ত্বকের যত্নরূপচর্চাসৌন্দর্য চর্চা

মধুতে রূপচর্চা

মধুতে রূপচর্চা

মধুর গুণের কোন শেষ নেই। মধু রূপচর্চাতে, রান্নাবান্নাতে ও স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে খুব বেশি কার্যকরী। রূপচর্চায় যেসব পন্য ব্যবহার করা হয় তার মাঝে মধু খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ একটা পণ্য। প্রাচীনকাল থেকেই মধু আমাদের বিভিন্ন কাজে লাগে।

আজ দেখে নেওয়া যাক মধু দিয়ে কিভাবে রূপচর্চা করা যায়-

। ময়েশ্চারাইজার হিসাবে মধু-

মধুতে থাকা এনজাইম বাতাস থেকে জলীয় কণা ত্বকের ভিতরে টেনে নেয়। ফলে ত্বক হাইড্রেড থাকে। মধু মূলত প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজারের কাজ করে থাকে। মধু নিয়মিত ব্যবহার করলে খুব বেশি সুফল পাওয়া যায়। মধু ত্বক নমনীয় করে ও ত্বক উজ্জ্বল রাখতে সাহায্য করে। মধু ব্যবহারে ত্বকের রুক্ষ্মতা কমে আসে।

২। অ্যান্টি- অ্যাজিং হিসাবে কাজ করে মধু-

মধু প্রকৃতির একটা অন্যতম সেরা উপাদান। কোলাজেন তারূন্য ধরে রাখতে সাহায্য করে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে শরীরের কোলাজেন কমে যেতে থাকে। মধু এই কোলাজেন তৈরী করতে সাহায্য করে। এজন্য মধুকে অ্যান্টি- অ্যাজার বলা হয়। তারুণ্য ধরে রাখতে মধু খুব ভালো কাজ করে।

৩। অ্যাকনি সারাতে মধু কাজ করে-

ব্রণ হলে সবারই দুশ্চিন্তার কোন সীমা থাকে না। মধু মূলত অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল ও অ্যান্টিসেপটিক হিসাবে কাজ করে। তাই ত্বকের যেকোন সমস্যায় বা ত্বকে কোন ধরনের আঘাত লাগলে মধু তা সারিয়ে তুলবে। মধু মৃত কোষ তুলে ফেলতে সাহায্য করে ও ত্বকের গভীরে জমে থাকা ময়লা তুলে আনতে সাহায্য করে। মধু টিস্যু পুর্নগঠন করতেও সাহায্য করে। মধু ত্বকের লালচে ভাব দূর করে। মুখের কালো দাগ দূর করে ও মধু ত্বকের জ্বালাপোড়া কমায়।

বাজারে বর্তমানে নানা ধরনের মধু পাওয়া যাচ্ছে। তবে শত ফুলের মধু খুব বেশি ভালো হয়ে থাকে। মধু তৈলাক্ত ত্বকের জন্য কিছুটা ক্ষতি করতে পারে কিন্তু শুষ্ক ত্বকের জন্য মধু খুব উপকারী।

মধু বিভিন্নভাবে ব্যবহার করা যায়। মধু ব্যবহারের ব্যবহারবিধি-

১। গোসলের সময় মধু ব্যবহার করা যেতে পারে। ২ টেবিল চামচ মধু ১ কাপ গরম পানিতে মিশিয়ে এক বালতি পানিতে ঢেলে দিতে হবে সেই মধু মিশ্রিত পানি। সেই মধু মিশ্রিত পানি দিয়ে গোসল করলে ত্বক পরিষ্কার থাকবে ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাবে।

২। আধা চা চামচ মধু ও আধা চা চামচ টমেটোর রস মিলিয়ে একটা ফেসপ্যাক তৈরী করা যায়। এই প্যাক মুখের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে। এর সাথে আধা চা চামচ ডালের বেসন যোগ করলে এর ঘনত্ব বেড়ে যায়।

এছাড়া আধা চা চামচ মধু ও আধা চা চামচ শসার রস মিলিয়েও একটি ফেসপ্যাক তৈরী করা যায়। তরল দুধ বা গুড়া দুধ মিশিয়েও এই প্যাক তৈরী করা যায়।

৩। দুধ ও মধু সমপরিমাণ মিশিয়ে ক্লিনজিং ক্রিম তৈরী করা যায়। কাচের বয়ামে মুখ বন্ধ করে ফ্রিজে এক সপ্তাহ পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়। প্রতিদিন গোসলের আগে ২০ মিনিট এই মিশ্রণ মুখে লাগাতে হবে।

৪। যেখানে ব্রণ হয়েছে সেখানে সিকি চা চামচ মধু ও লবঙ্গ গুড়া মিশিয়ে প্যাক বানিয়ে নিতে হবে। ব্রণের স্থানে প্রতিদিন ব্যবহার করলে ব্রণ দূর হয়ে যায়।

৫। মধু চুলের যত্নে খুব ভালো কাজ করে। ১ টি পাকা কলা, ১ টি ডিম, আধা কাপ টক দই ও ১ চা চামচ মধু দিয়ে সপ্তাহে ১ দিন চুলে লাগালে চুলের খুব উপকার হয়।

৬। শ্যাম্পু করার সময় ও মধু ব্যবহার করা যেতে পারে। শ্যাম্পুর সাথে ১ চা চামচ মধু মিশিয়ে চুলে দিলে চুল খুব সফট হয়।

৭। কন্ডিশনার হিসাবে মধু ব্যবহার করা যেতে পারে। ২ টেবিল চামচ নারকেল তেল ১ টেবিল চামচ মধুর সাথে মিশিয়ে চুলে ভালো মতো মালিশ করতে হবে। ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলতে হবে।

আরো পড়ুনঃ

তৈলাক্ত ত্বকের উপকারী ফেসপ্যাক

ঘরোয়া উপায়ে হাত ও পায়ের কালো দাগ দূর

Related Articles

Back to top button
error: Content is protected !!

Adblock Detected

Please turn off your Adblocker.