গৃহসজ্জালাইফস্টাইল

রান্নাঘর কিভাবে জীবাণুমুক্ত রাখবেন?

রান্নাঘর কিভাবে পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত রাখা যায়?

আমরা সবসময় নিজেদেরকে পরিষ্কার রাখি কিন্তু কখনো আমাদের ঘরবাড়ি পরিষ্কার রাখার কথা ভাবিনা। প্রতিদিনের খাওয়ার সুরক্ষার কথা ভেবে আমাদেরকে জীবাণুনাশের মতো একটি ভালো কাজ করা উচিত। আমাদের বাসায় মাংস জাতীয় খাবার আনলে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস আসতে পারে তাই আমাদের রান্নাঘর জীবাণুমুক্ত ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

চলুন দেখে নিই রান্নাঘর কিভাবে পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত রাখা যায়?

১। রান্নাঘর শুকনা রাখাঃ

রান্নাঘর সর্বদা শুকনা রাখতে হবে। রান্নাঘর পরিষ্কার করার পরপরই ব্যবহার করা যাবে না। পানি দিয়ে পরিষ্কার করার পর শুকানোর জন্য সময় দিতে হবে। যদি হাতে সময় না থাকে তাহলে শুকনা তোয়ালে দিয়ে মুছে নিতে হবে। তোয়ালেটি অবশ্যই জীবাণুমুক্ত হতে হবে।

। রান্নাঘর সাবান ও পানি দিয়ে পরিষ্কারঃ

বর্তমান সময়ে রান্নাঘর জীবাণুমুক্ত রাখার জন্য সাবান ও পানির ব্যবহার সবচেয়ে উত্তম। প্রতিদিন রান্নার করার পরে রাতে ও সকালে রান্না করার আগে সাবান পানি দিয়ে পরিষ্কার করে নিতে হবে।

৩। জীবাণুনাশকের ব্যবহারঃ

সাবান পানি দিয়ে রান্নাঘর পরিষ্কার করার পরও রান্নাঘর শতভাগ জীবাণুমুক্ত রাখতে ব্লিচ বা হাইড্রোজেন পারক্সাইড দিয়ে রান্নাঘর ধোয়া যেতে পারে। এসব পণ্যে ৭০ শতাংশ অ্যালকোহল দ্রবণ থাকে ফলে আমাদের রান্নাঘর জীবাণুমুক্ত থাকে।

রান্নাঘরে সবসময় জানালা খোলা রাখতে হবে। যাতে রান্নাঘরে বায়ু চলাচল করতে পারে খুব সহজেই। প্রতিটি জানালা দিয়ে বায়ুচলাচলের সময় ১০-৩০ মিনিট হওয়া উচিত যাতে রান্নাঘরের ব্যাকটেরিয়াগুলো সরানো যেতে পারে। শীতকালে রান্নাঘরে যেন ভালোভাবে বায়ু চলাচল করতে পারে সেদিকে বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে।

রান্নাঘরের আর্বজনা সময়মতো বাইরে ফেলে দিতে হবে। রান্নাঘরের ময়লা ক্ষয় করা খুব সহজ। তাই সময়মতো এগুলো নিষ্পত্তি করা উচিত। রান্নাঘরের আবর্জনা যতটা সম্ভব দ্রুতই পরিষ্কার করা উচিত।

৪। খাদ্য মজুদঃ

রেফ্রিজারেটরে কাঁচা খাবার ও রান্না করা খাবার সবসময় পৃথকভাবে রাখা উচিত। খাদ্য ব্যাকটেরিয়া থেকে মুক্ত রাখতে ও ক্রস-টেস্টিং থেকে মুক্ত রাখতে রেফ্রিজারেটর দূষণমুক্ত রাখা উচিত। দীর্ঘ সময়ের জন্য কাঁচা খাবার তাজা রাখার জন্য ফ্রিজিং বগি ব্যবহার করা উচিত।

৫। ডিশ ওয়াশ ব্যবহারঃ

রান্নাঘরের বাসনকোসন ও জিনিসপত্র ব্যবহারে ডিশ ওয়াশ ব্যবহার করা উচিত। এটি রান্নাঘরের জিনিসকে জীবাণূমুক্ত রাখতে সাহায্য করে। বাসন কোসন ধোয়ার পরে অবশ্যই শুকিয়ে রাখতে হবে।

৬। কে ইপি ফ্রিজ পরিষ্কারঃ

রেফ্রিজারেটর পরিষ্কার করার পাশাপাশি নিয়মিত ফ্রিজ ও পরিষ্কার করা উচিত। ফ্রিজ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি ফ্রিজে সঞ্চিত খাদ্যদ্রব্য ও পরিষ্কার রাখতে হবে। রেফ্রিজারেটরে সক্রিয় কার্বন গন্ধ শোষণকারী ব্যবহার করা যেতে পারে।

৭। রান্নাঘরের সরবরাহ পরিষ্কারঃ

একটি পাত্রে চপস্টিক দিয়ে সিদ্ধ করে নিতে হবে। ১৫-২০ মিনিট চপস্টিক ফুটিয়ে নিতে হবে। তারপর এতে কিচেন আইটেমগুলো দিয়ে পরিষ্কার করে নিতে হবে।

৮। চুলা পরিষ্কারঃ

গ্যাসের চুলা সংক্রমণের প্রজনন ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে। তাই রান্নার পরে পানির সাথে সাবান বা ডিটারজেন্টের গুড়া দিয়ে চুলা পরিষ্কার করে নেওয়া উচিত।

৯। অন্যান্য স্থান পরিষ্কারঃ

রান্নাঘর কাউন্টার ও স্ল্যাব যেখানে শাকসবজি ও ফলমূল কাটা হয় এবং অন্যান্য কাজ যেমন ধোয়ামোছা করা হয় সেখানে জীবাণুমুক্তকরণ ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুয়ে নেওয়া উচিত।

০। রান্নাঘরের সরঞ্জাম পরিষ্কারঃ

ব্লেন্ডার, মিক্সার, রেফ্রিজারেটর, ওভেন, গ্রিলার, টোস্টার, মাইক্রোওয়েভ সবকিছু ভালোমতো জীবাণুমুক্তকরণ করা উচিত। নাহলে এগুলো থেকেও জীবাণু ছড়াতে পারে।

১১। খাদ্যদ্রব্যে যথাসম্ভব স্যানিটেশন করা উচিত।

আরো পড়ুনঃ প্রেসার কুকারে রান্না করার সময় সতর্কতা এবং যেসব খাবার প্রেসার কুকারে রান্না করা উচিত নয়

যেসব খাবার ফ্রিজে রাখা উচিত নয়

চিনি থেকে কিভাবে পিপড়া তাড়াবেন?

ঘর গুছিয়ে রাখার টিপস

টবে সবজি চাষ করার কিছু টিপস

facebook sharing button
messenger sharing button
whatsapp sharing button
twitter sharing button

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
error: Content is protected !!

Adblock Detected

Please turn off your Adblocker.