খাদ্য ও স্বাস্থ্যকথাখাদ্য টিপস

মেদ ঝরাবে ব্ল্যাক কফি

মেদ ঝরাতে ব্ল্যাক কফি

করোনা মহামারি এখন প্রকট আকার ধারণ করেছে। সম্পূর্ণ পৃথিবী যেন এক জায়গাতেই দাঁড়িয়ে আছে। আমরা সবাই ঘরবন্দি হয়ে আছি। কেউ ইচ্ছা করলেই কোথাও যেতে পারছি না। আবার চাকুরীজীবীরাও বাসায় বসে অফিসের কাজ করছে। ফলে সবাই একটানা বাসায় বসে থাকতে থাকতে শরীরে মেদ জমে যাচ্ছে।

শরীরের এই অতিরিক্ত মেদ ঝরাতে সবাই আবার চিন্তাতে পড়ে যাচ্ছে। ফলে স্ট্রেসে পড়ছে মানুষ। তাই কোন ধরনের ব্যায়াম ও ডায়েট কন্ট্রোল ছাড়াই খুব সহজে শরীরের মেদ ঝরাতে পারবে।

আমরা সকালে উঠে অনেকেই চা বা কফি খেয়ে থাকি। আবার অনেকে দিনেও বার বার চা কফি খেয়ে থাকে। কফি খেলে মানুষের ওজন কমতে পারে। তবে দুধ ও চিনি মেশানো কফি খেলে ওজন কমার কোন সম্ভাবনা নেই।

তাই সঠিকভাবে দুধ ও চিনি ছাড়া ব্ল্যাক কফি খেলে খুব দ্রুতই ওজন কমানো যায়। মোট কথা আমাদের শরীরের ফ্যাট রিমুভ করতে পারবো খুব সহজেই।

পৃথিবীর অন্যতম সেরা অ্যান্টিওক্সিডেন্ট হচ্ছে কফি। কফি আমাদের ত্বক উজ্জ্বল করে। ত্বক ভালো রাখে। আবার অ্যাজমা, ক্যান্সার, হার্ট সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। এসব বিষয় মাথায় রেখে প্রতিদিন এক কাপ করে কফি খেলে আমাদের শরীর সুস্থ থাকবে।

মেদ ঝরাতে এই কফি কিভাবে বানাতে হবে –

উপকরণ-

  • পানি- ১/২ কাপ
  • কফি- ১ চা চামচ
  • জায়ফল গুড়া- ১ চা চামচ
  • কোকো পাউডার- ১ চা চামচ
  • দারুচিনি গুড়া- ১ চা চামচ
  • নারকেল তেল- ১ চা চামচ

প্রস্তুত প্রণালী-

প্রথমে পানি ফুটিয়ে কফি মেশাতে হবে। এরপর এতে জায়ফল গুড়ো, কোকো পাউডার, দারুচিনি গুড়া মেশাতে হবে। তারপর ভালো করে ব্লেন্ড করতে হবে। শেষে ১ চা চামচ নারকেল তেল দিতে হবে। তাহলেই তৈরী ব্ল্যাক কফি। এই ব্ল্যাক কফি দৈনিক ব্যায়াম করার আগে বা হাটার আগে খেতে পারেন।

এই কফিতে থাকা জায়ফল ফাইবারের খুব ভালো উৎস। এটি খেলে ক্ষুধা কমে যায়। ফলে আমাদের ওজন কমে যায়।

দারুচিনি ফ্যাট কমানোর জন্য যে হরমোন দায়ী সেই হরমোনের পরিমাণ বাড়ায় ও আমাদের মেটাবলিজমের হার বাড়ায়।

নারকেল তেলে মিডিয়াম চেন ফ্যাটি এসিড রয়েছে ফলে আমাদের মেদ কমিয়ে এনার্জি বাড়াতে সাহায্য করে।

আমরা যদি একটানা ১২ সপ্তাহ এই ব্ল্যাক কফি খায় তাহলে আমাদের বিএমআই কমে যায়। কোলেস্টেরলের পরিমাণ বাড়ে। ভুড়ি কমে। যেকোন ধরনের ভাইরাল অসুখ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এই কফি।

এক কাপ কফিতে ক্যালরির পরিমাণ ২। ডিক্যাফেইনেটেড বীজ থেকে কফি বানানো হলে তাতে ক্যালরি থাকে না বললেই চলে। ব্ল্যাক কফিতে ক্লোরোজেনিক এসিড থাকে যা ওজন কমাতে সাহায্য করে। রাতের খাবারের পর এক কাপ কফি খেলে আমাদের শরীরে নতুন ফ্যাট তৈরী হয় না।

এছাড়াও ব্ল্যাক কফিতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা দ্রুত ওজন কমায়। ব্ল্যাক কফিতে থাকা ক্যাফিন দ্রুতই বিপাকের কার্যকলাপ বাড়ায়। ফলে আমাদের শরীরে শক্তি জোগান দেয়। ফলে ক্ষুধা কম লাগে।

ব্ল্যাক কফিতে যদি সামান্য মধু ও লেবুর রস যোগ করা যায় তাহলে তা যেমন স্বাদ বৃদ্ধি করে তেমনি ওজন ও নিয়ন্ত্রণে রাখে। মধু ও লেবু ওজন নিয়ন্ত্রণ করে সাথে ব্ল্যাক কফি। ওজন কমতে বাধ্য।

সকালে খালি পেটে ব্ল্যাক কফি না খাওয়াই ভালো। লেবু মধু মিশিয়ে ব্ল্যাক কফি খাওয়ার আদর্শ সময় হচ্ছে সন্ধ্যা। আবার রাতের খাবারের পর ও খাওয়া যেতে পারে ব্ল্যাক কফি লেবু ও মধু মিশিয়ে। এতে খুব ভালো হজম হয়। ফলে রাতে ঘুম না আসার কোণ কারণ নেই।

মূলত দিনে কমপক্ষে তিন কাপ বা ৭২০ মিঃলিঃ কফি খেতে হবে। হালকা রোস্টেড কফি বিন গুড়ো করে পানিতে মিশিয়ে খেতে পারেন। এতে দুধ, চিনি কিছুই মেশানো যাবে না। কফি খাওয়ার পাশাপাশি ১৫০০ ক্যালরি খাবার খেতে হবে। তাহলে আর ব্যায়াম করার দরকার হবে না। এমনিতেই ওজন থাকবে নিয়ন্ত্রণে।

১৫০০ ক্যালরি খাবার খেলে ক্ষুধা পায় না। তারপর ও যদি ক্ষুধা পায় তাহলে কফি খেয়ে নিতে পারেন। আমাদের সবসময়ের খাদ্য তালিকায় সবুজ শাকসবজি ও ফলমূল রাখতে হবে। এতে প্রচুর ফাইবার থাকায় ক্ষুধা লাগে না। আর এসব খাবারে ক্যালরি কম কিন্তু পুষ্টি বেশি। ফলে ওজন বাড়তে পারে না।

খাবার খাওয়া আগে কফি খেলে আমাদের পেট দ্রুত ভরে যায়। ফলে খাবার কম খাওয়া যায়। ব্যায়ামের আগে কফি খেলে দ্বিগুণ এনার্জি পাওয়া যায়। ক্যালোরি ও ফ্যাট ঝরে যায়। ব্যায়ামের পর কফি খেলে আরো ওজন কমে।

অনেকের আবার চা কফি খেলে মাথা ব্যথা, উচ্চ রক্তচাপ কমে। তাই কফি খাওয়া যেতেই পারে।

আরো পড়ুনঃ

Related Articles

Back to top button
error: Content is protected !!

Adblock Detected

Please turn off your Adblocker.