গৃহসজ্জালাইফস্টাইল

নতুন বছরে ঘর সাজান নতুন করে

বছরের প্রথমে সবকিছু একটু নতুন হলে সবারই ভালো লাগে। নতুন বছরে নিজেদের ঘরটাও যদি একটু পরিপাটি করে সাজিয়ে তোলা যায় তাহলে কিন্তু ব্যাপারটা মন্দ হয়না। মূলত করোনার কারণে বছর জুড়ে অনেকটা সময় ঘরে থাকতে হয়েছে।

ঘরের ভিতরের নকশা অনেকটা বেশি গুরুত্ব বহন করে। কারণ ঘরের ভিতরের নকশা আমাদের মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুসারে, ঘর আমাদের মনকে অনেক বেশি আনন্দ দান করে। মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে ঘর অনেকবেশি প্রভাব বিস্তার করে। ঘরের সাজসজ্জ্বা মনে ইতিবাচকতা ও নেতিবাচকতা টেনে আনে। তাই নতুন বছরে মনের শান্তির জন্য ঘরের ভোল বদল করে নিতে পারেন।

ঘর সুন্দর করে সাজাতে অনেক বেশি দামি জিনিসপত্রের প্রয়োজন পড়ে না। ঘর ছিমছাম ও হালকা আসবাবপত্র দিয়ে সুন্দর করে সাজালে কিন্তু মন্দ লাগে না। ঘর সুন্দর করে সাজাতে প্রয়োজন খানিকটা বুদ্ধি ও সৃজনশীলতার।

নতুন বছরে ঘর সাজাতে একটুখানি নতুন রঙয়ের ছোয়া রাখতে পারেন-

ঘর সাজাতে হলে প্রথমেই ঘরের রঙয়ের দিকে নজর দিতে হবে। ঘরের রং ঠিক থাকলে আমাদের মন ও প্রশান্ত থাকবে। মনের উপর চাপও কমবে। আবার ঘরে যদি একটু ভুল রং দেওয়া যায় তাহলে মন অবসাদ হয়ে উঠবে ও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে যাবে। তখন মনের উপর খুব চাপ পড়বে।

খুব হালকা ধরনের একরঙা রঙ্গকে বেজ রং বলা হয়। যে ঘরে সবথেকে বেশি সময় কাটানো হয় সেখানে বেজ কালার করতে পারেন। যেমন আপনার শোবার ঘর। শোবার ঘরে হালকা রং করলে অনেক বেশি আরামদায়ক মনে হবে ও ঘরটি আলো বাতাসে পরিপূর্ণ মনে হবে। চোখে ও মনে প্রশান্তি দিবে।

মনের রঙে রাঙ্গিয়ে তুলুন আপনার ঘর

বেজ কালারের সাথে আপনার নিজের পছন্দ মতো একটা কালারের শেড দিতে পারেন। তাহলে আপনার ঘরটা আরো বেশি স্বস্তিদায়ক হয়ে উঠবে। দেয়ালে চাইলে কিছুটা আলপনাও আকা যেতে পারে।

ঘরে আলো-বাতাস ঢোকার ব্যবস্থা করতে হবে-

ঘরে আসুক পর্যাপ্ত আলো-বাতাস

ঘরের মাঝে কৃত্রিম পরিবেশ সৃষ্টি হলে অনেক বেশি দম আটকা মনে হবে। তাই ঘরে যতটা সম্ভব প্রাকৃতিক পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। প্রাকৃতিক পরিবেশ সৃষ্টি করতে হলে প্রাকৃতিক উপকরণ ব্যবহার করতে হবে। ঘরে বাড়াতে হবে উজ্জ্বল আলোর ব্যবস্থা। সেজন্য ঘরে সূর্যের আলো প্রবেশ করতে দিতে হবে। তাহলে মেজাজ সবসময় থাকবে ফুরফুরে। এজন্য শীতপ্রধান দেশের মানুষ অনেক বেশি অবসাদে ভোগে। তাদের দেশে দিন ছোট হওয়ায় সূর্যের আলো পর্যাপ্ত পাওয়া যায় না। সূর্যের আলো শরীর ও মন উভয়ের জন্যই ভালো। প্রাকৃতিক আলো-বাতাস আমাদের মনকে ফুরফুরে করে তোলে ও মনে শক্তি জোগাতে সাহায্য করে।

র সাজাতে ব্যবহার করতে হবে প্রাকৃতিক উপাদান-

ঘরে থাকুক সবুজের ছোয়া

ঘরের সৌর্ন্দয ধরে রাখতে চাইলে প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে ঘর সাজানো উচিত। তাহলে মন সতেজ ও প্রফুল্ল থাকবে। ইনডোর প্ল্যান্ট দিয়ে ঘর সাজালে ঘর অনেক বেশি প্রাণবন্ত থাকবে ও ঘরে সবুজের ছোয়া পাওয়া যাবে। গাছের অক্সিজেন মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। তাই ঘরে প্রাকৃতিক পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাইলে গাছ লাগানোর কোন বিকল্প নেই। মনের প্রফুল্লতা ও আনন্দের জন্য অনেক বেশি গাছ লাগানো যেতে পারে। গাছের যত্ন নিলে মন ভালো থাকে।

আসবাবপত্রের পরিমিত ব্যবহার-

ছিমছাম করে ঘর সাজানো

ঘরকে সুন্দর করে ছিমছামভাবে সাজিয়ে রাখতে চাইলে আসবাবপত্রের পরিমিত ব্যবহার করতে হবে। ভারী ভারী আসবাবপত্র দিয়ে ঘর সাজিয়ে রাখলে ঘরে অনেকটা দম বন্ধ লাগবে। চোখের আরাম পাওয়া যাবে না। তাই ঘরে সবসময় বুঝে শুনে আসবাবপত্র রাখা উচিত। তাহলে ঘরের জায়গা নষ্ট হবে না। আবার পাশাপাশি ঘরে প্রশান্তি ও পাওয়া যাবে।

শিল্পকর্ম রাখা যেতে পারে-

ছবি দিয়ে ঘর সাজানো

ঘরে নানাধরনের শিল্পকর্ম রাখা হলে মনে বেশ প্রশান্তি আসে। বিভিন্ন ধরনের চিত্রকর্ম ছাড়াও মৃৎশিল্প, সিরামিক, ভাস্কর্য ও কাচের তৈরী জিনিসপত্র দিয়ে ঘর সাজানো যেতে পারে। তাহলে মনের উপর চাপ কম পড়বে। এসব শিল্পকর্ম মনে একটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে সাহায্য করে।

আরো পড়ুনঃ

শীতে লেপ, কম্বল বের করে কিভাবে বাড়িতেই পরিষ্কার করতে হবে?

ছাদ বাগান পরিচর্যা

ঘর গুছিয়ে রাখার টিপস

শীতে যেসব ফুলগাছ লাগাতে পারেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
error: Content is protected !!

Adblock Detected

Please turn off your Adblocker.