খাদ্য ও স্বাস্থ্যকথাস্বাস্থ্য টিপস
Trending

ভোজ্য তেল হিসেবে সয়াবিন নাকি সরিষা কোনটা খাবেন? আর কেনই বা খাবেন?

ভোজা তেল সরিষা না সয়াবিন কোনটা ভালো

আমরা ভারতীয় টিভি চ্যানেলগুলোতে প্রতিনিয়ত সাফোলা  তেল নিয়ে দেখি যা কিনা তারা ১০০% “ভেজিটেবল ওয়েল” হিসেবে আখ্যায়িত করে থাকে। এই সাফোলা তেলে থাকে ৮০% রাইস ব্রান আর ২০% সয়াবিন তেল।রাইস ব্রান তেল আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী । তারপর সরিষা থেকে সয়াবিন তেল উপকারি। ভোজ্য তেল হিসাবে সয়াবিনের অবস্থান সরিষার উপরে।

সয়াবিন তেলের গুণাগুণঃ

  • প্রতি ১০০গ্রাম সয়াবিন তেলে প্রায় ৫৮ গ্রাম polyunsaturated fatty acids থাকে , যা সরিষার তেল থেকে ২.৭২ গুন বেশি (২১.২৩গ্রাম)।
  • সয়াবিনে কিছু আয়রন (০.০৫ গ্রাম ) আছে যা সরিষার তেলে নেই।
  • সয়াবিন তেলে জিংক আছে ০.০১ গ্রাম যা সরিষার তেলে নেই।

কোন কোন চিকিৎসক বা হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ বাস্তব অবস্থা চিন্তা না করে ঢালাওভাবে সরিষা, সয়াবিন, নারিকেল, সূর্যমুখী বা কর্ন তেল ব্যবহার করার পরামর্শ দেন।

সম্প্রতি বিএসটিআই প্রায় দেড়শত পণ্যকে ভেজাল ঘোষণা করেছে তার মধ্যে অন্নপূর্ণা , রাজকমলসহ বিখ্যাত অনেক ব্র্যান্ডের সরিষার তেল!

আসলে বিভিন্ন ডাক্তারেরা আমাদেরকে হার্ট সুস্থ রাখতে সরিষার তেল বযভার করতে বলে। কিন্তু বাজারে এখন খাটি সরিষার তেলে অভাব। সব সরিষা দিয়ে তেল বানানোর সময় তেল্প্রস্তুতকারীরা তেলে ভেজাল মেশায়। এতে ভেজালযুক্ত সরিষার তেল বাজারে আসে। আমরা ঐসব ভেজালযুক্ত তেল খেয়ে আরো অসুস্থ হয়ে পড়ী।আমরা দিনে দিনে মৃত্যুর দিকে বেশি ঝুকে পড়ছি। তাই আমাদের নিজেদের স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে আমাদের ভেজাল সরিষার তেল ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

অলিভ তেলে প্রায় ৮০% একক-অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড থাকায় অনেক পুষ্টিবিদ এ তেলকে আদর্শ বলে সুপারিশ করেন। কিন্তু অত্যধিক দাম ও দুর্লভ হওয়ায় সমস্যা হবে মানুষের ।দামের জন্য সাধারণ মানুষ এই তেল ব্যবহার করতে পারবে না। তাই এই তেল সাধারণ মানুষের ধরা ছোয়ার বাইরেই থাকবে।

পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকরা এ ধরণের ঢালাও মন্তব্য করলে, আগামীকাল সব পাম, রাইস ব্রান ও সয়াবিন কোম্পানি তেলে কৃত্রিম রঙ, ঝাঁঝ আর গন্ধ লাগিয়ে  সরিষার তেল বলে বাজারজাত শুরু করবে।

রাইস ব্রান অয়েল আমাদের অনেকেরই  প্রিয় তেল ছিল। কিন্তু তার চাহিদা বাড়তে থাকায় অনেক কোম্পানি সয়াবিন তেলে রঙ মিশিয়ে রাইস ব্রান নামে বিক্রি শুরু করলো। বর্তমানে বাংলাদেশ এ তেলটির বাজার নষ্ট হয়ে গেছে ব্যবসায়ীদের লোভের কারনে।ব্যবসায়ীরা তাদের নিজেদের লাভের জন্য রাইস ব্রান তেলের সাথে সয়াবিন মিশিয়ে এই ভালো তেলকে ও ভেজাল করছে তাই অনেকেই এখন এই তেল ব্যবহার থেকে বিরত থাকছে। 

দেশভেদে খাদ্যাভ্যাস অনুযায়ী উপযুক্ত ভোজ্য তেল নির্বাচন করতে হয়। ধনী দেশগুলোতে মাছ, মাংস, দুধ, ডিম প্রচুর খাওয়া হয় বিধায় তাদের জন্য যে ভোজ্য তেল উপযুক্ত হবে, বাংলাদেশের মত দরিদ্র দেশে সে ভোজ্য তেল উপযুক্ত হতে পারে না।

তাই স্নেহ জাতীয় খাদ্য পূরণের জন্য গরিবদের ভোজ্যতেলের উপর নির্ভর করতে হয়। শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য তেল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অধিক দাম দিয়ে তেল খেতে গেলে শিশুরা অপুষ্টিতে ভুগবে।বাংলাদেশের মতো গরিব দেশে এমনিতেই অপুষ্টীর হার অনেক বেশী তারপর আবার দামী ভোজ্য তেল খেলে মানুষ আরো দরিদ্র হয়ে পড়বে এবং অপুষ্টির মাত্রা বেড়ে যাবে।

খাওয়ার তেল/ ভোজ্য তেল

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), গ্লোবাল ফোরাম ফর নিউট্রিশন, আমেরিকান হার্ট এসোসিয়েশন (AHA) প্রভৃতি সংস্থাসমূহের মতে সুস্বাস্থ্য রক্ষার জন্য মানব দেহে দৈনিক প্রয়োজনীয় ক্যালরির ৩০% আসা উচিৎ ভোজ্য তেল থেকে। ভোজ্য তেল-চর্বি আমরা গ্রহণ করি দু’ভাবে।

প্রত্যক্ষভাবে, যেমন তেল, ঘি, মাখন ইত্যাদি হতে সরাসরি গ্রহণ।

পরোক্ষভাবে অর্থাৎ মাছ, মাংস, ডিম, দুধ ইত্যাদিতে যে তেল-চর্বি থাকে, ঐ খাদ্যগুলো গ্রহণের মাধ্যমে ।

দরিদ্র দেশের মানুষ কারো পরামর্শ মত দামি তেল খেতে গিয়ে , তেলের ব্যবহার কমিয়ে দেয় তবে তার শিশুরা সার্বিক পুষ্টি থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। শিশুদের জন্য ভোজ্যতেল গুরুত্বপূর্ণ।

যুক্তরাষ্ট্রের মায়ো ক্লিনিক অনুযায়ী, অধিক সম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড যুক্ত তেল হল, নারিকেল, পাম , কার্নেল অয়েল। এসব তেল স্বাভাবিক তাপমাত্রার নিচে জমে যায়। উচ্চ অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড তেল হলো অলিভ অয়েল, বাদামের তেল, সয়াবিন , ক্যানোলা অয়েল। এই তেলগুলো হার্টের জন্য ভালো।

সরিষার তেলে প্রায় ৪২% শতাংশ ইরুসিক এসিড আছে, যা অতিরিক্ত হলে হৃদরোগের কারন হতে পারে।

বরং সস্তা হলেও পাম তেলের উপযোগিতা ও উপকারীতা অন্যদের তুলনায় বেশি। উচ্চ তাপমাত্রায় এ তেল স্থিতিশীল, সে জন্য ইউরোপ, আমেরিকার ফুড ইন্ডাস্ট্রিগুলোতেও পাম তেল ব্যবহৃত হয়। এটি এন্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ এবং ট্রান্স ফ্যাট মুক্ত ।

ট্রান্স ফ্যাট দেহের জন্য ক্ষতিকর প্রমাণিত হওয়ায় উন্নত বিশ্বের ফুড ইন্ডাস্ট্রিগুলোতে হাইড্রোজিনেটেড তেল নিষিদ্ধ।

ভোজ্য তেলকে হাইড্রোজিনেশন করে অধিক সম্পৃক্ত করার অর্থাৎ উচ্চ গলনাংকের চর্বিতে রূপান্তরিত করার সময় ট্রান্স ফ্যাট উৎপন্ন হয়। উক্ত হাইড্রোজিনেটেড তেল, যেমন ডালডা, বনস্পতি, মার্জারিন ইত্যাদি খাদ্য তৈরিতে ব্যবহার করলে ট্রান্স ফ্যাট খ্যাদ্যের মাধ্যমে আমাদের শরীরে প্রবেশ করে। ট্রান্স ফ্যাটি এসিড হৃদরোগের, বাত রোগের অন্যতম কারণ ।

আমরা সরকারের কাছে আবেদন জানাতে পারি,  হোটেল রেস্তরাঁয় ডালডা বনস্পতির মতো ক্ষতিকর তেল ব্যবহার নিষিদ্ধ করা উচিত।

আমরা চাল যেমন যে যার পছন্দ মতো খাই তেমনি তেল ও যেন যার যার পছন্দ,সার্ম্থ্য অনু্যায়ী খেতে পারি । আমাদের দেশের অসাধু ব্যবসায়ীরা নিজেদের লাভের জন্য প্রতিটা খাবারের সাথেই এরা ভেজাল মিশ্রিত করে ফলে আমরা এসব খাবার খেয়ে পুষ্টি তো পাই ই না অপরদিকে অসুস্থ হয়ে পড়ি।ধীরে ধীরে মৃত্যুর মুখে পতিত হয় তাই আমাদেরকে যেকোন খাবার খাওয়ার আগে নিশ্চিত করে নিতে হবে খাবারটি ভেজাল মুক্ত কিনা। খাবারটি ভেজাল্মুক্ত হলেই আমরা খেতে পারব। তাহলে আমাদের শরীর ভালো থাকবে।

আরো পড়ুনঃ

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
error: Content is protected !!

Adblock Detected

Please turn off your Adblocker.