অন্যান্যরোগতত্ত্ব

পিঠের ব্যথা কমাতে করণীয়

বর্তমানে অনেকেরই পিঠে ব্যথার সমস্যা দেখা যাচ্ছে। নারী, পুরুষ কেউই বাদ পড়ছে না এই ব্যথা থেকে। কারো বয়স হলে এই ব্যথা শুরু হচ্ছে আবার কারো অল্প বয়সেই এই ব্যথা শুরু হচ্ছে। পিঠের এই ব্যথা পেইন কিলারে সামান্য কমলেও কিছুদিনের মাঝে আবার এই ব্যথা শুরু হয়ে যায়।

নানা কারণে পিঠের এই ব্যথা হতে পারে। যেমন- অনিয়ন্ত্রিত জীবন, পুষ্টির অভাব, সুষম খাদ্য না খাওয়া, কাজের অতিরিক্ত চাপ, স্বাস্থ্য অসচেতনতা ইত্যাদি কারণে পিঠের এসব ব্যথা দেখা দিতে পারে।

পিঠের দিকের যেসব মাসল, লিগামেন্ট ও জয়েন্ট ও হাড় থাকে সেসব যদি সুষ্ঠুভাবে কাজ না করে তাহলে পিঠের এসব ব্যথা দেখা দেয়। আর্থ্রাইটিস থাকলে বা কখনো কোন আঘাত পেলে এই ব্যথা হতে পারে। আবার আমাদের বসে থাকার ভঙ্গিমার ভুলের জন্য ও পিঠে ব্যথা হতে পারে।

পিঠের এসব ব্যথা অনেকদিন ধরে চলতে থাকলে আমাদেরকে ডাক্তারের কাছে যেতে হয়। আবার অনেকেই সার্জারির কথা ও ভেবে থাকে। কিন্তু অল্প কিছু নিয়ম মেনে চললেই আমরা পিঠের এসব ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে পারি। যেমন-

১। আমাদের শরীরের যেকোন ধরনের সমস্যা দেখা দিলেই আমাদের প্রথমে নজর দিতে হবে আমাদের খাদ্যতালিকা সঠিক আছে কিনা। পিঠের ব্যথা দেখা দিলে যেসব খাবার পিঠের ব্যথা কমায় সেসব খাবার খেতে হবে। আবার যেসব খাবার পিঠের ব্যথা বাড়ায় সেসব খাবার বাদ দিতে হবে। কিছু সামুদ্রিক মাছ আছে যেগুলো পিঠের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। আবার সয়া শস্য জাতীয় খাদ্য, তিসি, বাদাম, সবুজ চা, আদা, চেরি, প্রভৃতি খাবার পিঠের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।

অন্যদিকে প্রক্রিয়াজাত খাদ্য যেমন- ভাজাপোড়া, মার্জারিন নামে পরিচিত প্রাণীজ ওউদ্ভিদের চর্বি থেকে তৈরীকৃত মাখন, অতিরিক্ত মাত্রায় সম্পৃক্ত চর্বি ও ট্রান্সফ্যাটের খাবার পিঠে ব্যথা বাড়ায়। আবার এসব খাবার ওজন বাড়ায় ও হার্টের জন্য ও খুবই ক্ষতিকর।

পিঠে ব্যথা

২। পিঠের ব্যথা কমাতে আইস প্যাক ব্যবহার করা যেতে পারে। দিনে ২০-৩০ মিনিট করে ঠান্ডা শেক দিলে আরাম পাওয়া যায়। ব্যথা যখন কিছুটা কমে আসবে তখন গরম শেক দিতে হবে। তাহলে ধীরে ধীরে ব্যথা গায়েব হয়ে যাবে।

৩। ভিটামিন ডি এর অভাবে পিঠের ব্যথা হতে পারে। তাই শরীরে পর্যাপ্ত রোদ লাগাতে হবে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, ১৫-৫২ বছর বয়সীদের মধ্যে যারা দীর্ঘস্থায়ী পিঠের ব্যথায় ভুগছেন তাদের ৮০ শতাংশ ভিটামিন ডি এর অভাবে হয়ে থাকে।

৪। স্ট্রেচিং করলে শরীরে রক্ত চলাচল ভালো করে হয়। যোগব্যায়াম করলে শরীরে খুব ভালো স্ট্রেচিং হয়। বাড়িতেই চাইলে কিছু স্ট্রেচিং করে নেওয়া যেতে পারে। ঘুম থেকে ওঠার পর বিছানা থেকে ওঠার আগেই দুই হাত টানটান করে মাথার উপরে তুলে দিতে হবে। পায়ের পাতা ঠেলে দিয়ে যত দূর পর্যন্ত নেওয়া যায় নিতে হবে। যত সময় সম্ভব এভাবে থাকতে হবে। তারপর সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে হাত তুলে মাথার উপর তারপর ধীরে ধীরে হাত নামিয়ে পায়ের পাতা ছুতে হবে। পা যেন না ভাঙ্গে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

৫। প্যারাসিটামল বা এই জাতীয় ব্যথার ওষুধ না খাওয়াই ভালো। তার থেকে গরম সেক নেওয়া ভালো। গরম পানির ব্যাগ পিঠ বা কোমড়ের কাছে রেখে রাতে ঘুমালে বেশ ভালো আরাম পাওয়া যায়। একধরনের গরম সেক দেওয়ার ব্যাগ আছে যেগুলো পিঠে বেধে রাখা যায়। ৪০ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় আট ঘণ্টা রেখে গরম সেক দেওয়া যেতে পারে।

৬। অফিসে কাজের সময় পায়ের নিচে ছোট একটা পিড়ি রাখলে বেশ আরাম পাওয়া যায়। তাহলে ব্যথা সেরে যায়। হাটু যেন নিতম্বের একটু উপরে থাকে সেই বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। এতে পিঠে নিচের অংশে চা্প কম পড়ে ও পিঠে কম ব্যথা অনুভূত হয়।

৭। প্যান্টের পকেটে কারো যদি মোটা মানিব্যাগ থাকে তাহলে সারাদিন চেয়ারে বসে অফিস করলে পিঠে ব্যথা হতে পারে। এতে মেরুদন্ডে খোচা লাগে ও নিতম্বের গুরুত্বপুর্ণ স্নায়ুতে চাপ পড়ে। ফলে স্নায়ুর প্রদাহ সৃষ্টি হয়। তাই মানিব্যাগ যথাসম্ভব কৃশকায় রাখতে হবে।

৮। চেয়ারে বসার সময় একেবারে পিঠ টানটান করে বসতে হবে। সামনের দিকে ঝুকে বসে বা কুজো হয়ে বসে থাকা যাবে না। তাহলে পিঠের উপর অনেক চাপ পড়বে। তাই পিঠের ব্যথা কমাতে সোজা হয়ে বসার কোন বিকল্প নেই।

৯। অনেক সময় বালিশের কারণে পিঠে ব্যথা হতে পারে। তাই পিঠে ব্যথা কমানোর জন্য বালিশ পাল্টানো যেতে পারে।

১০। পিঠে ব্যথা অনুভূত হলে জুতা বদলাতে পারেন। তবে এটা সবসময় কাজ করবে এমনটা নয়। ব্যথা কমলেও কমতে পারে। যারা স্নিকার্স পড়েন তারা স্যান্ডেল পড়ে দেখতে পারেন। আবার যারা স্যান্ডেল পড়েন তারা স্নির্কাস পড়তে পারেন। টানা দুই বা তিনদিন নতুন ধরনের জুতা পড়লে আরাম পেতে পারেন।

১১। স্ট্রেসের কারণেও শরীরের কোন কোন অংশে ব্যথা হতে পারে। তাই স্ট্রেস কমাতে হবে ও ঘুম বাড়াতে হবে।

১২। সোজা হয়ে ঘুমালে পিঠে কোন ধরনের ব্যথা হয় না। যারা পাশ ফিরে ঘুমান তারা কোলবালিশ ব্যবহার করতে পারেন।

১৩। দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করতে থাকলে কিছু সময়ের জন্য হেটে নিতে হবে। দীর্ঘ সময় ধরে বসে থাকলে ফ্যাট ঝরানোর উতসেচক ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। ২ ঘণ্টা পর ভালো কোলেস্টেরল কমে যায় ২০ শতাংশ, ৪ ঘন্টা পর রক্তে ইনসুলিনের মাত্রা কমে যায়। ফলে ঘাড়ে, পিঠে ব্যথা হয়।

১৪। ফ্রোজেন শোল্ডার বা স্টিফ জয়েন্টের সমস্যায় অনেকেরই সার্ভিক্যাল কলার বা ব্যাক ব্রেস পড়েন। কিন্তু কোন আঘাত না থাকলে এটি পরা উচিত নয়। তাহলে পিঠে ব্যথা হতে পারে।

১৫। বসা, হাটা, শোয়া, দাঁড়ানোর ধরনের উপর ও এসব ব্যথা নির্ভর করে। তাই সবসময় সোজা হয়ে বসা, দাঁড়ানো, শোয়া, হাটা উচিত।

আরো পড়ুনঃ

অল্প বয়সে কেন হার্ট অ্যাটাক হচ্ছে?

আর্দশ হাটার উপকারিতা

ডায়াবেটিস রোগীরা কোন ফল খেতে পারবে ও কোন ফল খেতে পারবে না?


Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
error: Content is protected !!

Adblock Detected

Please turn off your Adblocker.