পুষ্টি পরামর্শ

পেয়াজের পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা

পেয়াজের উপকারিতা

আদিম যুগ থেকেই বাঙালির রান্নায় পেয়াজের ব্যবহার হয়ে আসছে। বাঙালির প্রতিদিনের রান্নায় পেয়াজের ব্যবহার রান্নার স্বাদকে যেন বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়। পেয়াজের সাথে বাঙালির সভ্যতার একটা বিষয় জড়িয়ে আছে।

পেঁয়াজ গৃহিণীর চোখে পানি এনে দেয়। পেয়াজের রয়েছে বিভিন্ন ঔষধি গুনাগুণ। পেঁয়াজ ছাড়া যেন বাঙালির রান্নাবান্না প্রায় অসম্পূর্ণ। পেঁয়াজ রান্নায় স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি পেঁয়াজ পুষ্টি সরবারহ করে থাকে।

এখন দেখবো পেয়াজের পুষ্টিগুণ-

একটি বড় আকৃতির পেয়াজে

৮৬.৮ শতাংশ পানি

১.২ শতাংশ প্রোটিন

১১.৬ শতাংশ শর্করা

০.১৮ শতাংশ ক্যালসিয়াম

০.০৪ শতাংশ ফসফরাস

০.৭ শতাংশ লোহা থাকে।

এছাড়া ও পেয়াজে ভিটামিন এ , বি ও সি থাকে। এতে প্রচুর পরিমাণে ফলিক এসিড থাকে। এছাড়া সালফার, ক্রোমিয়াম থাকে। তাই পেয়াজের রয়েছে নানা পুষ্টিগুণ। নিয়মিত রান্নায় পেঁয়াজ ব্যবহার না করলেও কাঁচা পেঁয়াজ সামান্য খাওয়া উচিত।

পেঁয়াজ

এখন পেয়াজের নানা উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক-

১। পেয়াজে ক্যালরির পরিমাণ খুবই সামান্য। তাছাড়া এর রয়েছে নানা পুষ্টিগুণ। দৈনিক মাঝারি মাপের একটা পেঁয়াজ খেলে শরীরের দৈনিক পুষ্টি সরবারহ নিশ্চিত হবে। পেঁয়াজ ভিটামিন সি সমৃদ্ধ। ভিটামিন সি শরীরে উৎপন্ন হতে পারে না। এটি বাইরে থেকে গ্রহণ করতে হয়। তাই ভিটামিন সি খাওয়ার জন্য পেঁয়াজ খাওয়া যেতে পারে। ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে কোষকলা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। তাই পেঁয়াজ ও রোগ প্রতিরোধ করে ও কোশকলা বৃদ্ধি করে।

২। পেয়াজে রয়েছে সালফারের যৌগ ও ফ্লাভানয়েডস নামক অ্যান্টিওক্সিডেন্ট। পেয়াজে থাকা এসব উপাদান আমাদের ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

৩। পেয়াজে কুয়ারসেটিন নামক অ্যান্টিওক্সিডেন্ট থাকে যা হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা ভালো রাখতে সাহায্য করে। এই অ্যান্টিওক্সিডেন্টটি ভালো অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল হিসাবে কাজ করে। এটি কোলেস্টেরল ও রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণ করে।

৪। পেঁয়াজ অ্যান্টিওক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ উন্মুক্ত রেডিক্যালের বিরুদ্ধে কাজ করে কোষের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে।

৫। পেয়াজে আরো রয়েছে কার্মিনোটিভ, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল, অ্যান্টিসেপটিক ও অ্যান্টিবায়োটিক পর্দাথ। এসব উপাদান শরীর থেকে বিষাক্ত পর্দাথ দূর করে দিতে পারে। একারণে শরীরের কোন স্থানে কোন সংক্রমণ হলে কাঁচা পেঁয়াজ চিবিয়ে খেলেই উপকার পাওয়া যায়।

৬। ঠান্ডা লাগা, গলা ব্যথা, সর্দিকাশি ও অন্য কোন ব্যথা, এলার্জিতে পেঁয়াজ খুব ভালো কাজ করে। সামান্য পেয়াজের রসের সাথে একটু মধু মিশিয়ে খেলেই এসব সেরে যায়।

৭। দেহে ইনসুলিনের মাত্রা বাড়াতে ও রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক রাখতে পেঁয়াজ খুব ভালো কাজ করে। যাদের ডায়াবেটিস আছে তারা রোজ একটি করে পেঁয়াজ খেতে পারেন। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ আগে থেকে নিতে হবে।

৮। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় একটি করে কাঁচা পেঁয়াজ থাকলে এটি আপনার হজম শক্তি বাড়িয়ে দিবে। কারণ পেয়াজে হজম শক্তি বাড়ানোর মতো এনজাইম থাকে। ফলে পেঁয়াজ খেলে হজম শক্তি বৃদ্ধি পায়।

৯। জ্বর হলে দেহের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। দেহের তাপমাত্রা বেড়ে গেলে পাতলা করে পেঁয়াজ কেটে কপালে রেখে দিলে তাপমাত্রা কিছু সময়ের মাঝেই কমে আসবে।

১০। যেকোন পোকামাকড় কামড় দিলে কামড়ানো স্থানে তৎক্ষণাৎ একটি পেঁয়াজ ডলে দিয়ে দিলে উপকার পাওয়া যায়। পেঁয়াজ দিলে কামড়ানো স্থানে মূর্হুতেই শান্তি পাওয়া যায়।

১১। রোদে ট্যান পড়া, ব্রণের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পেঁয়াজ বেটে মুখে দিলে খুব ভালো উপকার পাওয়া যায়।

১২। পেঁয়াজ রক্ত জমাট বাধতে দেয় না ও রক্তের কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। পেঁয়াজ হৃদপিন্ডের জন্য খুবই উপকারী। তাই প্রতিদিন অন্তত পক্ষে একটি পেঁয়াজ খাওয়া উচিত।

১৩। হাড়ের কোন কঠিন রোগ যেমন অ্যাথেরসক্লেরোসিস ও অস্টিওপোরোসিস হলে পেঁয়াজ খুব ভালো ভূমিকা রাখে।

১৪। পেঁয়াজ যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। প্রতিদিন এক গ্লাস করে পেয়াজের রস খেলে যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

১৫। কানের ব্যথায় পেঁয়াজ খুব কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। পেঁয়াজ এসেনশিয়াল অয়েল সমৃদ্ধ। কানের ব্যথা দূর করতে পেঁয়াজ জাদুর মতো কাজ করে। পেঁয়াজ টুকরো চুলায় সেকে বা সিদ্ধ করে রস বের করে নিতে হবে। এই রস কুসুম গরম অবস্থায় কানে লাগালে বেশ আরাম পাওয়া যায়।

আরো পড়ুনঃ

আর্দশ হাটার উপকারিতা

আমড়ার উপকারিতা

কামরাঙ্গার উপকারিতা

লেবুর খোসার উপকারিতা

ব্রকলির উপকারিতা

দারুচিনির বিভিন্ন গুণাগুণ ও উপকারিতা

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!