button
error: Content is protected !!

Adblock Detected

Please turn off your Adblocker.