খাদ্য ও স্বাস্থ্যকথাস্বাস্থ্য টিপস

ভেষজ যা অ্যান্টিবায়োটিক হিসাবে কাজ করে

ভেষজ অ্যান্টিবায়োটিক

আমাদের শরীরে প্রায়ই বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস, ব্যাক্টেরিয়া আক্রমণ করে। তখন সর্দি, কাশি, জ্বর, হাচি সহ আরো বিভিন্ন ধরনের রোগ ব্যধি দেখা দেয়। এসব রোগ ব্যধি যখন চরম পর্যায়ে চলে যায় তখন আমরা অ্যান্টিবায়োটিক খেতে হয়। তবে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া শেষ হলেও এর রেশ রয়ে যায়। শরীরে এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে থাকে।

তবে আমরা যদি প্রাকৃতিক উপায়ে এসব ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া মেরে ফেলতে পারি তাহলে আমাদের আর কখনোই অ্যান্টিবায়োটিকের উপর নির্ভর করতে হবে না। তাহলে এগুলো আমাদের স্বাস্থ্যের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারবে না।

আরো পড়ুনঃ দেখে নিন গরমে কি কি ফল খাবেন

শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য কিছু কিছু ভেষজ আছে যেগুলো আমাদের খেতে হয়। আবার এমন কিছু ভেষজ ও আছে যেগুলো রোগ নিরাময়ে সাহায্য করে। যেমন-

জ্বর -সর্দি-কাশি নিরাময়ে

তুলসী পাতাঃ তুলসী পাতায় অ্যালকালয়েড বা উপক্ষার উপস্থিত থাকে। যা আমাদের সর্দি, কাশি, জ্বর নিরাময়ে সাহায্য করে।

দারুচিনিঃ শুধুমাত্র করোনা নয় যেকোন রোগজীবাণু প্রতিরোধ করতে দারুচিনি খুবই কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। শ্বাসযন্ত্রের যেকোন ধরনের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রন করতে সাহায্য করে দারুচিনি। দারুচিনিতে সরাসরি রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা থাকে।

বাসকপাতাঃ শুকনো কাশি, জমে থাকা কফ, কাশির সাথে রক্তপাত কমাতে বাসকপাতার রস বা বাসকপাতা ফুটানো পানি খুবই কার্যকর। লিভারের জন্য এই পাতা খুব উপকারী।

আরো পড়ুনঃ করোনা হওয়ার পর শরীর দূর্বল হলে কি করবেন

গোলমরিচঃ যেকোন ধরনের ব্যকটেরিয়াল সংক্রমণ কমাতে গোলমরিচ খুব ভালো কাজ করে।

লবঙ্গঃ গলায় ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ বা গলাব্যথা প্রতিরোধ করতে লবঙ্গ খুব ভালো কাজ করে। গলাব্যথা, টনসিলের সমস্যায় লবঙ্গ খুব উপকারী ভূমিকা পালন করে। এটি দাঁত ও মাড়ির সংক্রমণ কমায়।

আরো পড়ুনঃ করোনাকালীন সময়ে বাইরে যাওয়ার সময় যা যা মাথায় রাখতে হবে

সব ধরনের সংক্রমণ রোধেঃ

হলুদঃ হলুদে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ও অ্যান্টিব্যকটেরিয়াল উপাদান থাকে যা আমাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ও রক্তকে পরিশুদ্ধ করে ও ত্বক সতেজ, প্রাণবন্ত রাখে।

আমলকিঃ আমলকী আমাদের পেটের যেকোন অসুখ কমাতে সাহায্য করে। আমলকী যেকোন ধরনের সংক্রামক ব্যধি নিরাময়ে সাহায্য করে।

আরো পড়ুনঃ
শরীরের জন্য ভিটামিন ডি

ভেষজ অ্যান্টিবায়োটিক

পেট ভালো রাখতে

কালোমেঘঃ কালোমেঘ লিভারের জন্য খুব ভালো কাজ করে। এটি পেটের যেকোন সংক্রমণ ব্যধি রোধ করতে সাহায্য করে।

আদাঃ আদা শরীরের বিপাকক্ষমতা বৃদ্ধি করে। আদা খেলে আমাদের শরীর অনেক সময় গরম থাকে। ফলে আমাদের শরীরে রোগজীবাণু বিস্তার লাভ করতে পারে না।

আরো পড়ুনঃ করোনার ভ্যাকসিন নেওয়ার পর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

হরিতকীঃ হরিতকী পেটের যেকোন সমস্যা রোধ করতে সাহায্য করে। পেটের বায়ু বের করে দেয় হরিতকী। এটি পেট ফাপা রোধ করতে সাহায্য করে। হরিতকী কোষ্ঠকাঠিন্য রোধ করে।

পেটের যেকোন জীবাণু ধ্বংস করে। হরিতকী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এটি হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। গরম পানিতে হরিতকী গুড়া করে ঘুমানোর আগে খাওয়া যেতে পারে।

আরো পড়ুনঃ শিশুদের করোনা থেকে মুক্ত রাখতে কি করবেন

থানকুনি পাতাঃ থানকুনি পাতা আমাদের পেটের নানা সমস্যা দূর করে। আমাশয় রোগে থানকুনি পাতা খুব ভালো কাজ করে। প্রতিদিন ১০ টি থানকুনি পাতা চিবিয়ে খেলে খুব ভালো উপকার পাওয়া যায়। শিশুরা যদি থানকুনি পাতা কাঁচা চিবিয়ে না খেতে পারে তাহলে তাদেরকে থেতলিয়ে হাফ চামচ খাইয়ে দেওয়া যেতে পারে।

আনারস পাতাঃ আনারসের পাতার নিচের সাদা অংশ ছেচে খেলে পেটের কৃমি মরে যায়।

আরো পড়ুনঃ করোনায় নিমপাতা কেন খাবেন

Related Articles

Back to top button
error: Content is protected !!

Adblock Detected

Please turn off your Adblocker.