ফিচার
Trending

বর্ষাকালে পোকামাকড়ের উপদ্রব থেকে বাচতে করণীয়।

বর্ষাকালে পোকা মাকড়ের হাত থেকে রক্ষা

প্রকৃতিতে এসেছে বর্ষাকাল। বর্ষাকালে আমাদের সবার ঘরবাড়ি যতই সুন্দর করে পরিপাটি রাখতে চাই না কেন ঘরবাড়ি যেন স্যাতস্যাতে হয়ে থাকবেই। বর্ষায় প্রকৃতি সুন্দর করে সাজলে কি হবে আমাদের ঘরবাড়িতে পোকামাকড়ের উপদ্রব যেন বেড়েই যায়। বর্ষাকালে এসব পোকামাকড়ের উপদ্রব থেকে বাচতে আমরা সকলেই চেষ্টা করে থাকি।

এসব পোকামাকড় আমাদের খাদ্যদ্রব্য ও আসবাবপত্র শুধুমাত্র নষ্ট করে না। সাথে সাথে আমাদের স্বাস্থ্যের ও ক্ষতি করে থাকে। বিভিন্ন ধরনের রোগবালাই সৃষ্টি করে। ফলে আমরা অনেকেই দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হয়ে পড়ি।

আসুন দেখে নেওয়া যাক কি কি ধরনের পোকামাকড় আমাদের ক্ষতি করে ও এগুলো উপদ্রব থেকে বাচার উপায়-

১। মশা-

আমাদের অনেকের বাড়িতেই কোন ভাঙ্গা হাড়ি, পাতিলে পানি জমে থাকেই। এসব ভাঙ্গা হাড়ি পাতিলে বর্ষাকালে স্বাভাবিকভাবেই খুব মশার উপদ্রব দেখা দেয়। তাই বাড়ির আশেপাশের জমে থাকা পানি পরিষ্কার করে নেওয়া খুব জরুরি।

এছাড়া মশারি, কয়েল, ধুপ, লিকুইড কয়েল, অ্যারোসল, ওডোমস ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়ে থাকে মশা তাড়ানোর জন্য। এছাড়াও বারান্দা ও জানালায় মস্কুইটো নেট লাগানো যেতে পারে। মশারির কাপড় দিয়ে জানালার মাপ করে নেট বানিয়ে মশা তাড়ানো যায়। এসব পোকামাকড়ের উপদ্রব থেকে বাচতে আমরা সর্বাত্নক চেষ্টা করে থাকি।

২। মশা ও মাছি-

মশা মাছি তাড়ানোর জন্য কয়েক টুকরা কর্পূর আধা কাপ পানিতে মিশিয়ে ঘরের এক কোণে রাখতে হবে। রান্নাঘরে ঢাকনাসমেত ডাস্টবিন ব্যবহার করতে হবে। এছাড়া রান্নাঘরে শুকনো চা পাতা পোড়ানো ধোয়া ছড়িয়ে দিলেও মশা-মাছি কমে যায়।

৩। উইপোকা ও ঘুনপোকা-

ঘরের কাঠের আসবাবপত্রতে উইপোকা ও ঘূণপোকা খুব সহজেই আক্রমণ করে। তাই এসব পোকা কাঠের আসবাবপত্রতে পৌছানোর আগেই পদক্ষেপ নিতে হবে। একবার এসব পোকা ঘরে ঢুকে পড়লে তাড়ানো খুব বেশি কঠিন। কাঠের আসবাবপত্র অ্যান্টি টারমাইট সল্যুশন দিয়ে বার্নিশ করতে হবে। এছাড়া ও বোরিক এসিড, টারমিসাইড নামক রাসায়নিক উপাদান কাঠের এসব পোকার উপদ্রব ঠেকাতে সাহায্য করে।

৪। তেলাপোকা ও পিঁপড়া-

বর্ষাকালে অন্যান্য পোকামাকড়ের সাথে তেলাপোকা ও পিপড়ার উপদ্রব ও বেড়ে যায়। তাই এসময় ঘর বাড়ি যথাসম্ভব পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও যেন খাবার পড়ে না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সিংকে যেন কোন খাবার আটকে না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। প্রতিদিনের ময়লা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে। জানালা ও দরজায় বোরিক পাউডার ঢেলে রাখতে হবে। রান্নাঘর স্যাভলন ও ভিনেগার দিয়ে ধুতে হবে।

৫। পোকামাকড়-

বর্ষাকালে রান্নাঘরের সিংক ও বাথরুমের বেসিন ও কমোড হতে বিভিন্ন ধরনের পোকামাকড় উঠে আসতে পারে। এসব পোকামাকড় থেকে রক্ষা পেতে গরম পানিতে স্যাভলন মিশিয়ে কয়েক দিন পরপর কমোড, বেসিন ও রান্নাঘরের সিংকে দিতে হবে। ঢালার সময় লক্ষ্য রাখতে হবে সেই পানি যেন পাইপে সরাসরি পড়ে। নাহলে কমোড ও বাথরুমে চির ধরতে পারে।

৬। কেঁচো ও বিছা-

বর্ষাকালে বৃষ্টির দিনে মাটির নিচে চাপা থাকা কেঁচো উঠে আসতে পারে। এই পোকা গুলো আমাদেরকে কোন ধরনের ক্ষতি করে না। তবে এসব পোকা দেখে আমরা ভয় পেয়ে থাকি। তাই এসব পোকা দমন করতে হলে বাথরুম সবসময় শুকনো রাখতে হবে। বাথরুমের পানি যাওয়ার রাস্তায় ঢাকনা ব্যবহার করতে হবে। রাতে ড্রেনের মুখে লবণ দিয়ে রাখা যেতে পারে। তাহলে অনেকটাই রেহাই পাওয়া যায়। বর্ষাকালের এসব পোকামাকড়ের উপদ্রব থেকে বাচতে আমরা অনেক পদক্ষেপ নিয়ে থাকি।

বর্ষাকালে পোকামাকড় থেকে বাচতে করণীয়

এখন দেখে নেওয়া যাক এসব পোকা দমন করা উপায়-

১। নিমপাতা ও কালোজিরা-

প্রাকৃতি কীটনাশক হিসাবে কাজ করে নিমপাতা ও কালোজিরা। রান্নাঘরের কেবিনেট, আলমারি, বুক শেলফ, ঘরের তাক, কেবিনেটে শুকনো নিমপাতা ও কালোজিরা বেধে রাখতে হবে। তাহলে যেকোন ধরনের পোকামাকড়ই খুব সহজে দমন করা যাবে।

২। পুদিনা পাতা-

একমুঠো পুদিনা পাতা পানিতে ফুটিয়ে ঠান্ডা করে ঘরের যেসব জায়গায় পোকামাকড় আসে সেসব জায়গাতে স্প্রে করে দিতে হবে। পুদিনার তেল ও পানির মিশ্রণ ও স্প্রে করা যেতে পারে।

৩। টি ট্রি অয়েল-

পানির সাথে টি ট্রি ওয়েল মিশিয়ে সেই মিশ্রণ ঘরের আনাচে কানাচে দিয়ে দিলে পোকামাকড়ের উপদ্রব কমে যাবে। ছারপোকা মাড়তেও এটি খুব ভালো কাজ করে।

৪। ল্যাভেন্ডার তেল-

ল্যাভেন্ডারের গন্ধে পোকামাকড় সব মরে যায়। মূলত মশা মাছি মারতে এই তেল খুব ভালো কাজ করে। কোন একটি বোতলে এক কাপ পানি দিয়ে তাতে তিন চামচ ল্যাভেন্ডার তেল মিশিয়ে নিতে হবে। তারপর ঝাকিয়ে ভালো করে ঘরের কোণায় কোনায় দিতে হবে। তাহলে পোকামাকড় আর ঘরে আসতে পারবে না।

৫। ইউক্যালিপটাস তেল-

ইউক্যালিপটাস গাছের গা থেকে বের হওয়া ঝাঝালো গন্ধ কোন কীটপতঙ্গ সহ্য করতে পারে না। কোন একটি বোতলে এক চামচ লেবু তেল ও দুই চামচ ইউক্যালিপটাস তেল মিশিয়ে নিয়ে ঝাকিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করতে হবে। বাড়ির চারপাশে এটি ছিটিয়ে দিলে পোকামাকড় আর বাড়ির ধারে ঘেষতে পারবে না।

৬। কর্পূর-

কর্পূর মশা, মাছি তাড়াতে খুব ভালো কাজ করে। কয়েক টুকরা কর্পূর আধা কাপ পানিতে ভিজিয়ে ঘরের এক কোণে রেখে দিলে মশা মাছির উপদ্রব কমে যায়। পিপড়া দূর করতে দরজা ও জানালায় বোরিক পাউডার ঢালতে হবে। এক কাপ নারকেল তেলের সাথে কর্পূর মিশিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ছিটালে পোকামাকড় দূর হয়ে যায়।

৭। ব্লিচিং পাউডার-

বাড়ির চারপাশে ব্লিচিং পাউডার ও কার্বোলিক এসিড ছরাতে হবে। বর্ষাকালের এসব পোকামাকড়ের উপদ্রব থেকে বাচতে এই ব্লিচিং পাউডার ব্যবহার করা যেতে পারে।

৮। ফিনাইল-

প্রতিদিন ঘরের মেঝে পরিষ্কার রাখতে বর্ষাকালের পোকামাকড়ের উপদ্রব থেকে বাচতে ফিনাইল বা অ্যান্টিসেপটিক লিকুইড ব্যবহার করা যেতে পারে।

৯। স্যাভলন ও ভিনেগার-

স্যাভলন ও ভিনেগার দিয়ে বর্ষাকালের পোকামাকড়ের উপদ্রব থেকে বাচতে পারি। ভিনেগার অ্যাসিটিক এসিড সমৃদ্ধ তাই ভিনেগারের গন্ধে যেকোন পোকামাকড় পালায়। ১ কাপ ভিনেগার ১ পানির সাথে মিশিয়ে বোতলে ভরে ঘরের আনাচে কানাচে দিতে হবে।

১০। কেরোসিন তেল-

গরম পানিতে সাবান ও কেরোসিন তেল মিশিয়ে খাটের নিচে ও ঘরের কোণায় কোনায় স্প্রে করতে হবে। তাহলে পোকামাকড়ের উপদ্রব থেকে বাচতে পারবো।

বর্ষাকালে পোকামাকড়ের উপদ্রব থেকে বাচতে রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করার আগে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। কিছু কিছু রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করলে আমাদের নিজেদেরই ক্ষতি হতে পারে।

তাই বর্ষাকালে যেকোন পোকামাকড়ের উপদ্রব থেকে রক্ষা পেতে আমাদের করণীয় গুলো মেনে চলতে হবে। তাহলে আমাদের ঘর বাড়িতে আর কোন পোকামাকড় প্রবেশ করতে পারবে না।

আরো পড়ুনঃ

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
error: Content is protected !!

Adblock Detected

Please turn off your Adblocker.