খাদ্য ও স্বাস্থ্যকথাস্বাস্থ্য টিপস

যখন তখন ঘুম আসার কারণ

সারাদিন ঘুম আসার কারণ

বর্তমানে সবাই অনেক বেশি ব্যস্ত থাকে। কাজের চাপে অনেক ভোরে ঘুম থেকে উঠে আবার অফিসে নানা কাজে ব্যস্ত থাকে। খাবার বানানো, খাবার খাওয়া সহ একটা দিনে কতশত কাজ থাকে।

রাতে কিছুটা ঘুমালেও সারাদিনের কর্ম ব্যস্ততার ফলে সকালে আবার ক্লান্তি চলে আসে। অফিসে গেলে যেন রাজ্যের ঘুম চলে আসে। তখন চা, কফি খেয়ে, হাটাহাটি করে, চোখে পানি দিয়ে বা ডেস্কে মাথা গুজে অল্প একটি ঘুমিয়ে ঘুম তাড়াতে হয়।

আবার যারা বাসায় থাকেন তারা বাসায় বিভিন্ন কাজের ব্যস্ততায় থাকে , দুপুরের খাবার খাওয়ার সাথে সাথেই ঘুমে চোখ ঢুলু ঢুলু করে। তবে একবার বিছানায় যেয়ে শুলেই আর ঘুম ভাঙ্গতে চায় না। দীর্ঘ সময় ধরে এই ঘুম চলতেই থাকে।

আবার মাঝে মাঝে বাসা থেকে বের হলে বাসে, ট্রামে উঠলেই ঘুম চলে আসে। এই ঘুম কাপের পর কাপ চা খেলেও যেন যেতেই চায় না। তখন হয় বিশাল এক জ্বালা।

চলুন দেখে নিই কেন এভাবে আমাদের সারাদিন এতো ঘুম পায়-

১। ঘুমের সময় ঠিক না থাকা-

বর্তমানে ব্যস্ততার জন্য প্রায় মানুষেরই সঠিক ঘুম হয় না। এই কারণটি সবসময় ঘুম পাওয়ার অন্যতম একটি কারণ। এছাড়া সঠিক সময়ে না ঘুমানো ও ঘুম আসার অন্যতম কারণ। তাই ঘুমের সময় ঠিক রাখা অর্থাৎ সঠিক সময়ে ঘুমানো ও সঠিক সময়ে ঘুম থেকে উঠা খুব বেশি জরুরি। পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমালে দিনের সব কাজ সঠিকভাবে করা যায় ও দিনটি গতিশীল হয়।

২। স্লিপ অ্যাপনিয়া-

ঠিকঠাক মতো ঘুমের পরেও যারা ক্লান্ত থাকে তাদের স্লিপ অ্যাপনিয়া হতে পারে। এই অসুখে প্রবল নাক ডাকার সাথে সাথে শ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ঘুম ভেঙ্গে যায়। কম ঘুমের কারণে দিনভর ক্লান্ত থাকে। ফলে দিনে বার বার ঘুম আসে।

৩। অসুস্থতার কারণে-

বর্তমানে অনেক মানুষই বিভিন্ন ধরনের অসুখে ভোগে। এসব অসুখের কারণে শরীর ক্লান্ত থাকে ও অতিরিক্ত ঘুম পেতে থাকে। মূলত এই অসুখ গুলো মানুষের শরীরকে খারাপ করে দেয়। ফলে ঘুম আসতে চায় না আবার বিভিন্ন সময়ে এলোমেলো ঘুম পায়।

৪। ভারী খাবার-

ভারী খাবার খাওয়ার কারণে ঘুম ঘুম আসতে পারে। ভারী খাবার হজম হতে অনেকটা সময় লেগে যায় আবার কোন কোন খাবার হজম হতে অনেক বেশি সময় লেগে যায়। তেল মশলাযুক্ত খাবার, হাই- প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার হজম হতে অনেক বেশি সময় লাগে। আবার খাবারে যদি কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ বেশি থাকে তাহলে ঘুম পায় বেশি। তবে খালি পেটেও ঘুম আসতে চায় না। তাই পরিমাণ মতো খাবার খাওয়া উচিত।

ঘুম না হওয়ার কারণ

। অবসাদ-

নানা কারণে শরীর অবসাদ হতে পারে। হয়তো তা কোন মানসিক আঘাত বা টাকা পয়সার চিন্তায় শরীরে অবসাদ আসতে পারে। শুধু যে শরীর খারাপ থাকলেই বেশি ঘুম পায় তা না মানসিক আঘাতেও বেশি ঘুম পেতে পারে। অনেক ধরনের সমস্যার সমাধান হিসাবেই মানুষ ঘুমকে বেছে নেয়।

৬। মদ্যপান-

বর্তমানে আমাদের চেতনাকে বশ করছে মদ্যপান। মদ্যপানের ফলে খুব বেশি ঘুম পায়। অ্যালকোহল গ্রহণ করার ফলে ঘুম কখনোই রাতে শেষ হয় না। ফলে ক্লান্তিতে দিনেও ঘুম পায় খুব।

৭। শরীরের ধরন-

আয়ুর্বেদ অনুযায়ী শরীরের তিন প্রকার দোষ থাকে যেমন- বাতা, পিত্ত ও কফ। বাতা মানে যাদের শরীরে গ্যাসের পরিমাণ বেশি। পিত্ত মানে যাদের শরীর খুব বেশি গরম থাকে। কফ মানে যাদের শরীরে পানির পরিমাণ বেশি। এর মাঝে যাদের শরীরে পানির পরিমাণ বেশি তাদের মাঝে সব সময়ই ক্লান্তিবোধ কাজ করে।

৮। ওবেসিটি-

ওবেসিটি থাকলে বা শরীরে মেদ জমা হলে সারাদিন খুব বেশি ঘুম পায়।

৯। ডায়েট স্বাস্থ্যকর নয়-

স্বাস্থ্যকর ডায়েট মানে আপনি খাদ্য উপাদানের সব পর্যায় থেকে খাদ্য গ্রহণ করছেন। সালাদ ও সিদ্ধ খাবারের প্রতি জোর না দেওয়া হলে ডায়েট স্বাস্থ্যকর হবে না। ভালো ঘুম না হওয়ার পেছনে একটি বড় কারণ হচ্ছে শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের অভাব। শরীরের জন্য কার্বোহাইড্রেট, ভিটামিন, খনিজ লবণ এর পরিমাণ সঠিক থাকা খুবই জরুরী। সঠিক খাবার খেলে ও সঠিক সময়ে খাবার খেলে ঘুমের কোন সমস্যা হয় না। বরঙ খুব ভালো ঘুম হয়।

১০। অতিরিক্ত রিফাইনড ফুড খাওয়া-

রিফাইন্ড ফুড বেশি খেলে শরীরে ক্লান্তি আসে। রিফাইনড ফুডে অতিরিক্ত চিনি থাকে ও এটি শরীরে অনেক শক্তি যোগায়। তবে এই শক্তি খুব বেশি স্থায়ী হয় না। ফলে ক্লান্তিবোধ কাজ করে বেশি।

১২। খাবার এড়ানো-

খাবার এড়িয়ে চললে ও অনাহারে থাকলে সবসময় নিদ্রাহীন মনে হতে থাকে। ক্ষুধা শরীরকে শিথিল হতে দেয় না ও হরমোনগুলো বিরক্ত প্রকাশ করে। ফলে ঘুম খুব খারাপ হয়।

৩। পেশী ক্লান্ত-

যারা প্রতিদিন ব্যায়াম করে না অর্থাৎ যাদের জীবনধারা সক্রিয় না তারা খুব বেশি ক্লান্ত হয়ে উঠে। আবার অতিরিক্ত ব্যায়াম করলেও পেশীতে খুব বেশি চাপ পড়ে। ফলে আমাদের শরীর অনেক ক্লান্ত ও দূর্বল হয়ে পড়ে। ফলে সবসময় ঘুম আসতে থাকে।

১৪। শরীর হাইড্রেট হচ্ছে না-

শরীর হাইড্রেট থাকলে দেহের শক্তির স্তর বজায় থাকে। সামান্য ডিহাইড্রেশন শক্তির স্তর হ্রাস করে দেয়। ফলে স্বাস্থ্যের উপর চাপ পড়ে। ঘুম ভালো হয় না।

১৫। মানসিক চাপ-

মানসিক চাপ মানসিক অবসন্নতা ডেকে আনে। ফলে শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে। স্ট্রেসের ফলে ঘুম কম হয়। যা পরে আবার ঘুম এনে দেয়।

আরো পড়ুনঃ

হেচকি উঠা বন্ধের উপায়

পিঠের ব্যথা কমাতে করণীয়

সকালের নাস্তায় কি খাবেন আর কি খাবেন না?

নানা রোগে উপকারী হলুদ ও তুলসী পাতার জুস

অল্প বয়সে কেন হার্ট অ্যাটাক হচ্ছে?

রান্নায় তেল বেশি হয়ে গেলে কি করবেন?

আর্দশ হাটার উপকারিতা

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
error: Content is protected !!

Adblock Detected

Please turn off your Adblocker.