পুষ্টি পরামর্শ

ব্রকলির উপকারিতা

ব্রকলির উপকারিতা

বাংলাদেশের বর্তমানের একটি পরিচিত সবজির নাম ব্রকলি। এটি একটি শীতকালীন সবজি। যদিও এটি একটি বিদেশী সবজি তাহলেও বর্তমানে বাংলাদেশে এই সবজি খুব বেশি পাওয়া যায়।

ব্রকলি বা ব্রোকোলি ক্রসিফেরী গোত্রের অন্তর্ভুক্ত সবজি। খুব বেশি জনপ্রিয় এখন এই সবুজ সবজিটি। পুর্বে কন্টিনেন্টাল জাতীয় খাবারে এর প্রচলন ছিল বেশি।এখন নিজেদের পছন্দের মশলায় ও সবজি মিলিয়ে ব্রকলি সুস্বাদু করে রান্না করা হয়। এটি সালাদ হিসাবেও খাওয়া হয়।

মূলত যে পদ্ধতিতেই রান্না করা হোক না কেন খাবারটির পুষ্টিগুণ আসল। ব্রকলি প্রচুর পুষ্টি সমৃদ্ধ খাদ্য। এতে অনেক পুষ্টি উপাদান আছে যা দ্রুত বুড়িয়ে যাওয়া ঠেকায়। এতে প্রচুর ভিটামিন সি রয়েছে। এটি ক্যান্সার প্রতিরোধে সক্ষম। আবার এতে ভিটামিন এ রয়েছে। যেটি ত্বকের জন্য খুব ভালো। এটি কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। এতে প্রচুর ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ফোলেট ও আশ রয়েছে। শরীর থেকে বর্জ্য পর্দাথ নিষ্কাশন করে। এটি হৃদরোগ, বহুমূত্র প্রতিরোধ করতে সক্ষম। এতে ক্যালরির পরিমাণ ও খুবই কম।

বাংলাদেশ গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান ফারাহ মাসুদা বলেন, ” ব্রকলি দেখতে ফুলকপির মতো। আর গাঢ় সবুজ রঙয়ের হওয়ায় অনেকে একে সবুজ কপি ও বলে থাকে। ব্রকলি খুব সুস্বাদু, পুষ্টিকর ও লঘুপাক যোগ্য সবজি।”

প্রতি ১০০ গ্রাম ব্রকলিতে পুষ্টিউপাদান-

  • খাদ্য শক্তি- ৩২ কিলোক্যালরি
  • প্রোটিন- ৩.৩ গ্রাম
  • চর্বি- ০.১ গ্রাম
  • ক্যালসিয়াম- ১৫০ মিলিগ্রাম
  • শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট- ১.৬ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন বি ১ – ০.১৬মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন বি ২ – ০.৯১ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন সি- ১১৮ মিলিগ্রাম

প্রতিদিনের খাবারে ব্রকলি থাকলে আপনার সুস্থ্য থাকার গ্যারান্টি আপনার নিজের হাতে। ব্রকলিতে রয়েছে নেক পুষ্টিউপাদান। ব্রকলি আমাদের যেসব উপকার করে তা নিচে বর্ণ্না করা হলো-

। হৃদযন্ত্রকে সতেজ রাখে-

ব্রকলি হার্টের জন্য খুব ভালো। ব্রকলিতে রয়েছে প্রচুর আইসোথিওসায়ানেটস ও সালফোরাফেন এর মতো অ্যান্টিইনফ্লেমেওটারি উপাদান যা আমাদের হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখে। ব্রকলির বিভিন্ন খাদ্যগুণ রক্তনালির বিভিন্ন সমস্যা থেকে রক্ষা করে। যাদের ব্লাড সুগারের সমস্যা রয়েছে তাদের রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবন বেশি। ব্রকলি এই জাতীয় সমস্যা প্রতিরোধ করে। এতে ভিটামিন বি ৬ রয়েছে যা হার্ট অ্যাাটাক ও স্ট্রোকের ঝুকি কমায়।

২। খারাপ কোলেস্টেরল কমায় ও ভালো কোলেস্টেরল বাড়ায়-

কোলেস্টেরল হৃদরোগ বাড়াতে সাহায্য করে। নিয়মিত ব্রকলি খেলে আমাদের শরীরের খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে যায়। আর ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যায়। কারণ এতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে যা পানিতে দ্রাব্য। এই ফাইবার শরীর থেকে ৬% হারে খারাপ কোলেস্টেরল বের করে দেয়।

। এলার্জি প্রতিরোধ করে-

ব্রকলিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি ইনফ্লেমেটারি উপাদান। ব্রকলিতে ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড রয়েছেযা প্রদাহ জনিত সমস্যা দূর করে। এসব উপাদান এলার্জি কমাতে সাহায্য করে। আবার শরীরের বিভিন্ন ধরনের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।

৪। ক্ষত নিরাময়ে-

এক কাপ ব্রকলিতে যে পরিমাণ ভিটামিন সি ও অ্যান্টি অক্সিডেন্ট থাকে তা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলে। পাশাপাশি এটি শরীরের কাটা ও বিভিন্ন ক্ষত নিরাময় করতে সাহায্য করে। এতে ইনডোল- ৩- কার্বিনোল নামে একটি অ্যান্টি অক্সিডেন্ট থাকে যা সার্ভিকল ক্যান্সার ও অগ্র গ্রন্থির ক্যান্সার নিয়াময় করতে সক্ষম।

৫। ত্বকের জন্য-

ব্রকলি ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি ত্বকের যাতে কোন ক্ষতি না হয় তার জন্য ও কাজ করে। ব্রকলিতে প্রচুর পৌষ্টিক উপাদান ভিটামিন সি, খনিজ উপাদান যেমন- জিংক, কপার, ভিটামিন কে, অ্যামিনো এসিড ও ফোলেট থাকে যা ত্বকের জন্য খুব উপকারী। এটি ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

৬। চোখের যত্নে-

ব্রকলিতে রয়েছে প্রচুর বিটা ক্যারোটিন। এতে ভিটামিন এ, ফসফরাস, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, ভিটামিন সি ও ভিটামিন ই থাকে। এগুলো চোখের উপকার করে থাকে। এটি দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে ও চোখের বিভিন্ন সমস্যা দূর করে।

৭। গর্ভবতী মহিলা ও ভ্রূণের জন্য-

ব্রকলিতে প্রচুর ভিটামিন বি রয়েছে। এতে বিশেষ করে ভিটামিন বি৯ থাকে যা ভ্রূণের মস্তিষ্ক গঠন করতে সাহায্য করে। গর্ভাবস্থায় প্রতিদিন এটি খাওয়া খুব ভালো। এতে মা ও শিশু উভয়েরই স্বাস্থ্য ভালো থাকে। স্তন্যপায়ী মায়ের জন্য ও এটি খুব উপকারী।

৮। হাড়ের জন্য-

ব্রকলিতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন কে ও ক্যালসিয়াম। এগুলো হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো করে। এটি অস্টিওপোরেসিস হওয়ার সম্ভাবনা কমায়। ব্রকলিতে ম্যাগনেশিয়াম, জিংক ও ফসফরাস থাকে। এসব উপাদান শিশু ও বয়স্ক মানুষের জন্য খুবই উপকারী।

৯। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে-

ব্রকলিতে প্রচুর ফাইবার থাকে যা খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করে। ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করের। এটি রক্তচাপের সঠিক মাত্রা বজায় রাখে। এটি একটি প্রাকৃতিক ডিটক্স যাপেট ও পাচনতন্ত্র পরিষ্কার করে। এতে থাকা ফাইবার ও অ্যান্টি অক্সিডেন্ট হজমে সাহায্য করে। ফলে মলত্যাগে কোন সমস্যা থাকে না।

১০। রক্তশূণ্যতা দূর করে-

এক কাপ বা ১৫৬ গ্রাম রান্না করা ব্রকলিতে ১ মিলিগ্রাম আয়রন থাকে যা আমাদের প্রতিদিনের প্রয়োজনের ৬% আয়রনের চাহিদা মেটায়। আয়রন রক্তশূন্যতা দূর করতে সাহায্য করে।

আরো পড়ুনঃ

দারুচিনির বিভিন্ন গুণাগুণ ও উপকারিতা

মিষ্টি কুমড়া কেন খাবেন জেনে নিন

কাঠালের পুষ্টিগুণ

লিচুর উপকারিতা

আমের পুষ্টিগুণ

তরমুজের বিচির গুণাগুণ

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
error: Content is protected !!

Adblock Detected

Please turn off your Adblocker.