চুলের যত্নরূপচর্চা

রিবন্ডিং করা চুলের যত্ন

রিবন্ডিং করা চুলের যত্ন

হাল ফ্যাশানের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে অনেকেই চুল রিবন্ডিং করছে। সুন্দর, ঝলমলে ও প্রাণবন্ত চুল পেতে সবাই চায়। ফলে সুন্দর চুল পাওয়ার জন্য অনেকেই পার্লারে ভিড় জমাচ্ছে। আবার অনেকের নিজেদের কোকড়া চুল পছন্দ না তাই নিজের চুল সোজা করতে চায়। ফলে চুল রিবন্ডিং করে।

চুল রিবন্ডিং করলে ছয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত চুল সোজা থাকে। চুল রিবন্ডিং করলে চুল দেখতে সবসময় গোছানো লাগে। কিন্তু এই সুন্দর রিবন্ডিং করা চুলের যত্ন নিতে হবে একটু বাড়তিই। রিবন্ডিং করা চুল যত্ন না করলে খুব সহজেই খারাপ হয়ে যায়। চুলের আগা ফেটে যায়, চুল ভেঙ্গে যায়, চুল রুক্ষ হয়ে যায়। ফলে এই সুন্দর রিবন্ডিং করা চুলকে সুন্দর করে ধরে রাখতে হলে সঠিক যত্নের প্রয়োজন রয়েছে।

চলুন দেখে নিই কিভাবে রিবন্ডিং করা চুলের যত্ন করতে হবে-

১। চুল রিবন্ডিং করানোর দুই থেকে তিন দিন পর্যন্ত কোন প্রকার ভেজানো যাবে না। কোন ধরনের শ্যাম্পু বা প্যাক ব্যবহার করা যাবে না। এগুলো এসময়ে চুলের জন্য ক্ষতিকর।

২। চুল রিবন্ডিং করানোর তিন দিন পরে হেরায় ট্রিটমেন্ট করাতে হবে। তারপর প্রতি মাসে একবার করে হেয়ার ট্রিটমেন্ট করাতে হবে। তাহলে চুল ভেঙ্গে যাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।

৩। রিবন্ডিং করা চুলের জন্য হালকা শ্যাম্পু ব্যবহার করা ভালো। রিবন্ডেড চুলের জন্য উন্নতমানের শ্যাম্পু পাওয়া যায়। সেসব শ্যাম্পু ব্যবহার করা উচিত।

৪। শ্যাম্পু করার পর অবশ্যই কন্ডিশনার ব্যবহার করতে হবে। রিবন্ডেড চুলের জন্য যে কন্ডিশনার ভালো হবে সেই কন্ডিশনার ব্যবহার করতে হবে।

৫। রিবন্ডিং করা চুলের জন্য হেয়ার ওয়েল ম্যাসাজ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সপ্তাহে তিন দিন শ্যাম্পু করার আগে হেয়ার অয়েল ম্যাসাজ করতে হবে। তাহলে চুলের স্বাস্থ্য ভালো থাকবে।

রিবন্ডেড চুল

৬। গোসলের আগে গরম পানিতে তোয়ালে চুবিয়ে আধা ঘণ্টা পেচিয়ে রাখতে হবে। তারপর শ্যাম্পু করলে রক্ত সঞ্চালন ভালো হয়। চুলের রুক্ষ ভাব দূর হয়ে যায়। তবে ভেজা তোয়ালে খুব বেশি সময় পেচানো যাবে না। তাহলে চুলের গোড়া নরম হয়ে যাবে।

৭। নিয়মিত হেয়ার সিরাম ব্যবহার করা উচিত। তাহলে চুল ভাঙ্গা রোধ করা সম্ভব।

৮। চুলের উজ্জ্বলতা বাড়াতে ও চুল মসৃণ করতে শ্যাম্পু করার পর এক মগ পানিতে কয়েক ফোটা ভিনেগার বা এক চামচ মধু মিশিয়ে সেই পানি দিয়ে চুল ধুতে হবে।

৯। চুল সোজা ও মসৃণ রাখতে হলে রিবন্ডিং করার কমপক্ষে এক মাস চুল বাধা যাবে না। তাহলে চুল দূর্বল হয়ে পড়ে। চুলের অনেক ক্ষতি হয়। তাই চুল বাধা থেকে বিরত থাকতে হবে।

১০। চুল আচড়ানোর সময় মোটা দাঁতের চিরুনী ব্যবহার করা ভালো। তাহলে মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন ভালো হয়। ভেজা চুল কখনোই আচড়ানো যাবে না। ভেজা চুল খুব নরম থাকে তাই তখন আচড়ালে চুল উঠে যায়।

১১। চুলের আগা প্রতিদিন ট্রিম করতে হবে। তাহলে আগা ফাটা কমে গিয়ে চুলের সৌন্দর্য ফিরে আসবে। তাহলে চুল দেখতে খুব ভালো লাগবে।

১২। চুলের আগা কেটে ফেলার পর চুলে প্রোটিন প্যাক, হেয়ার স্পা ও ডিপ কন্ডিশনিং করাতে হবে। একটি ডিম, ক্যাস্টর তেল এক চামচ, লেবুর রস এক চামচ ও এক চামচ মধু একসাথে মিশিয়ে স্ক্যাল্পে দিতে হবে। এক ঘণ্টা পর শ্যাম্পু করতে হবে।

১৩। চুল শুকাতে অনেকেই হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করেন। রিবন্ডিং করা চুলে হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করা যাবে না। এসময় চুলে তাপ প্রয়োগ করা যাবে না।

১৪। ঘর থেকে বাইরে বের হতে হলে হ্যাট বা ছাতা ব্যবহার করা উচিত। সূর্যের অতি বেগুনি আলোকরশ্নি চুলে লাগানো যাবে না।

১৫। চুলে বৃষ্টির পানি লাগলে সাথে সাথেই ধুয়ে ফেলতে হবে। নাহলে বৃষ্টির সাথে মিশে থাকা ধুলা ময়লা চুলের ক্ষতি করতে পারে।

১৬। চুল রিবন্ডিং করা অবস্থায় চুল কালার না করানোই ভালো। অন্ততপক্ষে ছয় মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত।

১৭। খুসকি হলে স্ক্যাল্পে লেবু বা পেয়াজের রস লাগিয়ে কিছু সময় পর ধুয়ে ফেলতে হবে।

১৮। রিবন্ডিং করা চুলে হট শাওয়ার অর্থাৎ গরম পানি চুলে লাগানো যাবে না। তাহলে চুলের ক্ষতি হতে পারে।

১৯। রিবন্ডিং করানোর পর চুলের ভালোর জন্য নিয়মিত ডায়েটে ফল ও সবজি জাতীয় খাদ্য রাখতে হবে।

২০। জাংক ফুড এড়িয়ে চলাই ভালো।

আরো পড়ুনঃ

কিভাবে মুখ, হাত, পা পরিষ্কার রাখবেন

ঘরোয়াভাবে কিভাবে মুখের জেল্লা ফিরিয়ে আনা যায়?

ব্রণ হওয়ার জন্য দায়ী অভ্যাস

তৈলাক্ত ত্বকের উপকারী ফেসপ্যাক

ঘরোয়া উপায়ে হাত ও পায়ের কালো দাগ দূর

টিনএজারদের ত্বকের যত্ন

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
error: Content is protected !!

Adblock Detected

Please turn off your Adblocker.