অন্যান্যরোগতত্ত্ব

রক্তের উচ্চচাপ ও খাদ্যব্যবস্থা

রক্তের উচ্চচাপের খাদ্যব্যবস্থা

রক্ত প্রবাহের সময় রক্তবাহীনালীর উপর যে চাপ সৃষ্টি হয় তাকে রক্তের চাপ বলে। হৃদপিন্ডে সংকোচনের সময় যে চাপ সৃষ্টি হয় তাকে সিস্টোলিক চাপ ও প্রসারণের সময় যে চাপ সৃষ্টি হয় তাকে ডায়াস্টলিক চাপ বলে। সাধারণত প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থব্যক্তির সিস্টোলিক চাপ ১২০-১৪০ ও ডায়াস্টলিক চাপ ৭০-৯০ এর মাঝে থাকতে দেখা যায়। এর চাইতে বেশী হলে রক্তের উচ্চচাপ হয়েছে বলে মনে করা হয়।

কারণঃ এর রোগের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা যায় না। হৃদরোগের সাথে অনেক সময়ই জড়িত দেখা যায়। আবার গর্ভাবস্থায় ও গলগন্ড রোগে প্রায়ই রক্তের উচ্চচাপ পরিলক্ষিত হয়। বয়স বাড়লে, দেহ স্থুল হলে অথবা বংশের ধারার কারণেও রক্তের উচ্চচাপ হতে পারে। যাদের বেশি লবণযুক্ত খাদ্য খাওয়ার অভ্যাস আছে, তাদের মধ্যে প্রায়ই রক্তের উচ্চচাপ দেখা যায়।

খাদ্যব্যবস্থাঃ যাদের রক্তের উচ্চচাপ রয়েছে, তাদের খাদ্যে সোডিয়ামের পরিমাণ কমিয়ে দিলে সুফল পাওয়া যায়। উচ্চচাপের ব্যক্তির যদি ওজনাধিক্য থাকে তবে কম ক্যালরিযুক্ত খাদ্য গ্রহণ করে ওজন কমিয়ে ফেলতে হবে। কারণ স্থূলব্যক্তির ব্যক্তির সমস্ত দেহে রক্ত সঞ্চালন করতে হৃতপিন্ডকে অধিক পরিশ্রম করতে হয়। ওজন কিছুটা কমে এলে হৃতপিন্ডের কাজ সহজসাধ্য হয়ে আসে। এদের খাদ্যে ক্যালরি ও সোডিয়াম দুই ই কম থাকা বাঞ্চনীয়। প্রোটিনের পরিমাণ ও যেন বেশী না থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন। তবে কিডনি সম্পূর্ণ সুস্থ থাকলে প্রোটিনের পরিমাণ কমানোর দরকার হয় না। রক্তের উচ্চচাপের সাথে কিডনির রোগ জড়িত থাকলে প্রোটিন ও সোডিয়াম উভয়ের পরিমাণই খুব কমিয়ে ফেলতে হয়। এরূপ অবস্থায় শুধু ভাতের উপর ভিত্তি করে খাদ্য পরিকল্পনা করা হয়েছে এবং এর সুফল ও পাওয়া গেছে। প্রায় ৭ ছটাক বা ৪০০ গ্রাম চালের ভাত শুধুমাত্র শাকসবজি ও নিরামিষ তরকারি দিয়ে লবণ ছাড়া রান্না করে সকালে,দুপুরে ও রাতে খেতে দেওয়া যায়। এর সাথে ফল, ফলের রস ও শরবত খাওয়ানো দরকার। এরূপ খাদ্যের মান কিলোক্যালরি ২০০০, প্রোটিন ২৫-৩০ গ্রাম, চর্বি ৪-৬ গ্রাম ও সোডিয়াম ৯০০-৯৫০ মিলি গ্রাম হয়। এর সাথে পানীয় গ্রহণ করতে হবে প্রায় ১ লিটারের মত এবং লোহা ও ভিটামিন যুক্ত খাবার ও খাওয়ানো দরকার।

এরকম খাদ্য বেশিদিন খেতে থাকলে দেহে অপুষ্টি দেখা দেবে। কেবলমাত্র বিশেষ প্রয়োজনের সময় কিছুদিনের জন্য এরুপ খাদ্য দেওয়া যেতে পারে। রোগের প্রকোপ কমে এলে যথাসমভব শীঘ্রই সুষম খাদ্য দিতে হবে। ১৯৫৮ সালে আমেরিকায় “ওয়াকার ও অন্যান্যরা” কম সোডিয়ামযুক্ত এমন খাদ্য পরিকল্পনা করেন যার প্রধান উৎস ছিল কলা।কলায় সোডিয়াম কম থাকায় এ ধরনের খাদ্য দ্বারা কম সোডিয়াম ও প্রয়োজনীয় ক্যালরি সরবরাহ করা যায়।

রক্তের উচ্চচাপে যেসকল খাদ্য পরিহার করা উচিত সেগুলো হচ্ছে বেশী মশলাযুক্ত খাদ্য এবং উত্তেজক পানীয় যেমন চা, কফি, মদ, বিয়ার ইত্যাদি।

আরো পড়ুনঃ

হেপাটাইটিসের খাদ্যব্যবস্থা

বদহজম ও খাদ্যব্যবস্থা

এলার্জি দূর করার উপায়

গ্যাস্ট্রিক বা গ্যাসট্রাইটিস রোগের উপশম

Related Articles

Back to top button
error: Content is protected !!

Adblock Detected

Please turn off your Adblocker.