অন্যান্যরোগতত্ত্ব

রোগা হয়ে যাওয়া বা কৃশতা থেকে পরিত্রাণের উপায় জানুন

মোটা হওয়ার উপায়

কৃশ বা ক্ষীণকায় ব্যক্তির ওজন স্বাভাবিক ওজন অপেক্ষা কম থাকে। তারা সবসময়েই দূর্বল বোধ করেন এবং সহজ জীবনযাত্রা ও আনন্দ থেকে অনেকটাই বঞ্চিত থাকেন। আমরা আজ রোগা হয়ে যাওয়া বা কৃশতা থেকে পরিত্রাণের উপায় খুজবো।

কারণঃ কতকগুলি কারণে দেহের ওজন কমতে থাকে। যেমনঃ

১। দেহের চাহিদার তুলনায় খাদ্যের ক্যালরি কম হলে শরীর কৃশ হতে পারে। এর সাথে যদি শারীরিক পরিশ্রম বৃদ্ধি পায় তবে ক্যালরি চাহিদার বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে দেহের ওজন ক্রমাগত কমতে থাকে।

২। যক্ষ্মা অথবা অন্যান্য ক্ষয়কারী রোগে দেহের ওজন কমতে থাকে।

৩। থাইরয়েড গ্লাণ্ডের নিসৃত রসের আধিক্য ঘটলে ক্যালরির চাহিদা বৃদ্ধি পায় যা দৈনন্দিন সাধারণ খাদ্য দ্বারা পূরণ হয় না। এর ফলে ওজন কমতে থাকে।

৪। খাদ্যের পরিপাকে বিঘ্ন ঘটলে খাদ্য উপাদান গুলি ঠিকমতো শোষিত হতে পারে না। এর ফলে দেহে অশোষিত খাদ্যের ক্যালরি থেকে বঞ্চিত হয় এবং দেহের ওজন কমতে থাকে।

৫। মানসিক ব্যধিতে ভুগতে থাকলে অথবা দুশ্চিন্তগ্রস্ত থাকলে আহারে রুচি চলে যায়। এ অবস্থায় প্রয়োজনমতো খাদ্য গ্রহণ হয় না। এভাবে কিছুদিন গেলে দেহের ওজন কমে যায়।

কৃশ বা ক্ষীণকায় শব্দটি তুলনামূলক অর্থেই ব্যবহার করে থাকি। বয়স ও উচ্চতা অনুসারে ওজন কতটা হওয়া উচিত তার একটি সুনির্দিষ্ট তালিকা আছে। এই আর্দশ ওজন অপেক্ষা ১৫ ভাগ কম হলে তাকে কৃশ বলা হয়। এ অবস্থা হলে সাবধান হওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এছাড়াও বি,এম,আই ১৯ এর কম হলে তাকে কৃশ বলা চলে। ক্ষীণ বা কৃশ ব্যক্তির কাজে উতসাহ থেকে না। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। এদের মধ্যে সংক্রামক রোগের আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। এসব ক্ষীণকায় ব্যক্তি রুক্ষ, দূর্বল ও সৃজনীশক্তিহীন নাগরিকে পরিণত হয়।

কৃশতা
কৃশতা thinness

প্রতিকারঃ ১। চিকিৎসকের সাহায্যে শরীর পরীক্ষা করে যদি কোন রোগ পাওয়া যায় তার চিকিৎসা করতে হবে। পেটের অসুখ, কৃমি, আমাশা অথবা কোন সংক্রামক রোগ থাকলে প্রর্যাপ্ত খাদ্য গ্রহণ করলেও ওজন কমে যেতে থাকে। একাদিক্রমে অতিরিক্ত ক্লান্ত থাকলেও, ওজন কমতে থাকে। এরুপ হলে বিশ্রাম, নিদ্রা বাড়িয়ে রোগীকে স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে আসতে হবে। নাহলে শুধু খাদ্যের পরিমাণ বাড়ালেই ওজন বাড়বে না।

২। দেহ কৃশ বা ক্ষীণ হলে বুঝতে হবে যে তার দৈনন্দিন খাদ্য, দেহের শক্তির চাহিদা পূরণ করতে পারছে না। এর ফলে দেহের মেদ খরচ হয়ে শক্তির চাহিদা পূরণের চেষ্টা চলছে। এ অবস্থায় এ ধরনের খাদ্যাভ্যাস একদিনেই বদলানো যায় না। প্রতিদিন অল্প অল্প করে খাদ্যের পরিবর্তন সাধন করতে হবে। এমন ধরনের খাদ্য দিতে হবে যা আকর্ষণীয়, রুচিকর ও দেহ গঠনকারী। কৃশ ব্যক্তির খাদ্য পরিকল্পনার সময় নিম্নোক্ত বিষয়গুলি সর্ম্পকে অবহিত থাকা প্রয়োজন।

ক্যালরিঃ দেহ গঠনকারী খাদ্য এমন হতে হবে যাতে প্রচুর ক্যালরি থাকে। ক্যালরির পরিমাণ এমন থাকতে হবে যেন দেহের ক্যালরির চাহিদা মিটিয়ে ৫০০-১০০০ ক্যালরি উদ্ধৃত থাকে। এই বাড়তি ক্যালরি তার শরীর গঠনের জন্য প্রয়োজন। প্রথম দিকে এমন করে হঠাত উচ্চক্যালরি মূল্যের খাবার দিলে পরিপাক ক্রিয়ার বিঘ্ন ঘটতে পারে। সেজন্য প্রতিদিন অল্প অল্প করে বাড়তি খাবার দিয়ে পরিপাক যন্ত্রকে অভ্যস্ত করতে হয়। ধীরে ধীরে এর পরিমাণ বাড়াতে হয়। এভাবে কয়েকদিনের মদ্ধ্যেই পরিকল্পনা অনু্যায়ী উচ্চক্যালরি মূল্যের খাদ্যে অভযস্ত করা সম্ভব হবে।

চর্বি ও শর্করাঃ উচ্চক্যালরি মূল্যের খাদ্য প্রস্তুত করতে হলে মূলত চর্বি ও শর্করাজাতীয় খাদ্য নির্বাচনে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। মাখন,ঘি, তেল, সর, তিল,আলু, ভাত, মিষ্টি, ডাল, বাদাম ইত্যাদি যেসমস্ত খাদ্য মোটা ব্যক্তিদের খাওয়া উচিত নয়, সে সমস্ত খাদ্যই কৃশ ব্যক্তিদের বেশী পরিমানে খাওয়ানো দরকার।

প্রোটিনঃ কৃশ ব্যক্তিদের জন্য উচ্চক্যালরি মূল্যের খাদ্য পরিকল্পনার সময় প্রোটিনের পরিমাণও যথেষ্ট পরিমাণে থাকে সে ব্যাপারে লক্ষ্য রাখতে হবে। যদি সাধ্যে কুলায় তা হলে ৯০-১০০ গ্রাম পর্যন্ত প্রোটিন দেওয়া ভালো। ডিম, মাংস, দুধ ও মাছে প্রচুর পরিমাণে ভালো মানের প্রোটিন পাওয়া যায়।

ভিটামিন ও খনিজ লবণঃ উচ্চ ক্যালরি মূল্যের খাদ্যে প্রচুর ভিটামিন ও খনিজ লবনের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। থায়ামিন বা ভিটামিন বি১ রুচি বাড়ায় ও খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে এবং অন্যান্য ভিটামিন গুলো দেহের পুষ্টিকার্যে নানাভাবে সহায়তা করে। খনিজ লবনের সাহায্যে অস্থি মজবুত হয় ও লোহিত কনিকার যথাযথ গঠন হয়।

কৃশতা thinness
কৃশতা thinness

খাদ্যপরিকল্পনাঃ উচ্চক্যালরি মূল্যের খাদ্য পরিকল্পনার সময় আহার্যবস্তু যেন সুস্বাদু ও আকর্ষণীয় হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ক্যালরি বেশী থাকলেও খাদ্যের পরিমাণ এমন হতে হবে যেন রোগী বুঝতে না পারে যে তিনি অনেক বেশী খাচ্ছেন। মখন, সর, মিষ্টি, কেক ইত্যাদি যে সব খাদ্যের আয়তপ্ন ক্যালরি অনুপাতে কম, প্রতি বেলায় মেনু পরিকল্পনার সময় সেসব খাদ্য কিছু কিছু নির্বাচন করতে হবে।

ক্ষীণ ব্যক্তিদের হজমশক্তি সাধারণত ভালো থাকে না একথা মনে রেখে সহজপাচ্য খাদ্যবস্তু নির্বাচন করতে হয়। শর্করাজাতীয় খাদ্য যেমনঃ রুটি, ভাত, আলু, চিনি ইত্যাদি চর্বিজাতীয় খাদ্য অপেক্ষা সহজপাচ্য। চর্বিজাতীয় খাদ্যের মাঝে আবার মাখন, সর, তেল ইত্যাদি ঘি, মাংসের চর্বি ও তেলে ভাজা খাবারের চাইতে বেশী সহজপাচ্য। প্রথম দিকে সহজপাচ্য খাদ্যের পরিমাণ বাড়িয়ে ধীরে ধীরে অন্যান্য ক্যালরিবহুল খাদ্য মেনুতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। মোট কথা এটা মনে রাখতে হবে যে দেহের ক্যালরি খরচের জন্য যে চাহিদা হয় তা মিটিয়ে শরীরে মেদ জমতে পারে এই পরিমাণে ক্যালরি যুক্ত খাদ্য গ্রহণ করা দরকার। এসময় দেহের ক্যালরি খরচের চাহিদা কমাতে হলে পরিশ্রমের কাজ কমিয়ে বিশ্রাম ও ঘুমের সময় বাড়াতে হবে। এসময় ক্যালরির চাহিদা কমে গেলে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ৫০০ কিলোক্যালরি গ্রহণ করা সহজ হবে এবং এতে করে ওজন বাড়তে থাকবে। সপ্তাহে একদিন নিয়মিত ওজন নিলে খাদ্যের প্রভাব বোঝা যায়।

দৈনন্দিন আহার্যের সাথে ৫০০ কিলোক্যালরি যুক্ত অতিরিক্ত খাদ্য যেভাবে নির্বাচন করা হয় তার উদাহরণঃ

খাদ্য পরিমাণ শক্তিমূল্য(কিলোক্যালরি)

দুধ ১ গ্লাস ১৬৭

রুটি ২ স্লাইস ১৮০

মাখন ১ টেবিল চামচ ১০৫

জেলী ১ চা চামচ ৫৫

কেক ২ টুকরা ২৭০

দুধ ১ গ্লাস ১৬৭

ফল ১ টি ৭০

আয়তন বৃদ্ধি না ঘটিয়ে খাদ্য নির্বাচনের সুবিধার জন্য ঘনীভূত ক্যালরিযুক্ত খাদ্যের একটি তালিকা দেওয়া হলোঃ

খাদ্যবস্তু প্রতি ১০০ গ্রামে(কিলোক্যালরি)

পনির ৩৪৮

ছানা ২৬৫

কিশমিস ২৯০

মাখন ৭২৯

ঘি ৮২৮

তেল ৯০০

ডালডা ৯০০

শুকনা নারকেল ৬৬২

খেজুর ৩১৭

ডাল ৩৭২

চীনাবাদাম ৫৬১

আরো পড়ুনঃ

কোন খাবারে প্রোটিন বেশি

অপরিণত বা অকালীয় শিশুর খাদ্য

মস্তিষ্কের জন্য সেরা খাবার

দেখে নিন গরমে কি কি ফল খাবেন

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
error: Content is protected !!

Adblock Detected

Please turn off your Adblocker.