খাদ্য ও স্বাস্থ্যকথাখাদ্য টিপসপুষ্টি পরামর্শস্বাস্থ্য টিপস

ভিটামিন ডি এর অভাবজনিত লক্ষণ এবং ভিটামিন ডি যুক্ত খাদ্য

ভিটামিন ডি যুক্ত খাদ্য

আমাদের সুস্থতার জন্য প্রতিটি ভিটামিনের খুব বেশি প্রয়োজন রয়েছে। এর মাঝে ভিটামিন ডি অন্যতম। ভিটামিন ডি একটি ফ্যাট সলিউবল ভিটামিন। ভিটামিন ডি এর কাজ ইনটিস্টাইন বা অন্ত্র থেকে ক্যালসিয়াম শোষণ করা। এই ভিটামিন আয়রন, ফসফরাস ও ম্যাগনেশিয়ামকে দ্রবীভূত করে। ভিটামিন ডি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং শারীরিক অবস্থার উন্নতি ঘটায়।

ভিটামিন ডি এর ঘাটতি হলে হাড় দূর্বল হয়ে পড়ে। হাড় দূর্বল হয়ে উঠা মানে আর্থ্রাইটিসের মতো রোগ দেখা দেওয়া। এই ভিটামিন হাড়কে শক্ত করার সাথে হার্ট, ব্রেন ও শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এর অভাবে ওজন বেড়ে যেতে পারে। আবার হাড় ও দাঁতের সুস্থতার জন্য ভিটামিন ডি এর প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।

ভিটামিন ডি এর অভাব হলে পূরণ করার বিভিন্ন উপায় রয়েছে। কিছু সহজ পদ্ধতির মাধ্যমে ভিটামিন ডি এর অভাব পূরণ করা সম্ভব। তবে প্রথমে কিছু লক্ষণ দেখে বুঝতে হবে ভিটামিন ডি এর অভাবজনিত লক্ষণ কিনা। তারপর সমস্যার সমাধান করতে হবে। করোনা ঝুকি কমবে রোদ পোহালে

চলুন প্রথমে দেখে নেওয়া যাক ভিটামিন ডি এর অভাবজনিত লক্ষণঃ

১। বিষণ্ণতাঃ মন বিষণ্ণ হয়ে পড়লে ভিটামিন ডি এর দায় থাকে অনেকাংশেই। ভিটামিন ডি এর অভাবে মানসিক চাপ অনুভূত হয়। ফলে কোন কারণ ছাড়াই বিষণ্ণতা দেখা দেয়। ফলে মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। মানুষ রেগে যায়।

২। মাংসপেশীর দূর্বলতাঃ ভিটামিন ডি এর অভাবে মাংসপেশীর দূর্বলতা দেখা যায়। মাংসপেশীর কাপুনি এবং মাংসপেশী বেড়ে যেতে পারে ভিটামিন ডি এর অভাবে। মাংসপেশীর দূর্বলতা কমাতে ভিটামিন ডি যুক্ত খাদ্য খেতে হবে।

৩। দাঁত ভেঙ্গে যাওয়াঃ দাঁতের সমস্যার জন্য ও ভিটামিন ডি অনেকাংশে দায়ী। শক্ত কিছু না খেতে পারলে বুঝতে হবে হবে ভিটামিন ডি এর অভাব রয়েছে। ভিটামিন ডি এর অভাবে দাঁতের ক্ষয়ের পাশাপাশি দাঁত ভেঙ্গে ও যেতে পারে।

৪। হাড়ে ফাটলঃ ভিটামিন ডি এর অভাবজনিত লক্ষণের মাঝে হাড়ের ফাটল একটি অন্যতম লক্ষণ। ভিটামিন ডি এর অভাব দেখা দিলে একটু পড়ে গেলে বা সামান্য আঘাত পেলে হাড়ে চির ধরতে পারে। হাড়ে খুব ব্যথা থাকলে বুঝতে হবে ভিটামিন ডি এর অভাব।

৫। ক্লান্তি ও ঘুমঃ ভিটামিন ডি এর অভাবে ঘুম আসে প্রচন্ড। ক্লান্তি থেকে ঘুমের সৃষ্টি হয়। কর্মক্ষেত্রে নিজেকে প্রমাণিত করার পথে বাধার সৃষ্টি করে ভিটামিন ডি এর অভাব। তাই যত শ্রীঘই সম্ভব ভিটামিন ডি এর অভাবজনিত লক্ষণ পূরণ করা। শরীরের ক্লান্তি দূর করে যেসব খাবার

৬। মেজাজ হারানোঃ ভিটামিন ডি এর অভাবে মেজাজে অনেক বেশি প্রভাব পড়ে। মনের মাঝে চাপা অশান্তি কাজ করতে থাকে। ফলে মেজাজ রুক্ষ্ণ হতে থাকে। কেউ ভালো করে কথা বলতে চাইলেও রেগে উঠে। যদি কোন কারণ ছাড়াই হঠাত করে রাগ ঊঠে তাহলে ভিটামিন ডি এর অভাব পূরণ করতে হবে।

৭। উচ্চরক্তচাপঃ ভিটামিন ডি এর অভাবে উচ্চরক্তচাপ বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভিটামিন ডি যুক্ত খাবার খেতে হবে।

৮। ওজন বৃদ্ধিঃ ওজন বৃদ্ধি পাওয়ার পিছনে ভিটামিন ডি এর হাত রয়েছে কিছুটা। তাই আমাদের প্রতিদিনের তালিকায় ভিটামিন ডি রাখা উচিত। যেসব ফল ও সবজি ওজন বাড়ায়

এছাড়াও ভিটামিন ডি এর অভাবে মেদ বৃদ্ধি, জরায়ু ক্যান্সার, স্তন ক্যান্সার, অস্টিওপরেসিস সহ নানা রোগ দেখা দেয়।

এখন আমরা দেখবো ভিটামিন ডি যুক্ত খাদ্য কোনগুলোঃ

সূর্যের আলো ভিটামিন ডি এর একটি উতকৃষ্ট উৎস। তবে সূর্যের কড়া রোদে না যেয়ে হালকা সূর্যের রোদে বসা যেতে পারে। আবার হালকা রোদে যেয়ে ব্যায়াম করতে পারেন। সকালে দশটা থেকে তিনটা পর্যন্ত যে রোদ উঠে তাতে ভিটামিন ডি বেশি পাওয়া যায়। শুধু শীতের সময়েই নয়, যেকোন ঋতুতেই পাঁচ মিনিট থেকে আধা ঘণ্টা পর্যন্ত রোদে বসলে ভিটামিন ডি এর অভাব পূরণ হয়।

এছাড়াও কিছু কিছু খাদ্যে ভিটামিন ডি বেশি পাওয়া যায়। যেমনঃ

দুধঃ দুধে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। শরীরে ভিটামিন ডি এর অভাব পূরণ করতে দুধ বা দুগ্ধজাত যেকোন খাবার খাওয়া উচিত।

ডিমঃ শরীরের ভিটামিন ডি এর ঘাটতি পূরণ করতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ডিম রাখা জরুরি। ডিমে প্রোটিন এবং কোলেস্টেরলের পাশাপাশি ভিটামিন ডি ও থাকে।

চিজঃ ভিটামিন ডি এর অভাব পূরণ করতে চিজ খেতে হবে। চিজ ক্যালসিয়ামের ভালো উৎস।

মাশরুমঃ মাশরুম খেলে ভিটামিন ডি এর অভাব পূরণ হয়। তবে মাশরুমে এলার্জির সম্ভাবনা থাকে।

তেলযুক্ত মাছ বা সামুদ্রিক মাছঃ মাছের তেলে ভিটামিন ডি বেশি পরিমাণে থাকে।

আরো পড়ুনঃ রান্নায় তেল কম ব্যবহার করার উপায়

যেকোন ব্যথা সারাতে যেসব খাবার খেতে পারেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!

Adblock Detected

Please turn off your Adblocker.