পুষ্টি পরামর্শ

বাদাম খাওয়ার উপকারিতা

বাদাম খান সুস্থ থাকুন

মধ্যপ্রাচ্য হতে  এসে এদেশে আসা বাদামের খাবার উপকারিতা অনেক।

পুষ্টিগুণ এবং শরীরিক উপকারিতার দিক থেকে বাদামের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। বাদাম খাবার উপকারিতা বলতে গেলে বলতেই হয় এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন।  ক) অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, খ) ক্যালসিয়াম, গ) ভিটামিন ই, ঘ) ফাইবার, ঙ) সেলেনিয়াম, চ) ভিটামিন সি, ছ) অ্যামাইনো অ্যাসিড, জ) পটাশিয়াম ঝ) ওমেগা থ্রি ঞ) ফ্যাটি অ্যাসিড, ট) ফসফরাস এবং আরও অনেক উপকারিতা  উপাদান আছে বাদামে, যা নানাভাবে শরীরের দারুণ কাজে লেগে থাকে।

 নিয়মিত কেউ যদি এক বাটি করে বাদাম খায়, তাহলে শরীরে এমন কিছু উপকারি উপাদানের প্রবেশ ঘটে, যা আমাদের একাধিক রোগকে দূরে রাখতে ভালো ভূমিকা পালন করে, সেই সঙ্গে শরীরকে দারুন ভাবে চাঙ্গা রাখে ।

বাদাম খাওয়ার উপকারিতা:

১। হাড় ও স্বাস্থ্য়ের উন্নতি ঘটে

বাদামে উপস্থিত রয়েছে এক ধরনের ফসফরাস যা শরীরে প্রবেশ করার পর আমাদের হাড়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। তাই বলা হয় যে প্রতিদিন এক বাটি করে বাদাম খাওয়া উচিত। তাহলে জীবনে কোনও দিন কোনও হাড়ের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকবে না এবং শরীরে ফসফরাসের খাটতি থাকবে না।

২। মস্তিস্কের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়
আমেরিকার অ্যান্ড্রস ইউনিভার্সিটির এক দল গবেষক করা এক পরীক্ষায় দেখা গেছে যে বাদাম কগনিটিভ পাওয়ার উন্নত করে। সহজ কথায় বললে বাদাম মস্তিষ্কের ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই তো ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ম করে বাদাম খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। 

৩। ক্যান্সারের মতো রোগ দূরে থাকে
বাদামে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্যান্সার রোগকে প্রতিরোধ করে। পাশাপাশি বাদাম শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটায়। এতে নানাবিধ রোগ সংক্রমণকে দূরে রাখতেও বাদাম বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। শুধু এখানেই শেষ নয়, বাদামে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আরও নানা রকম উপকার করে থাকে। যেমন, অ্যাক্সিডেটিভ ট্রেস কমিয়ে কোষের ক্ষত রোধ করে, সেই সঙ্গে ত্বকের এবং শরীরের বয়স এর ছাপ কমাতেও সাহায্য করে ত্বককে করে লাবন্যময়।

৪। পুষ্টির ঘাটতি দূর হয়
বাদামের শরীরের উপরিভাগে রয়েছে প্রায় ৩.৫ জিএম ফাইবার, ৬ জিএম প্রোটিন, ১৪ জিএম ফ্যাট সহ ভিটামিন ই, ম্যাঙ্গানিজ, ভিটামিন বি-২, ফসফরাস এবং ম্যাগনেসিয়াম। এই সবকটি উপাদানই আমাদের শরীরকে সুস্থ সবল রাখতে বিশেষ ভাবে প্রয়োজনীয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে একাধিক ক্রনিক রোগকে প্রতিরোধ করতে এই উপাদানগুলি বিশেষ ভাবে সাহায্য করে। প্রসঙ্গত বলতে হয়, এক মুঠো বাদাম খেলে শরীরে মাত্র ১৬১ ক্যালরি শক্তি প্রবেশ করে। ফলে বাদাম খেলে ওজন বেড়ে যাওয়ার কোনও আশংকা থাকে না।

৫। হার্ট ভালো রাখতে ভূমিকা রাখে এবং খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়
গত কয়েক দশকের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত পরিসংখ্যান খুজলে দেখা যাবে কীভাবে অনিয়ন্ত্রিত কোলেস্টেরলের কারণে হার্টের রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই এই হার্টের রোগ বিষয়ে সাবধান থাকাটা খুব বেশী জরুরি। তাই শরীরে যাতে কোনও ভাবেই বাজে কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি না পায় সেদিকে সর্বদা সতর্ক হতে হবে। আর এই কাজটি কীভাবে করবেন? খুব সহজ! প্রতিদিনের ডায়েটে বাদামকে যোগ করুনো। তাহলেই হার্টের স্বাস্থ্য নিয়ে আর চিন্তিত হতে হবে না। আসলে বাদামে উপস্থিত বেশ কিছু কার্যকরি উপাদান আমাদের শরীরে ভাল কোলেস্টরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। আর স্বাভাবিকভাবেই খারাপ কোলেস্টরলের মাত্রা কমায়। সেই সঙ্গে কমে হার্টের রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা।

৬। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে সাহায্য করে
শুধু ডায়াবেটিস নয়, বাদামে উপস্থিত থাকা ম্যাগনেসিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি দেখা দিলে অল্প সময়ের মধ্যেই রক্ত চাপ মারাত্মক বেড়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটতে পারে। আর যদি বেশি দিন রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকে, তাহলে হঠাৎ করে স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক এবং কিডনির সমস্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। তাই দেহে যাতে ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি দেখা না দেয়, সেজন্যে নিয়মিত বাদাম খাওয়া উচিত।

৭। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে
বাদাম খাওয়ার পর ক্ষিদের অনুভুতি একেবারে কমে যায়। ফলে মাত্রাতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা থাকে না। সেই সঙ্গে শরীরে অতিরিক্ত ক্যালরি জমে ওজন বৃদ্ধির সম্ভাবনাও কমে।

৮। রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে
রক্তে উপস্থিত শর্করার মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাদামে থাকা ম্যাগনেসিয়াম কার্যকর ভুমিকা পালন করে। সেই কারণেই চিকিৎসকেরা ডায়াবেটিকস রোগীদের নিয়মিত বাদাম খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত বাদাম খাওয়ার অভ্যাস করলে টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রায় ২৫-৩৮ ভাগ কমে যায়। তাই যাদের পরিবারে ডায়াবেটিস রোগের ইতিহাস রয়েছে, তারা সময় থাকতে বাদামকে নিয়মিত খাদ্য তালিকায় রাখা শুরু করুন। দেখবেন উপকার মিলবে।

৯। ত্বক চুল উজ্জ্বল রাখে ও কোষের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে
ত্বক ও চুল  ভালো রাখতে কে না চায়? বাদামে উপস্থিত প্রচুর মাত্রায় ভিটামিন ই শরীরের প্রতিটি কোণায় ছড়িয়ে থাকা কোষেদের কর্মক্ষমতার বৃদ্ধি করে। সঙ্গে সঙ্গে তাদের শরীরে যাতে কোনও ভাবে ক্ষতের সৃষ্টি না হয়, তার খেয়াল রাখে। ফলে বয়স বাড়লেও শরীরের উপর তার কোনও প্রভাব পরে। ফলে বাদাম ত্বক চুলকে উজ্জ্বল রাখে ও কোষের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

১০। হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে
হজম ক্ষমতায় যদি কোনো সমস্যা হয় তবে শরীরে অনেক অনেক সমস্যা দেখা দেয়। নিয়মিত জলে ভেজানো কাজুবাদাম খেলে দেহের বিতরের বিশেষ কিছু এনজাইমের ক্ষরণ বেড়ে যায়, যার প্রভাবে আমাদের হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে। সেই সঙ্গে গ্যাস এর সমস্যা ও অম্বলের প্রকোপও কমে যায় দারুন ভাবে। এবার নিশ্চই  বুঝেছেন আমাদের কেন প্রতিদিন একমুঠো করে বাদাম খাওয়া একান্তই উচিত।

১১। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটায়
বাদাম খাওয়ার উপকারিতার মধ্যে উপরোক্ত উপকার ছারাও বাদাম বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। যেমন দেহের পুষ্টির ঘাটতি দূর করতে বাদামের ভুমিকা দারুণ অনন্য। বাদাম আমাদের ক্লান্তি দূর করে, মেজাজ ভালো রাখে, শ্বাস কষ্ট দূর করে , কোষ্টকাঠিন্য ও ত্বকের সমস্যা দূর করতে কার্যকর ভুমিকা পালন করে থাকে।  তাই কেনইবা প্রতিদিন এক মুঠো বাদাম খাবেন না? আপনারা কাছের মানুষের সাথে আড্ডা দেওয়ার সময় মুখোরোচক খাবার হিসেবে রাখতে পারেন এক মুঠো বাদাম। এটা আমাদের শরীর ভালো রাখতে সাহায্য করবে।

এতক্ষণ আপনারা বাদাম খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে কার্যকর অনেক গুরুত্পূর্ন তথ্য জানলেন। আপনারা সব ধরনের বাদাম খাবেন নিয়মিত তবে কাজুবাদাম বেশী খাওয়ার চেষ্টা করবেন।

সুস্থ থাকুন ভালো থাকুন।

আরো পড়ুনঃ

আদার উপকারিতা জেনে নিন কী কী

সকালে খালি পেটে খেজুর খাওয়ার ১৩টি উপকারিতা

জিওল মাছের পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা

পান্তা ভাতের পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
error: Content is protected !!

Adblock Detected

Please turn off your Adblocker.