অন্যান্যরোগতত্ত্ব

বাত থেকে মুক্তির উপায়

বাত থেকে মুক্তির উপায়

গাউট বা গেটে বাত এমন একটা রোগ, যার উদ্ভব হয় মেটাবলিজমের বিশৃঙ্খলা থেকে। এর লক্ষণ অনেকটা আর্থ্রাইটিসের মতো। তবে এই বাতে হাত ও পায়ের আঙ্গুল বিশেষ করে পায়ের বুড়া আঙ্গুল ফুলে যায় ও ব্যথা হয়। এই ব্যথা হঠাত করে তীব্র হয় এবং কিছু দিন পর সাময়িকভাবে ব্যথা সম্পূর্ণভাবে চলে যেতে পারে। আবার হঠাত করে এই যন্ত্রণাদায়ক ব্যথা যেকোন সময় শুরু হয়ে যায়।

দেহে পিউরিন মেটাবলিজমের বিঘ্ন থেকে এই রকম বাত হয়। পিউরিন বিপাক থেকে ইউরিক এসিড প্রস্তুত হয় যা বর্জ্য দ্রব্য হিসাবে রক্ত আসে এবং সেখান থেকে প্রসাব দিয়ে দেহ থেকে নির্গত হয়ে যায়। পরীক্ষা করে দেখ গেছে যে এই বাতে আক্রান্ত রোগীর রক্তে ইউরিক এসিডের পরিমাণ অত্যাধিক। এই ইউরিক এসিডের লবণ নরম অস্থি, অস্থিসন্ধি ও তার আশেপাশে পুঞ্জিভূত হয়ে জমে থাকে এবং এর জন্য ফোলা, ব্যথা অস্থিবিকৃতি দেখা যায়।

আরো দেখুনঃ রোগা হয়ে যাওয়া বা কৃশতা থেকে পরিত্রাণের উপায় জানুন

হাটুতে বাত

খাদ্যব্যবস্থাঃ খাদ্যব্যবস্থা এমন হতে হবে যেন রক্তে ইউরিক এসিড না জমতে পারে। ইউরিক এসিডের উৎপাদন কমিয়ে এবং প্রসাব দিয়ে এর নিশক্রমণ বাড়িয়ে রক্তের ইউরিক এসিডের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা হয়ে থাকে। যেহেতু পিউরিনের মেটাবলিজম থেকে ইউরিক এসিডের উৎপত্তি , পিউরিনযুক্ত খাদ্য যথাসম্ভব পরিহার করা উচিত। মাংস, কলিজা, মগজ, মাছের ডিম, বৃক্ক ইত্যাদি প্রাণীজ খাদ্যে প্রচুর পিউরিন পাওয়া যায়। এসকল খাদ্য যথাসম্ভব পরিহার করে চলা উচিত। প্রাণীজ খাদ্যের মধ্যে দুধ ও ডিমে পিউরিন নাই এজন্য এগুলো যত খুশি খাওয়া যেতে পারে। উদ্ভিজ্জ খাদ্যের মধ্যে চাল, গম, মুশুরির ডাল, শিম ও মোটরর মধ্যে কিছু পরিমাণ পিউরিন আছে সুতরাং এগুলো সীমিত পরিমাণে আহার করা যায়। খাদ্যে উপস্থিত চর্বি বা তেল দেহের পিউরিন নির্গমনের বাধা দেয় সুতরাং খাদ্য সবসময় কম স্নেহপদার্থ যুক্ত হওয়া উচিত। যখন বাতাসের তীব্র আক্রমণ হয় তখন কয়েকদিন পিউরিনযুক্ত খাদ্য ও স্নেহজাতীয় খাদ্য সম্পূর্ণ বর্জন করে প্রচুর কার্বোহাইড্রেট যুক্ত খাদ্য গ্রহণ করা উচিত। এসময় মধু, গুড়, ফলের রস ও প্রচুর পানি পান পানি পান করলে রোগী কিছুটা সুস্থ বোধ করতে পারেন। বাতের ব্যথা কমে গেলে অল্প অল্প লরে সুষম খাদ্য গ্রহণ করতে হবে এবং সীমিত পরিমাণে পিউরিনযুক্ত খাদ্য গ্রহণ করা যেতে পারে।

আরো পড়ুনঃ আদার উপকারিতা জেনে নিন কী কী

তীব্র বাতের ব্যথার সময় যেসব খাদ্য বর্জনীয়ঃ অধিক পিউরিনযুক্ত খাদ্য বর্জনীয়।

মাংস

মগজ

গুর্দ্দা

কলিজা

বৃক্ক

মাছের ডিম

ইস্ট

হাসের মাংস

মাঝারি পিউরিন যুক্ত খাদ্যঃ

মুরগী

শিম

পালংশাক

মাছ

চিংড়ি

মুশুরির ডাল

মটরশুটি

ফুলকপি

কনুইতে বাত

গেটে বাতে যে ধরনের খাদ্য দিতে হবেঃ

কম পিউরিন যুক্ত খাদ্যঃ

সবুজ শাকসবজি

টমেটো

ফল

দুধ

ডিম

সরু ও মসৃণ চালের ভাত

চিনি

নুডলস

গুড় বা মধু

চকলেট

চা ও কফি

পাউরুটি

মেনুর নমুনাঃ সকালে-

পাউরুটি- ২স্লাইস

ডিম সিদ্ধ- ১ টি

ফল- ১টি

দুধের পুডিং- ১পরিবেশন

চা- ১কাপ

দুপুরে-

ভাত- ২কাপ

ডাল- ১কাপ

সবজি- ১কাপ

শাক- ১/২ কাপ

পুডিং- ১ পরিবেশন

বিকালে-

বিস্কুট- ২টা

চা- ১কাপ

রাতে-

ভাত- ২কাপ অথবা চাপাতি-৪টি

সবজি- নিরামিষ ১কাপ

দই- ১কাপ

পুডিং- ১ পরিবেশন

আরো পড়ুনঃ খুশকি দূর করার উপায়

জ্বর হলে করণীয়

শিশুর নিউমোনিয়া

Related Articles

Back to top button
error: Content is protected !!

Adblock Detected

Please turn off your Adblocker.