পুষ্টি পরামর্শ

পুইশাকের পুষ্টিগুণ

পুইশাকের পুষ্টিগুণ

কথায় আছে, ” শাকের মধ্যে পুই আর মাছের মধ্যে রুই”। গরমের যেকোন শাক সবজির মাঝে পুইশাক খুব বেশি জনপ্রিয়। দেশজুড়ে সবার মাঝেই পুইশাক খুব বেশি গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছে। পুইশাক একটি সহজলভ্য, পুষ্টিকারক ও তৃপ্তিদায়ক শাক।

পুইশাক খুবই সুস্বাদু একটি শাক। সবজির বাজারে প্রায় সারা বছরই পুই শাক দেখতে পাওয়া যায়। এই শাক নানাভাবে রান্না করে ও ভাজি করে খাওয়া যায়। পুইশাক দুই ধরনের হয়ে থাকে। লাল ও সবুজ দুই ধরনের পুইশাক পাওয়া যায়।

পুইশাকের বহু পুষ্টিগুণ রয়েছে। পুইশাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি, সি ও এ পাওয়া যায়। পুইশাকে ক্যালসিয়াম ও আয়রন পাওয়া যায় ব্যাপক মাত্রায়। পুইশাকে ফলিক এসিড,পটাশিয়াম, জিংকসহ নানা ধরনের খনিজ পর্দাথ পাওয়া যায়। নানা ধরনের ভিটামিন সমৃদ্ধ এই শাকটি বহুবিধ রোগ প্রতিরোধ করার পাশাপাশি ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে।

পুইশাক দামে সস্তা হওয়াতে এটি খুব বেশি সহজলভ্য হয়ে থাকে। পাতাসহ পুইশাকের রয়েছে বহু পুষ্টিগুণ। এটি মুত্রকারক। গনোরিয়া রোগের জন্য এটি খুব উপকারী। অর্শ রোগে অতিসার, স্রাব ইত্যাদিতে পুইশাকের বহুল ব্যবহার রয়েছে। পুই শাক পাতার রস ছোটদের সর্দিতেও কাজে লাগে।

পুইশাকের পুষ্টিগুণাগুণ-

পুইশাকে প্রচুর পুষ্টিগুণ রয়েছে। নিয়মিত পুইশাক খেলে শরীরের অনেক উপকার হয়। নিচে পুইশাকের পুষ্টিগুণ দেওয়া হলো-

১০০ গ্রাম অর্থাৎ ৪ কাপ পুইশাকের পুষ্টিগুণঃ

ক্যালরি- ২৫ কিলোক্যালরি

ভিটামিন সি- ৫১.৮ মিলিগ্রাম

ভিটামিন এ- ১৭০ I. U.

পানি- ৯১.৮ গ্রাম

প্রোটিন- ২.৪ গ্রাম

শর্করা- 2.১ গ্রাম

ফ্যাট- ০.৩ গ্রাম

পুইশাকের উপকারিতা

১। হাড় গঠনে-

পুইশাকে ভিটামিন কে থাকে যা হাড় গঠনে সাহায্য করে। ভিটামিন কে হাড়ের মেট্রিক্স প্রোটিন উন্নত করে। আবার ক্যালসিয়াম ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ইউরিনে ক্যালসিয়ামের মাত্রা কম করে। এভাবে পুইশাক হাড়ের গঠনে সাহায্য করে।

২। ক্যান্সার প্রতিরোধ করে-

পুইশাকে রয়েছে ক্লোরোফিল। এটি ক্যান্সার কোষ সৃষ্টির জন্য দায়ী কার্সিজেনিক প্রভাব আটকাতে সাহায্য করে। এতে ফাইবারের পরিমাণ বেশি থাকে। ফলে ফাইবার পাকস্থলী ও কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

৩। হজমের ক্ষমতা বৃদ্ধি-

পুইশাক হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। এতে যেহেতু প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে তাই এটি কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা থেকে দূরে রাখে। শরীর থেকে বর্জ্য পর্দাথ অপসারণ করতে সাহায্য করে। পুইশাক বদহজম প্রতিরোধ করতেও সাহায্য করে।

৪। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ-

পুইশাকে খুব বেশি পরিমাণে পটাশিয়াম থাকে। এটি রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। পটাশিয়াম দেহের সোডিয়ামের মাত্রা ঠিক রাখে। তাই নিয়মিত পুইশাক খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে।

৫। চর্মরোগ কমায়-

পুইশাকে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিওক্সিডেন্ট। তাই এটি ত্বকের কোচকানো বা বয়সের ছাপ কমাতে সাহায্য করে। এটি ত্বকের উপরে জমে থাকা বিষাক্ত উপাদান জমতে বাধা প্রদান করে। পুইশাক ত্বকের টিস্যুগুলোকে মজবুত করে গড়ে তুলতে সাহায্য করে। এছাড়া পুইশাকে রয়েছে ভিটামিন এ। এটি আমাদের ত্বকের আর স্ক্যাল্পের তেল নিঃসরণকে নিয়ন্ত্রিত করে। ত্বকের ময়েশ্চার ধরে রাখে। ত্বকে অতিরিক্ত তেল নিঃসরণ হলে ব্রণ হয়। পুইশাক তা কমায় ফলে ব্রণ হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।

৬। ডায়াবেটিস কমায়-

পুইশাকে লিপোইক অ্যাসিড নামে এক ধরনের অ্যান্টি অক্সিডেন্ট থাকে। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে সাহায্য করে ও ইনসুলিনের ভারসাম্য বজায় রাখে। ফলে পুইশাক ডায়াবেটিস কমাতে সাহায্য করে।

৭। নিয়মিত পুইশাক খেলে পাইলস, ফিস্টুলা ও হেমোরয়েড ইত্যাদি অসুখ হুওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।

৮। পুইশাক দেহ থেকে সঠিক পরিমাণে বর্জ্য পর্দাথ নিষ্কাশন করে বদহজম, গ্যাস, এসিডিটি সহ নানা সমস্যা দূর করে।

৯। পুইশাকে ত্বকের রোগজীবাণু দূর করে। শারীরিক বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। চোখের দৃষ্টি শক্তি ভালো রাখতে পুইশাক সাহায্য করে।

১০। পুইশাক চুল ভালো রাখতেও সাহায্য করে।

তাই আপনাদের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পুইশাক রাখা উচিত।

আরো পড়ুনঃ

গর্ভাবস্থায় কিসমিস খাওয়া উপকারী না অপকারী?

কাঁচা পেপে গর্ভপাতের ঝুকি বাড়ায়

শীতে গাছের যত্ন

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
error: Content is protected !!

Adblock Detected

Please turn off your Adblocker.