ফিচার
Trending

মশা তাড়ানোর কিছু ঘরোয়া উপায়

মশা তাড়ানোর ঘরোয়া উপায়

এখন সবদিকে শুধু ডেঙ্গুর প্রকোপ। করোনার পাশাপাশি ডেঙ্গুও ভয়াবহ ছোবল মারছে। ডেঙ্গুতেও এখন শত শত মানুষ প্রতিদিন আক্রান্ত হচ্ছে।

মূলত এই বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি বিভিন্ন নালা নর্দমা, খাল, বিল বিভিন্ন জায়গায় জমা থাকছে। এসব পানি জমা থাকতে থাকতে মশার জন্ম নেয়।

তাই বর্ষাকালে মশা জন্মায় এমন স্থান সবসময় ভালো মতো পরিষ্কার করে রাখতে হবে। বাড়ির উঠানে বা আশেপাশে যেন পানি না জমে সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে।

মশা কামড়ালে ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু ও হলুদ জ্বরের মতো অনেক রোগ হতে পারে। আবার মশা কামড়ালে অনেকসময় যাবত চুলকানিও হতে পারে।

মশা মারার জন্য ধূপ, স্প্রে কোন কিছু দিয়েই অনেক সময় কাজ হয় না। তখন ঘরোয়া কিছু টোটকা এর থেকে বাচার উপায় বলে দিতে পারে। এসব ঘরোয়া ও প্রাকৃতিক উপায় ব্যবহার করে মশা খুব সহজেই তাড়ানো যায়।

চলুন দেখে আসি ঘরোয়া ও প্রাকৃতিক কোন কোন উপায় কিভাবে ব্যবহার করতে হবে

১। লেবু ও লবঙ্গের ব্যবহার

লেবু টুকরা টুকরা করে কেটে ভিতরের অংশে লবঙ্গ গেথে দিতে হবে। লেবুর মাঝে লবঙ্গের সম্পূর্ণ অংশ ঢুকাতে হবে শুধু মাথার দিকটা বাইরে থাকতে হবে। তারপর লেবুর অংশগুলো একটি পাত্রতে করে ঘরের এক পাশে রেখে দিতে হবে। এতে করে মশা থেকে খুব ভালো মুক্তি পাওয়া যাবে। আবার এটি গ্রিলেও বেধে রাখা যেতে পারে।

। পুদিনা পাতার ব্যবহার

মশা তাড়াতে পুদিনা পাতা খুব ভালো কাজ করে। একটি গ্লাসে করে অল্প পানি নিয়ে তাতে পুদিনা পাতা রেখে দিতে হবে। দুই থেকে তিনদিন পর পর পানি বদল করতে হবে। এছাড়াও পুদিনা পাতা সিদ্ধ করে সেই পানি সম্পূর্ণ ঘরে ছড়িয়ে দিতে হবে। তাহলেও মশা দূর হয়ে যাবে।

৩। নিম তেলের ব্যবহার

নিমে মশা তাড়ানোর ভালো গুণ আছে। নিমের তেল ত্বকের জন্য খুব ভালো কাজ করে। তাই নিমের তেল ব্যবহারে একসাথে দুইটি উপকার পাওয়া যায়। সমপরিমাণ নিমের তেল ও সমপরিমাণ নারকেল তেল মিশিয়ে ত্বকে লাগিয়ে রাখলে মশা কাছে ঘেষতে পারবে না।

৪। এছাড়া নারকেল তেল, নিমের তেল, লবঙ্গের তেল ও পিপারমেন্টের তেল একই মাত্রায় মিশিয়ে একটি বোতলে ঢেলে রাখতে হবে। তারপর রাতে শোয়ার সময় সম্পূর্ণ শরীরে এই তেল মেখে রাখলে খুব ভালো উপকার পাওয়া যায়।

৫। টবে লেমন গ্রাস লাগালে

থাই লেমন গ্রাসে সাইট্রোনেলা ওয়েল থাকে যা একটি শক্তিশালী সুগন্ধি। এই সুগন্ধ মশাদের যম। এই গন্ধের কাছে মশা ঘেসেও না। তাই বাড়ির আশেপাশে লেমন গ্রাস লাগানো যেতে পারে। এসব স্থানে মশা কখনোই আসতে পারবে না।

৬। নিমপাতা পোড়ানো

কয়লা বা কাঠ কয়লার আগুনে নিমপাতা পোড়ানো ধোয়া মশা তাড়াতে সাহায্য করে।

৭। ধুনোর সাথে নিশিন্দা ও নিমপাতার গুঁড়া

প্রতিদিন ধুনো দেওয়ার সময় নিমপাতার গুড়া ও নিশিন্দার গুড়া মিশিয়ে দিলে মশা থেকে রেহাই পাওয়া যায়।

৮। শুকনো চা পাতা পোড়ানো

চা পাতা মশার উপদ্রব কমায়। তাই চা পাতা ব্যবহারের পর ফেলে না দিয়ে রোদে ভালো মতো শুকিয়ে নিতে হবে। কিন্তু চা পাতা শুকানোর সময় পানি থাকলে হবে না। তারপর শুকানো চা পাতা পুড়িয়ে ঘরের মশা পাছি দূর করা যায়।

৯। হলুদ বৈদুত্যিক আলোর ব্যবহার

বৈদ্যুতিক আলোতে হলুদ সেলোফেন জড়িয়ে দিতে হবে। তাহলে ঘরের আলো হলুদ হয়ে যাবে। মশা হলুদ আলোর কাছে আসতে চায় না। সবসময় হলুদ আলো থেকে দূরে থাকতে চায়। এলইডি লাইট, হলুদ সোড়িয়াম লাইট দেখলে মশা এগুলোর কাছে আসতে পারে না।

১০। কর্পূরের ব্যবহার

মশা কর্পূরের গন্ধ একদমই সহ্য করতে পারে না। একটি ৫০ গ্রামের কর্পূর ট্যাবলেট একটি বাটিতে রেখে পানি দিয়ে পূর্ণ করতে হবে। তারপর এটি ঘরের কোণে রেখে দিতে হবে। দুই তিন দিন পর পর পানি পরিবর্তন করতে হবে। আগের পানি ফেলে না দিয়ে ঘর মোছার কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে।

১১। শোয়ার সময় যেদিকে মাথা দেওয়া হয় তার থেকে একটু দূরে নিমের তেল দিয়ে প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখা যেতে পারে। মশার উপদ্রব বেশি হলে সেই তেলে একটু সামান্য কর্পূর মিশিয়ে দেওয়া যেতে পারে। এভাবে মশা সারা রাতে কাছে আসবে না।

১২। ক্যাটনিপ ওয়েল

ক্যাটনিপ ওয়েলে নেপাটালাক্টোন নামক একধরনের পর্দাথ থাকে যা মশা তাড়াতে অনেক বেশি সাহায্য করে। এই তেল সারা গায়ে মাখিয়ে রাখলে মশা ধারে কাছেও আসে না।

১৩। রসুন স্প্রে ব্যবহার

রসুন যেকোন পোকা দমন করতে খুব ভালো কাজ করে। রসুনের স্প্রে সহজেই বাড়িয়ে বানিয়ে নেওয়া যায়। রসুনের কয়েকটি কোয়া ছেচে নিয়ে ১ কাপ বা আধা কাপ পানিতে ফুটিয়ে ঠান্ডা করে বোতলে ভরে দরজা, জানালা ও ঘরের চারিদিকে স্প্রে করতে হবে।

১৪। ফ্যান চালু রাখতে হবে

মশা খুব হালকা একটা প্রাণী। অন্যদিকে ফ্যানের স্পিড খুব বেশি থাকে। মশার উড়বার গতির থেকে ফ্যানের ঘুড়ার গতি বেশি হওয়াতে ফ্যানের ব্লেড খুব সহজেই মশা টেনে নেয়। ফলে ফ্যান চালু রাখলে মশা কাছে ঘেসতে পারে না।

১৫। সুগন্ধি ব্যবহার

মশারা সুগন্ধির কাছে আসতে পারে না। তাই রাতে ঘুমানোর সময় শরীরে আতর বা সুগন্ধি বা কোন লোশন মেখে শুলে মশারা কাছে আসতে পারে না।

১৬। বারান্দায় চামচিকার বাক্স রাখতে হবে

চামচিকারা ঘন্টায় কয়েকশত পোকামাকড় খেয়ে ফেলে। তাই বারান্দায় চামচিকার ব্যাট হাউস বানালে মশা তাড়ানো খুব সহজ হবে।

৭। কেরোসিন তেল স্প্রে

কেরোসিন তেল একটি বোতলে ভরে নিয়ে স্প্রে করতে হবে। ভালো মতো ঝাকিয়ে নিয়ে স্প্রে করে দিলে খুব উপকার পাওয়া যায়।

৮। কালো, নীল, লাল কাপড় থেকে দূরে থাকুন

মশাদের লখুব পছন্দের রং নীল, লাল ও কালো। এসব রং ঘরে এড়িয়ে চললে মশা থেকে দূরে থাকা যায়।

১৯। নিমের তেল, কর্পূর ও তেজপাতা দিয়ে একটা টোটকা করা যেতে পারে। নিমের তেলের সাথে কর্পূর মিশিয়ে স্প্রে বোতলে ঢেলে নিয়ে তেজপাতার উপর স্প্রে করতে হবে। তেজপাতাটা পুড়িয়ে নিতে হবে। এভাবে মশা দূর করা যায়।

২০। নারকেলের আশা পোড়ানো

নারকেলের আশ শুকিয়ে টুকরা করে নিতে হবে। একটি কাঠের পাত্রে জ্বলন্ত ম্যাচ দিয়ে আগুন জ্বালালে মশা দূর করা যায়।

সর্বোপরি একটা কথা আমাদের বাড়ির আশে পাশে কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না। পানি জমলে সেখানেই মশা জন্ম নেয়।

আরো পড়ুনঃ

মুখের দূর্গন্ধ দূর করার ঘরোয়া উপায়

ডেঙ্গু জ্বরের কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার

বর্ষাকালে পোকামাকড়ের উপদ্রব থেকে বাচতে করণীয়।

ফ্রিজে খাবার রাখার সময় যেসব বিষয় মানতে হবে

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
error: Content is protected !!

Adblock Detected

Please turn off your Adblocker.