খাদ্য ও খাদ্যাভ্যাস

জেনে নিন বিভিন্ন জাতের আম চেনার উপায়

বিভিন্ন প্রকার আমের জাতপাত

বিভিন্ন প্রকার আমের জাতপাত

আমকে বলা হয় ফলের রাজা । মধু মাসের এ সময়টাতে প্রচুর আম পাওয়া যায় আমাদেরদেশে। আম খেতে পছন্দ করেন না এমন বাঙালি পাওয়া ভার। বর্তমান বাজারে বিভিন্ন ধরনের আম পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু কোনটা যে কি আম বা কি স্বাদের, তা চিনতে ও কিনতে বিড়ম্বনার অন্ত নেই।

অধিকাংশ আম ক্রেতাই আম চিনতে ভুল করে থাকে। আম কেনার পর অনেকেই বুঝতেই পারেন না যে তিনি কোন আমটি কিনছেন। আজ সেরা ১০ টি জাতের আম চেনার সহজ উপায় যানবো চলুন-

গোপালভোগ আম

১. গোপালভোগ: 
গোপালভোগ আম মুলত মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে বাজারে পাওয়া যায়। এই আমের গা জুরে সাধারণত হলুদ ছোপ ছোপ দাগ থাকে। এটির নিচের দিকে একটু সরুর মত এবং পাকার পর হলুদ রং এর হয়।

আম্রপালি আম

২. রূপালী আম বা আম্রপালি: 
রূপালী আম বা আম্রপালি একটু ছোট চিকন নিচের দিকে খানিকটা সুঁচালো এবং উপরে একটু গোলাকৃতির হয়। এই আম বেশ মিষ্টি বেশি ও স্বাদে অতুলনীয়।

ল্যাংড়া আম

আরো পড়ুনঃ আমের পুষ্টিগুণ

লিচুর উপকারিতা ও বিস্তারিত জানতে পরুনঃ লিচুর উপকারিতা

৩. ল্যাংড়া: 
ল্যাংড়া আম দেখতে বেশ গোলাকার , খোসা মসৃণ ধরনের এবং সাইজে মাঝারি। এর নাক একটু নিচের দিকে থাকে। এর খোসা বেশ পাতলা। এই আম খেতে বেশ মিষ্টি।

রাণী পছন্দ আম

৪. রাণী পছন্দ: 
রাণী পছন্দ আম অনেকটা গোপালভোগ আমের মতোই দেখতে। এর গায়েও হলুদ দাগ আছে এবং কিছুটা লাল রং আছে কিন্তু এই আম আকারে ছোট।

বারি আম-২ বা লক্ষণভোগ আম

৫. বারি আম-২ বা লক্ষণভোগ: 
বারি আম-২ বা লক্ষণভোগ চেনার সহজ উপায় হলো এই আমের নাক মাঝামাঝি স্থানে থাকে। এই আম মিষ্টি কম ও পাকলে হলুদ রং হয়। সাধারণত জুন মাসের প্রথম দিকে এই আম পাওয়া যায়।

ক্ষীরসাপাতি আম

৬. ক্ষীরসাপাতি আম: 
খুবই মিষ্টি ক্ষীরসাপাতি আম অনেকেই হিমসাগর বলে বিক্র করে থাকে। এই আম আকারে একটু বড় হয়। এই আমে হালকা দাগ থাকে। ক্ষীরসাপাতি আম বাজারে পাওয়া যায় মে মাসের শেষে অথবা জুনের প্রথম দিকে।

ফজলী আম

৭. আশ্বিনা ও ফজলী: 
আশ্বিনা আর ফজলী আম দেখতে প্রায় একই রকম। তবে আশ্বিনা আম একটু বেশি সবুজ রং এর ও ফজলী আম খানিকটা হলুদ হয় রং এর হয়। আশ্বিনার পেট একটু মোটা হয় ও ফজলী দেখতে লম্বাটে ধরনের হয়।

হিমসাগর আম

হার্ট এটাক নিয়ে চিন্তিত? তাহলে জানুন খাদ্যাভাসঃ যে পাচটি খাবারে হার্ট অ্যাটাকের ঝুকি কমাবে

আরো পড়ুনঃ দেখে নিন গরমে কি কি ফল খাবেন

৮. হিমসাগর: 
দারুণ উৎকৃষ্ট স্বাদের সুগন্ধযুক্ত জাতের আমের মধ্যে হিমসাগরের অবস্থান শীর্ষে। হিমসাগর আম জুন মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে পাকতে শুরু করে এবং পুরো মাস জুরে বাজারে পাওয়া যায়। এ আমের ঠোঁট নেই, গড়ন বুকের দিকটা গোলাকার এবং অবতল থেকে সামান্য লম্বাটে আকার নিয়ে শীর্ষদেশ গোলাকৃতির হয়ে থাকে। পরিপক্ক হিমসাগর আমের রং হালকা সবুজ রং এর হয়। পাকার পরেও এই আম সবুজ থেকে যায়।

হাড়িভাঙ্গা আম

৯. হাড়িভাঙ্গা: 
রংপুর জেলার বিখ্যাত আম হাড়িভাঙ্গা। এ আমের উপরিভাগ তুলনামূলক বেশি মোটা ও চওড়া থাকে এবং নিচের অংশ অপেক্ষকৃত চিকন হয়। আকারে বড় একটু বড় হয়। এ আম গোলাকার ও একটু লম্বা মাংসালো হয়। এই আমের চামড়া কুঁচকে যায় কিন্তু পঁচে না।

সুবর্ণরেখা আম

১০. সুবর্ণরেখা: 
এ আমটির আকার মাঝারি ও ডিম্বাকৃতির হয়ে থাকে। সাধারণত বেশ আগাম জাতের আম এটি। সুবর্ণরেখা আমের বোটার পাশে লাল রং এর হয়ে থাকে। এ আমটি সুস্বাদু ও রসালো। এ আমটির নাম এদেশে সুবর্ণরেখা বা সুন্দরী। তবে দক্ষিণ ভারতে একে চিন্না আম বলে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!